ছবি মুক্তির আগে থেকেই জড়িয়েছে বিতর্কে। কামাখ্যা নারায়ণ সিংয়ের পরিচালনায় 'দ্য কেরালা স্টোরি ২' এর গল্প আবর্তিত হয়েছে তিনটি মেয়ের জীবনের গল্প নিয়ে। সুরেখা,নেহা ও দিব্যা তিন হিন্দু মেয়ের গল্প বলে এই ছবি। প্রথমে সবটা এক ভাবে চললেও গল্প এগোনর সঙ্গে সঙ্গেই তাতে আসে আসল টুইস্ট। ছবিতে দেখা যায়, হিন্দু ঘরের সম্ভবনাময় মেয়েরা প্রেমে পড়ে মুসলিম ছেলেদের। তিন জনেই ভারতের তিন আলাদা রাজ্যে থাকা মেয়ে। ভিন ধর্মের মানুষের সঙ্গে মন বিনিময়ের পর ঘর ছাড়ার মতো বিষয় নতুন না।
এর আগে ছবির টিজার বা ট্রেলারেও এই দৃশ্য ফুটে উঠেছিল। ২ মিনিট ৬ সেকেন্ডের সেই টিজারে তাঁরা তাঁদের জীবনে ঘটে যাওয়া দুর্ঘটনার কথা অকপটে বলছেন। জানাচ্ছেন, বড় একটা লক্ষ্য ছিল। কেউ চেয়েছিল আইএএস অফিসার হতে তো কেউ চেয়েছিল নামী নৃত্যশিল্পী হয়ে সমাজে নিজের পরিচয় গড়ে তুলতে। কেউ আবার বলছেন, হিন্দু থেকে ইসলাম ধর্মাবলম্বী হয়েছিলেন শুধু ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে সুখে ঘরকন্না করবেন বলে। কিন্তু সেই সুখ সহ্য হয়নি। তাদের সিংহভাগই হয়েছে লাভ জেহাদের শিকার। এমনকী টিজারে এই বার্তাও ভেসে এসেছে যে এ দেশকে মুসলিম অধ্যুষিৎ দেশ বানানোর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। ছবিতে এই বিষয় প্রকটভাবে তুলে ধরা হয়েছে। তা এমনভাবেই তুলে ধরা হয়েছে যা বারবার বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করে হিন্দু মেয়ে ও মুসলিম ছেলের সম্পর্ক ও বিয়ে মানেই ধর্মান্তর করার ছলনা। নৃশংসতা আর পায়ের তলায় মেয়েদের পিষে রাখা।
'দ্য কেরালা স্টোরি ২', ছবি: সোশাল মিডিয়া
এই সবকটি বিষয়কেই অতিরঞ্জিত করা হয়েছে ছবিতে। সবথেকে বড় বিষয়। এই ছবি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত বলে জানিয়েছিলেন নির্মাতারা। ছবির একটি পর্যায়ে বেশ কয়েকটি ঘটনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এবার যা বলার তা হল যদি সত্য ঘটনা অবলম্বনেই এই ছবি নির্মিত হয় তাহলে তিনটি মেয়ের গল্প বলার আগে তা কোন জায়গার ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত তা উল্লেখ করার প্রয়োজন ছিল। যাতে দর্শক তার সঙ্গে একাত্ম হতে পারে। কিন্তু তা হয়নি। একই সঙ্গে ঈশ্বরের আপন দেশ কেরালার নামে ছবির নাম হওয়ায় মাঝে মাঝে নাম ও স্থানের একটা দ্বন্দ্ব তো রয়েই যায়। বড্ড বেশি ধর্মীয় উসকানি দেয় 'দ্য কেরালা স্টোরি ২'। যা সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ঘটাতে ঘৃতাহুতি দেয় তা বলাই বাহুল্য।
