মেদ ঝরানো মুখের কথা নয়। ওজন কমাতে হবে, এ গুরুদায়িত্ব মাথায় নিয়ে যারা রোজের খাদ্যতালিকা বানাতে বসেন, তাদের পক্ষে শ্রাবণ মাস এক বড় চ্যালেঞ্জ বটে। অনেকেই এই মাসে প্রাণীজ প্রোটিন এড়িয়ে চলেন। তাছাড়া সাময়িক উপবাস চলে বলে শরীরচর্চাও সব সময় করা যায় না শ্রাবণে।
পুষ্টিবিদরা অবশ্য বলছেন, এতে বাড়তি চিন্তার কোনও কারণ নেই। শ্রাবণে উপবাস পালন করেও মেদ ঝরানোর দিকে খেয়াল রাখা যায়। তাছাড়া নিরামিষ খাবার সঠিক পরিমাণে গ্রহণ করা গেলে, তা থেকেও পর্যাপ্ত পুষ্টি পাওয়া যাবে। শ্রাবণে খাবারের পাতে কোন কোন খাবার (Weight Loss Foods) রাখতেই হবে? জেনে নিন।
১। লাউ
কম ক্যালরিযুক্ত এই সবজিতে প্রচুর পরিমাণে জল থাকে। তাই এটি ওজন কমাতে দারুণ উপকারী। লাউ হজমে সাহায্য করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। লাউ তরকারি, স্যুপ বা জুস হিসেবে খেতে পারেন।
২। শসা
শসা শরীরকে ঠান্ডা রাখে, জলের ঘাটতি পূরণ করে। এবং দীর্ঘক্ষণ খিদে নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। স্যালাড বা সরাসরি খাওয়া যায়। অনেকে আবার শসার শুক্তোও তৈরি করেন।
৩। সাবুদানা
উপবাসের সময় সাবুদানা দ্রুত শক্তি জোগায়, কারণ এতে কার্বোহাইড্রেট বেশি থাকে। তবে পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই ভালো। স্মুদি, চিলা, দোসা, উপমা অথবা টিক্কি বানিয়ে খাওয়া যেতে পারে।
৪। পানিফল
শ্রাবণেই সবচাইতে বেশি ফলন হয় পানিফলের। খেলে পেট ঠান্ডা থাকে। কর্মক্ষমতা পাওয়া যায়।
৫। মাখানা
মাখানায় চর্বি প্রায় নেই বললেই চলে, কিন্তু প্রোটিনে ভরপুর। লিকার চায়ের সঙ্গে স্ন্যাক্স হিসেবে খাওয়া যায়, অনেকে আবার ক্ষীর বা তরকারিও তৈরি করেন মাখানা দিয়ে। সব ছেড়ে সামান্য ঘি ও লবণে ভেজে পপকর্নের মতোও খাওয়া যায়। এটি দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।
৬। টক দই
টক দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি উন্নত করে। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখে, তাই ভরা গরমকালের মতো খাওয়া যায় শ্রাবণেও। নানা ধরনের রায়তা বানিয়ে খাওয়া যায়। জলখাবারে ওটসের সঙ্গে মিশিয়েও খাওয়া যেতে পারে।
৭। ডাবের জল
কম ক্যালরিযুক্ত ও প্রাকৃতিক ইলেকট্রোলাইটে সমৃদ্ধ। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় শরীরকে সতেজ রাখতে খুবই উপকারী।
৮। মিষ্টি আলু
উপবাস চলাকালীন পেট ভর্তি রাখতে ও শরীরে কার্বোহাইড্রেটের ঘাটতি মেটাতে মিষ্টি আলু সেদ্ধ বা বেক করে খাওয়া যায়।
এ সময় পর্যাপ্ত জল পানে গুরুত্ব দিন। অতিরিক্ত ভাজা, তেলযুক্ত ও ভারী খাবার এড়িয়ে চলুন। সঠিক খাদ্যাভ্যাস অনুসরণ করলে ধর্মীয় আচার পালনের পাশাপাশি ওজন নিয়ন্ত্রণও সহজ হতে পারে।
