কালো? তা সে যতই কালো হোক, শরীরের হীতের জন্য অত্যন্ত উপকারী। স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, খাদ্যের জগতে রয়েছে এমন কিছু সুপারফুড (black superfoods), যা অসামান্য পুষ্টিগুণে ভরপুর। অথচ, রঙ কালো অথবা কালচে হওয়ার কারণে অনেক সময়েই মানুষ সেসব এড়িয়ে চলে। ইন্সটাগ্রামের যুগে অবশ্য যা কিছু দেখতে খানিক ভিন্ন, তা ঘিরেই গভীর আগ্রহ মানুষের মনে। আর এই পাঁচ ‘কালো’ সুপারফুড, ইন্সটাগ্রামের পাতা ছাড়িয়ে, গ্রহণযোগ্য করে তোলে ডায়েট চার্টটিকেও। কোন কোন খাবার? কেমনভাবে জোড়া যায় রোজের খাদ্যতালিকায়? জেনে নেওয়া যাক।
ব্ল্যাক রাইস
চালের রঙ ঘন কালো, তবে সিদ্ধ হওয়ার পর হালকা লালচে রঙ ধরে। সাদা চালের তুলনায় আঠালো, গন্ধও অপেক্ষাকৃত তীব্র। এতে রয়েছে বিপুল পরিমাণ অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, ফাইবার ও প্রোটিন। যারা ওজন কমাতে চান, অথচ ভাত না খেলেও মন ভরে না, তারা চেখে দেখতেই পারেন এই সুপারফুড।
ব্ল্যাক রাইস। কালো তিল।
কালো তিল
টক দইয়ের সঙ্গে মিশিয়ে, অথবা বেটে ভর্তা বানিয়ে ভাতের পাতে খাওয়া যায়। স্বাদ সামান্য তিতকুটে, তবে এতে রয়েছে ফ্যাট, প্রোটিন, ক্যালশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম। ফলে কোলেস্টেরোলের মাত্রা কমে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। মজবুত করে হাড়ও।
কালো মাসকলাইয়ের ডাল
রান্নার পর অবশ্য সাধারণ ডালের মতোই দেখতে লাগে। এতে প্রভূত পরিমাণে আয়রন, ফাইবার ও প্রোটিন থাকে। ফলে আমিষ খাবার থেকে যে পুষ্টিগুণ শরীরে পৌঁছাতে পারে, এই ডাল থেকেও পাওয়া যায় তা-ই। ভাতের পাতে এই ডালের সঙ্গে যদি আলুপোস্ত থাকে, যেন মেলে অমৃতের স্বাদ!
কালো রসুন
সাধারণ রসুনকে বিশেষ পদ্ধতিতে দীর্ঘদিন জাড়িত করলে, তার স্বাদ ও রূপ দুইই বদলায়। রসুন এমনিতেই পুষ্টিগুণে ভরপুর। কালো রসুনে ঝাঁঝ কম থাকে, বদলে এক মিষ্টিভাব আসে স্বাদে। এতে অনাক্রম্যতা বাড়ে, হৃদপিন্ডের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। এমনকী রক্তে শর্করার মাত্রাও নিয়ন্ত্রণে আসে।
কালো রসুন। ব্ল্যাকবেরি।
ব্ল্যাকবেরি
সহজেই পাওয়া যাবে, খাওয়াও কোনও ঝক্কির কাজ নয়। রয়েছে ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। ক্যালোরির পরিমাণও একেবারে যতসামান্য। ফলে ব্যায়াম-যোগাসনের পর্ব সেরে জলখাবারের পালা এলে, পাতে রাখাই যায় এই সুস্বাদু সুপারফুড।
প্রত্যেকদিনই যে এই সবরকম সুপারফুড খাদ্যতালিকায় জুড়তে হবে, তেমন নয়। তবে খাদ্যাভ্যাস পালটে, সামগ্রিক শারীরিক উন্নতি চাইলে, সুপারফুডকে বানিয়ে নিয়ে হবে নিত্যদিনের সঙ্গী।
