স্বাদে আর স্বাস্থ্যে কখনওই আপস নয়। এই মন্ত্রেই ইমামির নয়া সফর। পেশাদার রান্নার জগতে পা রাখল ইমামি এগ্রোটেক। দিল্লির প্রগতি ময়দানে আয়োজিত আন্তর্জাতিক খাদ্য মেলা ‘আহার ২০২৬’-এ সামনে এল তাদের নতুন ব্র্যান্ড ‘হেলদি অ্যান্ড টেস্টি - ফর শেফ’।
৩০ হাজার কোটি টাকার ইমামি গোষ্ঠীর এই নতুন উদ্যোগ মূলত বি-টু-বি (B2B) বাজারকে কেন্দ্র করে। বড় হোটেলের পেশাদার হেঁশেল হোক বা জনপ্রিয় কিউএসআর চেন— সর্বত্রই গুণমান এবং ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এক বিরাট চ্যালেঞ্জ। শেফদের সেই কাজ সহজ করতেই এই ‘ফর শেফ’ সম্ভার। ভোজ্য তেলের বিভিন্ন প্রকারভেদের পাশাপাশি এই ব্র্যান্ডের অধীনে মিলবে খাঁটি মশলা, আটা, ময়দা, সুজি, বেসন ও সয়া চাঙ্কস। ছোট প্যাকেটের বদলে এই পণ্যগুলি পাওয়া যাবে বিশেষ বড় প্যাকেটে, যা বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য আদর্শ।
অনুমান করা হচ্ছে, আগামী দু-তিন বছরের মধ্যে হোরিকা (হোটেল, রেস্তোরাঁ ও ক্যাটারিং) এবং ফুড সার্ভিস ক্ষেত্র থেকে অন্তত ২ হাজার কোটি টাকার ব্যবসা ঘরে তোলা যেতে পারে।
সংস্থার ডিরেক্টর জয়ন্ত গোয়েঙ্কা জানান, খুচরো বাজারের বাইরে গিয়ে এবার তাঁদের লক্ষ্য হোরিকা সেক্টরের বিশাল সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো। তাঁর কথায়, “পেশাদার রান্নার দুনিয়ায় শেফদের প্রয়োজন উন্নত মানের কাঁচামাল। আমরা সেই ভরসা দিতেই আসরে নেমেছি।” শুধু চাল-ডাল-তেল নয়, আগামী দিনে সস, কন্ডিমেন্টস এবং রেডি-টু-কুক বা ঝটপট রান্নার উপকরণও আনতে চলেছে ইমামি।
এই বিশাল কর্মযজ্ঞের রাশ সামলাতে অভিজ্ঞতার ওপর ভরসা রেখেছে সংস্থা। ফুড সার্ভিস ও অল্টারনেট চ্যানেলের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সামান্থা দত্ত। প্রায় ২৭ বছরের অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সামান্থার মতে, আধুনিক রান্নাঘরের দক্ষতা বাড়ানোই তাঁদের প্রধান লক্ষ্য। পাশাপাশি কৌশলগত উপদেষ্টা হিসেবে থাকছেন ম্যাকাঁ ফুডস ইন্ডিয়ার প্রাক্তন ম্যানেজিং ডিরেক্টর বিকাশ মিত্তল।
হলদিয়া থেকে কান্ডলা— দেশের চার প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা অত্যাধুনিক কারখানায় প্রতিদিন ১২ হাজার টন পণ্য উৎপাদন করার ক্ষমতা রাখে ইমামি এগ্রোটেক। বর্তমানে বছরে ২০ হাজার কোটি টাকার টার্নওভারের এই সংস্থা এবার ‘ফর শেফ’ ব্র্যান্ডের হাত ধরে দেশের খাদ্য পরিষেবা ক্ষেত্রে নতুন এক মাইলফলক গড়তে চায়। পেশাদার হেঁশেলের আস্থার নাম হয়ে ওঠাই এখন ইমামির পাখির চোখ।
