সপ্তাহান্তে বন্ধুবান্ধব বা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বিশেষ মুহূর্ত কাটাতে কম বেশি সকলেই হাজির হন ক্যাফে-রেস্তরাঁয়। আগেভাগেই পরিকল্পনা থাকে, কী খাওয়া হবে। সেই মতোই রেস্তরাঁয় যান সকলে। কিন্তু জানেন কি এমন এক ক্যাফে রয়েছে যেখানে মোমো চাইলে পেয়ে যেতে পারেন পিৎজা! আবার কফি চেয়ে হয়তো পেলেন চাউমিন! নিশ্চয়ই ভাবছেন, এতে সমস্যার কি? ভুল খাবার পাতে পড়লে তা জানালেই মিটে গেল। পছন্দের পদ মিলবে পাতে। এখানে বিষয়টা কিন্তু একেবারেই তা নয়। ভুল খাবার পেলেও অভিযোগ জানানো যাবে না!
প্রতীকী ছবি।
নিশ্চয়ই ভাবছেন ব্যাপারটা কী? কোথায় রয়েছে এমন ক্যাফে? 'অদ্ভুত' এই ক্যাফের ঠিকানা জাপানের টোকিও। এর নাম অরেঞ্জ ডে। জানা গিয়েছে, এই ক্যাফের সকল কর্মীই ডিমেনশিয়া আক্রান্ত। তাঁরা টেবিলের নম্বর টুকুও মনে রাখতে পারেন না। ফলে অর্ডার লিখে নিয়ে রান্নাঘর অবধি যান ঠিকই। কিন্তু তা যে টেবিলে দেওয়ার সেখানে না দিয়ে সার্ভ করেন অন্য জায়গায়। সকলে জেনেশুনেই হাজির হন ওই ক্যাফেতে। প্রিয়জনের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ কাটান তাঁরা। ভুল খাবার পেয়েও কারও মুখের হাসি ম্লান হয় না।
এই ক্যাফের সকল কর্মীই ডিমেনশিয়া আক্রান্ত। তাঁরা টেবিলের নম্বর টুকুও মনে রাখতে পারেন না। ফলে অর্ডার লিখে নিয়ে রান্নাঘর অবধি যান ঠিকই। কিন্তু তা যে টেবিলে দেওয়ার সেখানে না দিয়ে সার্ভ করেন অন্য জায়গায়।
প্রতীকী ছবি।
কিন্তু কেন ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের নিয়ে চলছে ক্যাফে? আসলে সমাজে ডিমেনশিয়া আক্রান্তদের সাধারণত কেউই কোনও কাজের দায়িত্ব দেন না। কারণ, তারা কিছু মনে রাখতে পারে না। ডিমেনশিয়া আক্রান্তরাও যে চাইলেও আর পাঁচজনের মতোই সব কাজ করতে পারে, তা প্রমাণ করতেই ক্যাফে কর্তৃপক্ষের এই উদ্যোগ। আর বছরের পর বছর তাঁদের পাশে রয়েছেন গ্রাহকরা।
