প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আহ্বানে বিশ্বের তাবড় ব্যক্তিত্বরা এসে হাজির নয়াদিল্লিতে। উপলক্ষ, দেশে প্রথমবার আয়োজিত ‘ইন্ডিয়া এআই ইমপ্যাক্ট সামিট ২০২৬’। বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) উপস্থিত অতিথি-অভ্যাগতদের জন্য বিশেষ লাঞ্চের আয়োজন করা হয়। এলাহি আয়োজনের বদলে বিশেষ গুরুত্ব পায় নিখুঁতভাবে সাজানো মেনু, যার প্রতিটি খাবারেই রয়েছে ভারতীয় ঐতিহ্যের ছোঁয়া।
‘অল অ্যালার্জেন-ফ্রি’ এই নিরামিষ মেনুতে ঠাঁই পায়নি দুধ, গম ও বাদাম। স্টার্টারে ছিল নিমোনা কবাব (মটরশুঁটির কবাব), খাম খাটাই (আমের মিষ্টি পাল্প সহযোগে মুগডালের প্যাটিস) ও কাশ্মীরি নাদ্রু কুরকুরি (পদ্মকাণ্ডের চিপস)।
মেন কোর্সে ছিল জাফরানি সব্জ পোলাও, তন্দুরি স্যালাড, ও ঠেপলা। শেষপাতে রোজ অ্যান্ড কোকোনাট পুডিং ও রামদানা অঞ্জির লাড্ডু। স্বাস্থ্যসম্মত সেসব খাবারের নাম শুনলেই রেসিপি জানতে মন চায় বৈকি! তেমনই দু'টো রেসিপি রইল আজ।
ছবি: সংগৃহীত
নিমোনা কাবাব
প্রতি শীতে বিহার ও উত্তরপ্রদেশে বিপুল পরিমাণে চাষ হয় মটরশুঁটি। সেখানকারই জনপ্রিয় খাবার ‘মটর কা নিমোনা’কে সামনে রেখেই এই নিমোনা কাবাবের উদ্ভাবনা। কাবাব বানাতে প্রয়োজন—
- দেড় কাপ মটরশুঁটি
- একটা সিদ্ধ আলু
- এক টেবিলচামচ জিরে
- এক চা-চামচ হিং
- দুটো কাঁচা লঙ্কা
- এক চা-চামচ আদাবাটা
- দুই টেবিলচামচ ব্রেডক্রাম্ব বা বেসন
- আধ চা-চামচ গরম মশলা
- টাটকা ধনেপাতা
মিক্সিতে ব্লেন্ড করে নিন মটরশুঁটি। একেবারে মসৃণ নয়, হালকা দানা-ভাব রয়ে গেলে ভালো! ফ্রাইং প্যানে তেল গরম করে, তাতে দিন জিরে ও হিং। মটরশুঁটি বাটা ঢেলে দিন। দ্রুত স্প্যাচুলা নাড়তে থাকুন।
নামিয়ে, অল্প ঠান্ডা করে, মেশান সিদ্ধ আলু, আদাবাটা, কাঁচা লঙ্কা কুচি, ধনেপাতা কুচি, নুন, ব্রেডক্রাম্ব/বেসন, গরম মশলা। হাতের চাপে কাবারের আকৃতি দিন। তরলভাব থাকলে ব্রেডক্রাম্বের পরিমাণ বাড়ান।
তেল গরম করে মাঝারি আঁচে সেঁকে নিন কাবাব। দুই দিকে খয়েরী সং ধরলে নামিয়ে নিন। পুদিনা অথবা তেঁতুলের চাটনির সঙ্গে পরিবেশন করুন।
ছবি: সংগৃহীত
রোজ অ্যান্ড কোকোনাট পুডিং
হালকা গোলাপি রঙের এই ক্ষীর-জাতীয় ডেজার্ট স্বাদে গন্ধে মনমাতানো। পুডিং বানাতে প্রয়োজন-
- দুই কাপ নারকেলের দুধ
- এক কাপ গরুর দুধ
- তিন টেবিলচামচ চালগুঁড়ি
- সাড়ে তিন টেবিলচামচ চিনি
- এক টেবিলচামচ রোজ সিরাপ
- আধ চা-চামচ গোলাপজল
- চারটে এলাচ
- এক টেবিলচামচ পেস্তা কুচানো
ঢিমি আঁচে ফুটিয়ে নিন নারকেলের দুধ। গরুর দুধ মেশাতে পারেন ঘনত্ব বাড়াতে। চালগুঁড়ি মিশিয়ে দ্রুত নাড়তে থাকুন, খেয়াল রাখতে হবে, চালগুঁড়ি যেন দলা পাকিয়ে না যায়। একে একে চিনি, এলাচ, রোজ সিরাপ ও কয়েক বিন্দু গোলাপ জল মেশান। আলতো গোলাপি রং ধরলে, নামিয়ে নিন। ঠান্ডা হলে মাখো মাখো হয়, স্বাদও খোলতাই হয়। পরিবেশনের সময়ে উপরে ছড়িয়ে দিন গোলাপের পাপড়ি আর পেস্তা কুচি।
দুধ ও বাদামে অ্যালার্জি না থাকলে তবেই এই রেসিপি মেনে চলুন। নয়তো, এআই সামিটের লাঞ্চের কায়দায় এই দুই বাদ দিয়েও পুডিং বানাতে পারেন।
