দিনের প্রথম খাবারে চাই পর্যাপ্ত প্রোটিন। ভরসা কেবলমাত্র ডিম কেন? স্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, জলখাবারে ডিম বাদ দিয়েও প্রোটিন রাখা যেতে পারে। অনেকেই পুরোপুরি নিরামিষভোজী হন, অথবা সপ্তাহের এক-দুটো দিন বেছে নেন সম্পূর্ণ নিরামিষ খাবার। তাছাড়া, মুরগির ডিমে অনেকেরই অ্যালার্জি থাকে। অথবা উচ্চ রক্তচাপের কারণে বারণ থাকে ডিম খাওয়া। তাদের জলখাবারে যাতে প্রোটিন বাদ না পড়ে যায়, সে জন্য রইল সহজ সমাধান। এই সাত রেসিপি শরীর-মন— খেয়াল রাখবে দুইয়েরই।
মুগ ডালের চিল্লা
মুগ ডালের চিল্লা
চার ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন হলুদ মুগডাল। আদা, কাঁচা লঙ্কা ও সামান্য জল দিয়ে বেটে নিন মিহি করে। ছড়িয়ে দিন কুচানো পিঁয়াজ, ধনেপাতা ও পর্যাপ্ত নুন। মাঝারি আঁচে তাওয়া বা ফ্রাইয়িং প্যান চাপিয়ে, কয়েক বিন্দু তেল ছিটিয়ে দিন। এরপর ডালের তরল মিশ্রণ সমানভাবে চাড়িয়ে দিন প্যান জুড়ে। একদিক সোনালি হয়ে উঠলে, সাবধানে স্প্যাচুলা দিয়ে উলটে দিন। দুইদিকে রঙ ধরলে নামিয়ে নিন। পরিবেশন করুন টক দইয়ের সঙ্গে।
বেসনের চিল্লা
বেসনের চিল্লা
একইভাবে তৈরি করা যায় বেসনের চিল্লাও। শুধু এক্ষেত্রে বেসন গোলার সময়েই দিতে হবে হলুদ, নুন, কাঁচা লঙ্কা, পিঁয়াজ, টমেটোর কুঁচি। অল্প লেবুর রসও দেওয়া যেতে পারে মিশ্রণে।
অঙ্কুরিত মুগডালের স্যালাড
অঙ্কুরিত মুগডালের স্যালাড
রাতভর জলে ভিজিয়ে রাখুন সবুজ মুগডাল। সকালে তা অঙ্কুরিত হলে, সরষেদানা ও কারীপাতার সঙ্গে ভাপিয়ে নিন। অথবা ফ্রাইয়িং প্যানে সামান্য তেল দিয়ে, সতে করে নিন ডুমো করে কাটা পিঁয়াজ ও টমেটোর সঙ্গে। তাতে দিন নুন, সামান্য লঙ্কা, পাতিলেবুর রস। খাওয়ার সময় গাজর, শশা কুঁচি ছড়িয়ে নিন উপরে। দিতে পারেন বেদানাও। পেট ভরানোর পাশাপাশি সারাদিনের এনার্জির যোগান দেবে এই খাবার।
ডালের দোসা
ডালের দোসা
পাঁচ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখুন চানাডাল, অড়হর আর মাষকলাই। বেটে নিন শুকনো লঙ্কা ও জিরের সঙ্গে। তৈরির পদ্ধতি চিল্লার মতোই। পরিবেশনের সময় সঙ্গে রাখতে পারেন নারকেলের চাটনি।
ছাতুর পরোটা
ছাতুর পরোটা
শুকনো তাওয়ায় খানিকটা ছাতু নাড়াচাড়া করে নামিয়ে নিন। কুচানো পিঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা, জোয়ান, লেবুর রস ও সরষের তেল দিয়ে মেখে নিন, আটা-ময়দা মাখার ভঙ্গিতেই। লেচি কেটে বেলে নিন পরোটার আকারে। তাওয়ায় সামান্য তেল অথবা ঘি দিয়ে ভেজে নিন। দই অথবা আচার সহযোগে উপভোগ করুন।
চিঁড়ের পোলাও
চিঁড়ের পোলাও
ফ্রাইয়িং প্যানে অল্প তেলে সাঁতলে নিন সরষেদানা, কারীপাতা ও কাঁচা লঙ্কা। যোগ করুন চিনেবাদাম আর পিঁয়াজ কুঁচি। বাদামে সোনালি রঙ ধরলে, আগে থেকে ধুয়ে রাখা চিঁড়ে দিয়ে নিন। হলুদ, নুন দিন আন্দাজমতো। তৈরি হয়ে এলে, নামানোর আগে ছড়িয়ে দিন লেবুর রস ও ধনেপাতা কুঁচি।
টক দইয়ের পারফেইট
টক দইয়ের পারফেইট
আগুন জ্বালানোর দরকারই পড়বে না! মসলিন কাপড়ে কয়েক ঘণ্টার জন্য বেঁধে রাখুন সাধারণ টক দই। বাড়তি জল বেরিয়ে গেলে, দই পনিরের মতো জমাট বেঁধে যাবে। কুচানো আমন্ড, কাজু, কুমড়ো বা সূর্যমুখীর বীজের মতো সুপারফুড, ছোট টুকরোয় কাটা পছন্দের ফল, দইয়ের সঙ্গে ভালো করে মিশিয়ে নিলেই পারফেইট রেডি। পরিবেশনের সময় উপরে ছড়িয়ে দিন কুঁচি করে কাঁটা খেজুড় ও এক চামচ মধু!
স্বাদেও মিলুক নতুনত্ব। পেট ভরানোর পাশাপাশি দিনের প্রথম খাবারটি হোক মনভরানোও!
