shono
Advertisement
LPG crisis

গ্যাসের সংকটে রান্না কীভাবে? রইল গ্যাস বাঁচিয়ে তিনবেলা স্বাস্থ্যকর খাবারের মেনু

মেস হোক বা বাড়ির রান্নাঘর, এখন কম গ্যাস খরচে কীভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষের জন্য এমন মেনু দরকার যা কম সময়ে রান্না করা যায়, আবার পুষ্টির ঘাটতিও না হয়।
Published By: Pritimoy Roy BurmanPosted: 08:57 PM Mar 11, 2026Updated: 09:06 PM Mar 11, 2026

বেঙ্গালুরু-সহ দেশের একাধিক বড় শহরে এলপিজি বা রান্নার গ্যাসের সংকট দেখা দেওয়ায় বিপাকে পড়েছে হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং মেস পরিষেবা। বিশেষ করে বেঙ্গালুরুর মতো আইটি শহরে হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী, পিজি-তে থাকা তরুণ-তরুণী এবং অফিসকর্মীরা প্রতিদিন মেস বা ছোট হোটেলের খাবারের উপর নির্ভর করেন। ফলে গ্যাসের সরবরাহে সমস্যা দেখা দেওয়ায় তারা পড়েছেন বেজায় সমস্যায়।

Advertisement

খবর অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির কারণে এলপিজি সঙ্কট দেখা দিয়েছে। মধ্য়প্রাচ্য়ের উত্তেজনা জ্বালানির সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। ভারত যেহেতু এলপিজি আমদানি নির্ভর দেশ, তাই সরবরাহে সমস্যা তৈরি হলেই তার প্রভাব দ্রুত পড়ে বাজারে। আপাতত গৃহস্থালির রান্নার গ্যাস সরবরাহকে কিছুটা অগ্রাধিকার দেওয়ায়, বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের ঘাটতি আরও প্রকট হচ্ছে। তার সরাসরি প্রভাব পড়ছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, অফিস ক্যান্টিন ও মেসের রান্নাঘরে।

হোটেল মালিকদের অনেকেই জানিয়েছেন, বাণিজ্যিক গ্যাস না থাকলে রান্না চালিয়ে যাওয়া কার্যত অসম্ভব। তাই কোথাও পরিষেবা কমানো হচ্ছে, আবার কোথাও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার কথাও ভাবা হচ্ছে। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষ, যারা প্রতিদিনের খাবারের জন্য মেস বা হোটেলের উপর নির্ভরশীল।

ছবি: সংগৃহীত

এই পরিস্থিতিতে অনেক মেস বাধ্য হয়ে তাদের খাবারের মেনুও ছোট করে ফেলছে। আগে যেখানে দুপুর বা রাতের খাবারে ভাত, ডালের সঙ্গে দু থেকে তিন ধরনের পদ থাকত, এখন অনেক জায়গায় সেটি কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে।

মেস হোক বা বাড়ির রান্নাঘর, এখন কম গ্যাস খরচে কীভাবে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা যায়, তা নিয়ে নতুন করে ভাবনা শুরু হয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী, কর্মজীবী মানুষের জন্য এমন মেনু দরকার যা কম সময়ে রান্না করা যায়, আবার পুষ্টির ঘাটতিও না হয়।

নিচে কম গ্যাস খরচে স্বাস্থ্যকর দৈনিক একটি মেনু তৈরি করে দেওয়া হল, যা মেস বা বাড়ি- দু-জায়গাতেই সহজে করা যায়।

ছবি: সংগৃহীত

প্রাতঃরাশ
সকালের খাবার এমন হওয়া দরকার, যা দ্রুত বানানো যায় এবং সারাদিনের জন্য শক্তি বা ক্য়ালরির জোগান দেয়।
১. উপমা বা সবজি পোহা
সুজি বা চিঁড়ে দিয়ে বানানো এই খাবার খুব দ্রুত তৈরি করা সম্ভব। এর সঙ্গে গাজর, মটরশুঁটি, পেঁয়াজ বা টম্য়াটো দিলে শরীর ফাইবার ও ভিটামিনের জোগান পায়।
২. সেদ্ধ ডিম ও টোস্ট
ডিম সেদ্ধ করতে খুব বেশি গ্যাস খরচ হয় না এবং এটি প্রোটিনের খুব ভালো উৎস। এর সঙ্গে দুটো টোস্ট বা রুটি খেলে পেটও থাকে দীর্ঘক্ষণ ভরা।
৩. টক দই ও ফল
দইয়ের সঙ্গে কলা, আপেল বা পেঁপে খেলে খাবার সহজে হজম হয় এবং শরীরের জন্যও তা উপকারী। এতে তো গ্যাসের কোনও খরচই নেই।

ছবি: সংগৃহীত

লাঞ্চ বা দুপুরের খাবার
দুপুরের খাবারে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন ও সবজি থাকা দরকার।
১. ভাত, ডাল ও একটি সবজি
এটি সবচেয়ে সহজ এবং পুষ্টিকর মেনু। ডাল প্রেসার কুকারে দ্রুত রান্না হয়। এর সঙ্গে লাউ, ঝিঙে, বাঁধাকপি বা বিনস-গাজরের মতো দ্রুত রান্না হওয়া সবজির কোনও পদ রাখাই যায়।
২. খিচুড়ি
চাইলে কোনওদিন চাল, ডাল ও সবজি সহযোগে বানিয়ে নিতে পারেন খিচুড়ি। এতে গ্যাসও কম লাগে এবং পুষ্টিও বজায় থাকে।
৩. সাল্যাড ও দই
শসা, গাজর, টম্য়াটো দিয়ে স্বাস্থ্যকর সাল্যাড বানিয়ে নিন। সঙ্গে টক দই রাখতে পারেন। এটা হজমের জন্য় দারুণ উপকারী। নেই গ্যাসের ঝঞ্জাট।

ছবি: সংগৃহীত

ডিনার বা রাতের খাবার
রাতে খাবার হালকা হওয়াই ভালো, যাতে সহজে হজম হয়।
১. রুটি ও সবজি
রুটির সঙ্গে লাউ, কুমড়ো, ঝিঙে বা মিক্সড ভেজিটেবলের হালকা তরকারি ভালো বিকল্প।
২. ডাল বা সবজির স্যুপ
ডাল বা সবজি দিয়ে স্যুপ বানালে পুষ্টিও পাওয়া যায় আর খুব বেশি গ্যাসও পোড়ে না।
৩. ডিম ভুজিয়া বা ডিম সেদ্ধ
ডিম দিয়ে দ্রুত একটি প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তৈরি করা যায়, যা রাতের জন্য উপযুক্ত।

ছবি: সংগৃহীত

সাপ্তাহিক বিশেষ পদ
মেস বা বাড়িতে পুষ্টির ভারসাম্য বজায় রাখতে সপ্তাহে অন্তত একদিন মাছ বা মাংসের পদ রাখা হয়। সাধারণত চিকেন কারি বা ছোট মাছের ঝোল, যা তুলনামূলক কম সময়ে রান্না করা যায়। মাছ ও মাংসে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন এবং ভিটামিন বি১২ থাকে, যা শরীরের শক্তি বাড়াতে এবং পেশি সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিশেষ করে ছাত্রছাত্রী ও কর্মজীবী মানুষের জন্য এই ধরনের প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার সপ্তাহে একদিন হলেও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন পুষ্টিবিদরা।

এ ভাবে মেনু সাজালে, সীমিত মেনুতেও হবে না পুষ্টির ঘাটতি। গাজর, বিনস, বাঁধাকপি বা লাউয়ের মতো সবজিতে প্রচুর পরিমাণ ফাইবার, ভিটামিন ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট থাকে, যা শরীরকে সুস্থ রাখতে দারুণ কার্যকরি। সব মিলিয়ে গ্যাসের সংকটের সময়েও সঠিক পরিকল্পনা করে মেস বা বাড়ির রান্নাঘরে গ্যাস খরচে স্বাস্থ্যকর খাবার তৈরি করা সম্ভব। এতে একদিকে যেমন জ্বালানি বাঁচে, অন্যদিকে শরীরের প্রয়োজনীয় পুষ্টিও বজায় থাকে।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement