২৮ বছর ধরে গেরুয়া ব্রিগেডের একনিষ্ঠ কর্মী। মাঠঘাট, ফসলের সঙ্গে সম্পর্ক যতটা নিবিড়, বিজেপির সঙ্গেও তিনি ততই সম্পৃক্ত। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির অলোককুমার সিংহ। লাঙল তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী। সেই লাঙল কাঁধেই দু'শো কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি সটান চলে এসেছেন কলকাতায়। লাঙলে লাগানো পোস্টার। তা নিয়েই সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে তাঁর দাবি, ''আমাকে টিকিট দিন, ভোটে জিতে কৃষিমন্ত্রী হব।'' যদিও বঙ্গ বিজেপির প্রথম সারির কোনও নেতার কাছে এখনও নিজের এই ইচ্ছের কথা জানিয়ে উঠতে পারেননি অলোকবাবু। প্রার্থী বাছাই নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে তাঁরা সকলেই যে দিল্লিতে। ফলে বাধ্য হয়েই বাঁকুড়ার কৃষককে অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
মাঠঘাট, ফসলের সঙ্গে সম্পর্ক যতটা নিবিড়, বিজেপির সঙ্গেও তিনি ততই সম্পৃক্ত। বাঁকুড়ার গঙ্গাজলঘাঁটির অলোককুমার সিংহ। লাঙল তাঁর সর্বক্ষণের সঙ্গী। সেই লাঙল কাঁধেই দু'শো কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে তিনি সটান চলে এসেছেন কলকাতায়। লাঙলে লাগানো পোস্টার। তা নিয়েই সল্টলেকের বিজেপি দপ্তরে গিয়ে তাঁর দাবি, ''আমাকে টিকিট দিন, ভোটে জিতে কৃষিমন্ত্রী হব।''
রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সংকল্পপত্র প্রকাশ করে রাজ্যবাসীর মতামত সংগ্রহ করেছেন। তাঁর বক্তব্য, "ছাব্বিশে রাজ্যে পরিবর্তন হবে। বিজেপি নয়, জনতার সরকার আসতে চলেছে।" সেই শমীক ভট্টাচার্যের সঙ্গে দেখা করতেই লাঙল কাঁধে সারারাত ট্রেনে চড়ে অলোককুমার সিংহ চলে এসেছেন সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয়ে। গায়ে সাদা-নীল চেক জামা, পায়ে প্লাস্টিকের চটি, কাঁধে লাঙল, তাতে পোস্টার - 'কৃষিমন্ত্রী হতে চাই'। শুধু তাইই নয়, আরও কয়েকটি পোস্টার লাঙলে গেঁথে এনেছেন। কোনও পোস্টারে স্বাধীনতা সংগ্রামীদের ছবি, কোনওটায় লেখা স্লোগান - 'জয় জওয়ান, জয় কিষাণ'। আসলে এই লাঙলে বছর দুই আগে পর্যন্তও চাষ করেছেন আলোকবাবু। তাই কৃষিমন্ত্রী হওয়ার দাবিতে এই লাঙল তাঁর সঙ্গী।
সল্টলেকের বিজেপি কার্যালয় চত্বরেই আপাতত রয়েছেন সুদূর বাঁকুড়া থেকে আসা অলোককুমার সিংহ। জানালেন, ১৯৯৮ সাল থেকে তিনি বিজেপির সঙ্গে যুক্ত। ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে অলোকবাবুর ভাই ও ভাইয়ের স্ত্রী - দুজনই প্রার্থী হয়েছিলেন। ভোটের পর বাড়িছাড়া হতে হয়েছিল। বর্তমান রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যর সঙ্গে চেনাশোনা আছে। তাঁর কাছেই নিজের দাবি জানাতে এসেছেন। বাঁকুড়ার মাটির মানুষ অলোকবাবুর দাবিও খুবই সঙ্গত। প্রত্যক্ষভাবে কৃষিকে ভিত্তি করে যে জীবনযাপন করে, তাঁরই তো সর্বাগ্রে কৃষিদপ্তরের ভার পাওয়া উচিত। তাই তিনি বিজেপির হয়ে ভোটে দাঁড়াতে চান। জেতার পুরস্কার হিসেবে চান কৃষিদপ্তর। তাঁর আর্জি কি কানে তুলবেন বঙ্গের গেরুয়া নেতারা?
