গ্রীষ্মকাল এলেই যেসব ফলের দেখা মেলে বাজারে, গৃহস্থ বাড়িতে কিংবা শরবতের দোকানে, তার মধ্যে আম, লিচু, তরমুজ ছাড়াও রয়েছে কালো জাম। অল্প লবণ মাখিয়ে নিলেই দিব্যি খাওয়া যায় এই ফল, যা আবার ‘ভারতীয় ব্ল্যাকবেরি’ নামেও পরিচিত। খাদ্যগুণও রয়েছে ভরপুর। জানেন কি, কালো জাম দিয়ে অসামান্য স্বাদের শরবতও (Jamun Drink) বানানো যায়! আর তার পদ্ধতি এতই সহজ যে, বাড়িতেই বানিয়ে ফেলতে পারবেন যখন তখন।
রক্তশর্করার কারণে যারা নাজেহাল, তাঁরা সহজেই এই শরবত পান করতে পারবেন।
এর জন্য যা যা উপকরণ লাগবে—
১। ৫০০ গ্রাম কালো জাম
২। অর্ধেক কাপ চিনি/ দুই টেবিলচামচ মধু
৩। অর্ধেক চা-চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো
৪। অর্ধেক চা-চামচ ভাজা জিরে গুঁড়ো
৫। তিন টেবিলচামচ পাতিলেবুর রস
৬। স্বাদমতো লবণ
৭। একগোছা পুদিনা পাতা
৮। দুই লিটার জল
৯। বরফখণ্ড পরিমাণমতো
প্রণালী
ভালো করে ধুয়ে নিন কালো জাম। পাত্রে জল ফুটতে দিয়ে, তাতে সবটুকু ফল ঢেলে দিন। একে একে তাতে দিন লবণ, চিনি কিংবা মধু, এবং গোলমরিচ গুঁড়ো। কিছুক্ষণ পর পর নাড়লে দেখতে পাবেন, কালো জামের বীজ থেকে শাঁস আলাদা হয়ে যাচ্ছে। বেশিরভাগটাই আলাদা হয়ে এলে, জল ফোটানো থামিয়ে দিন। জাম ও মশলাপাতির মিশ্রণটি ঠান্ডা হতে দিন। হাত অথবা চামচ দিয়ে জলের মধ্যে থাকা জামের নির্যাস সবটুকু ভালোমতো নিংড়ে নিন। ছাঁকনির সাহায্যে জুস ছেঁকে নিন; বাদ দিন জামের বীজ ও খোসার অংশ।
জামের জুসের সঙ্গে মেশান পাতিলেবুর রস। অল্প চাট মশলা কিংবা ভাজা জিরের গুঁড়ো মিশিয়ে দিন তার সঙ্গে। গ্লাসে বরফখণ্ড সাজিয়ে, জুস ঢেলে দিন তার উপর দিয়ে। একেবারে উপরে সাজিয়ে দিন পুদিনা পাতা।
পুষ্টিগুণে ভরপুর এই একরত্তি ফল।
গরমে কেন প্রয়োজন কালো জামের শরবত?
কালো জাম খেলে, পাওয়া যায় প্রভূত পরিমাণে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন সি, বিবিধ মিনারেল, আয়রন ও পলিফেনল। ফলে রক্তশর্করার কারণে যারা নাজেহাল, তাঁরা সহজেই এই শরবত পান করতে পারবেন। এছাড়াও হাইপারটেনশন ও ওবেসিটিতে প্রায় পথ্যের কাজ দেয় এই পানীয়। গরমের দিনে এই টক-মিষ্টি শরবত অপার শান্তি দেয় শরীর-মনকে।
