পৃথিবীজোড়া তার নাম। ছোট তুলতুলে। গোলাকার। পিঠের মতো দেখতে। স্বাদেও অতুলনীয়। দক্ষিণ ভারতের জনপ্রিয় ডিশ। ইডলি। সকালের জলখাবারে হোক বা নৈশভোজ। যেকোনও সময় খাওয়া যায়। আর জগৎজোড়া পরিচিতি থাকায় প্রতিবছর ৩০ মার্চ পালন করা হয় 'ওয়ার্ল্ড ইডলি ডে'। তার নামেই আস্ত একটা গোটা দিন। বাড়িতে ইডলি বানালে অনেকেরই অভিযোগ থাকে যে তা দোকানের মতো নরম বা স্পঞ্জি হয় না। আসলে ইডলি নরম হওয়ার রহস্য লুকিয়ে রয়েছে চাল ও ডালের সঠিক অনুপাত এবং গাঁজন বা ফার্মেন্টেশন প্রক্রিয়ায়। সাধারণত ২ কাপ ইডলি রাইসের সঙ্গে ১ কাপ বিউলি বা বিউলির ডাল মেশানো জরুরি। সঙ্গে সামান্য মেথি দিলে ব্যাটার যেমন সুন্দর হয়, তেমনই স্মেল আসে দারুণ। স্বাদও হবে হুবহু দোকানের মতো। বাড়িতে কীভাবে বানাবেন এই পদ? রইল রেসিপি।
ফাইল ছবি
উপকরণ কী?
২ কাপ ইডলি চাল
১ কাপ বিউলির ডাল
১/২ চা চামচ মেথি বীজ
নুন (পরিমাণমতো)
জল (প্রয়োজনমতো)
ধাপে ধাপে প্রস্তুতি
প্রথমে চাল ও ডাল আলাদা করে ধুয়ে অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে। এরপর ডালটি আগে বাটুন। ডাল বাটার সময় অল্প অল্প করে ঠান্ডা জল ব্যবহার করলে ব্যাটারটি ভালো হবে। চালটি একেবারে মিহি না করে সামান্য দানা দানা রেখে বাটলে ইডলি বেশি ভালো হয়। এবার চাল ও ডালের মিশ্রণ সামান্য নুন দিয়ে ভালো করে ফেটিয়ে নিন। মনে রাখবেন, নুন ব্যাটার দ্রুত ফুলতে সাহায্য করে।
ফাইল ছবি
সঠিক ফার্মেন্টেশন
ব্যাটারটি মেখে গরম কোনও জায়গায় ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে রেখে দিন। শীতকাল হলে সময় একটু বেশি লাগতে পারে। ব্যাটার যখন ফুলে দ্বিগুণ হয়ে যাবে, বুঝবেন সেটি ইডলি তৈরির জন্য প্রস্তুত। ইডলি স্ট্যান্ডে সামান্য তেল মাখিয়ে ব্যাটার ঢালুন এবং ১০-১২ মিনিট ভাপে রান্না করুন। আঁচ বন্ধ করার সঙ্গে সঙ্গেই ইডলি বের করবেন না। মিনিট দুয়েক অপেক্ষা করে তবেই নামান।
গরম গরম ইডলির ওপর সামান্য ঘি ছড়িয়ে দিলে তার স্বাদ কয়েক গুণ বেড়ে যায়। সঙ্গে থাকুক নারকেলের চাটনি, সম্বর ডাল অথবা গান পাউডার বা ইডলি পোডি। মনে রাখবেন, ব্যাটার বেশি পাতলা করবেন না এবং ইডলি বেশিক্ষণ স্টিম করবেন না। এতে ইডলি শক্ত হয়ে যাওয়ার ভয় থাকে। এই বিশ্ব ইডলি দিবসে আপনার রান্নাঘরেও আসুক দক্ষিণ ভারতের এই সাবেকি স্বাদ।
