shono
Advertisement
Battle of Nuremberg

চোখের জলে মাঠ ছাড়েন রোনাল্ডো! ১৬ হলুদ, ৪ লাল কার্ডে ভরা বিশ্বকাপের সবচেয়ে 'নোংরা' ম্যাচ 

২০০৬ বিশ্বকাপকেই ধরা হয় সবচেয়ে 'নোংরা' বিশ্বকাপ। আর সব ম্যাচের মধ্যমণি 'দ্য ব্যাটেল অফ নুরেমবার্গ'।
Published By: Biswadip DeyPosted: 05:58 PM Jun 11, 2026Updated: 05:58 PM Jun 11, 2026

দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ। বিশ্বকাপ ফুটবল মানেই রাতজাগা চোখে রঙিন সব মেঘ। অসাধারণ গোল, দুরন্ত সেভ, দাঁতচাপা লড়াইয়ের কোলাজগুলি প্রতিযোগিতা শেষ হলেই ফুরিয়ে যায় না। থেকে যায় স্মৃতিসুধায়। কিন্তু কেবলই ভালো নয়, 'কালো'ও থাকে বিস্তর। এপ্রসঙ্গে ২০০৬ বিশ্বকাপে জিদানের সেই ঢুঁসোর কথা মনে পড়বেই। কিন্তু কেবলই ওই ঢুঁসো নয়, জার্মানিতে আয়োজিত গোটা ২০০৬ বিশ্বকাপটাকেই ধরা হয় বিশ্বকাপের ইতিহাসের সবচেয়ে 'নোংরা' বিশ্বকাপ হিসেবে। সবশুদ্ধ ৩৪৫ হলুদ কার্ড ও ২৮টা লাল কার্ডই বুঝিয়ে দেয় 'মারামারি' কোন পর্যায়ে পৌঁছেছিল। আর সব ম্যাচের মধ্যমণি 'দ্য ব্যাটেল অফ নুরেমবার্গ'।

Advertisement

পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডসের সেই ম্যাচ এখনও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বিশেষ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অনুগামীদের। খেলার বয়স যখন ৩৩ মিনিট, সিআর৭ চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান মাঠ থেকে। নেপথ্যে ছিলেন বোলহারোজ। সেই বিশ্রী ফাউল বোধহয় এখনও রয়ে গিয়েছে দর্শকদের মনে। বোলহারোজ অবশ্য লাল কার্ড দেখেছিলেন, দু'বার হলুদ কার্ড দেখার ফলে। কিন্তু সেটা নেহাতই 'হিমশৈলের চুড়ো'। গোটা ম্যাচে ১৬টি হলুদ কার্ড, চারটি লাল কার্ড!

পর্তুগাল বনাম নেদারল্যান্ডসের সেই ম্যাচ এখনও অনেকের স্মৃতিতে উজ্জ্বল। বিশেষ করে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোর অনুগামীদের। খেলার বয়স যখন ৩৩ মিনিট, সিআর৭ চোট পেয়ে কাঁদতে কাঁদতে বেরিয়ে যান মাঠ থেকে।

শুরু থেকে বলা যাক। ২০০৬ সালের ২৫ জুন। ৪১ হাজার দর্শক ছিল নুরেমবার্গের মাঠে। একেবারে দ্বিতীয় মিনিটেই প্রথম হলুদ কার্ড দেখালেন রেফারি ভ্যালেন্তিন ইভানভ। এরপর সপ্তম মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড। আগেই বলা হয়েছে বোলহারোজের কথা। তিনি জঘন্য ফাউল করলেন রোনাল্ডোকে। পরে সিআর৭ সাফ বলেছিলেন, বোলহারোজের বল দখলের কোনও ইচ্ছেই ছিল না! রোনাল্ডোকে আঘাত করাটাই ছিল আসল উদ্দেশ্য। আর সেই উদ্দেশ্যে তিনি সফল! তক্ষুনি মাঠ না ছাড়লেও আধঘণ্টার খানিক পরেই তিনি বেরিয়ে যান। চোখে জল।

এখানে একটা কথা বলা যায়। ওই ম্যাচে কেউ কিন্তু সরাসরি লাল কার্ড দেখেননি। দু'বার করে হলুদ কার্ড দেখায় তাঁদের মাঠ ছাড়তে হয়। হলুদ কার্ডের হিসেবে পর্তুগাল ৯, নেদারল্যান্ডস ৭। হাফ টাইমের হুইসল বাজার আগে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লেন কোস্টিনহা। দ্বিতীয়ার্ধে অবশেষে মাঠ ছাড়লেন রোনাল্ডোকে মাঠ থেকে বের করা বোলহারোজ। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে। ম্যাচের বয়স তখন ৬৩ মিনিট। এরপর ৭৮ ও ৯৫ মিনিটে মাঠ ছাড়লেন আরও দুই খেলোয়াড়। একজন পর্তুগালের ডেকো। অন্যজন নেদারল্যান্ডসের ভিওভান্নি ভ্যান ব্রঙ্কহর্স্ট।

খেলায় পর্তুগাল জিতলেও লোকের মনে কেবল থেকে গিয়েছে প্রবল ফাউল ও ধাক্কাধাক্কির ছবিটাই। যদিও তৎকালীন ফিফা প্রেসিডেন্ট সেপ ব্লাটার বলেছিলেন, ইভানভের উচিত ছিল নিজেকেও হলুদ কার্ড দেখানো! কেননা তাঁর পারফরম্যান্স ছিল বিশ্রী! পরে অবশ্য তাঁকে ক্ষমা চাইতে হয়। ইভানভের বাবা ছেলের হয়ে আসরে নামেন। দাবি করেন, তাঁর ছেলে পেশাদারের মতোই ম্যাচটা সামলেছেন। কিন্তু ইভানভ সেই বিশ্বকাপে আর একটিও ম্যাচে রেফারির দায়িত্ব পাননি। অনেকেরই মত ছিল, বড্ড তাড়াতাড়ি তিনি কার্ড দেখিয়েছিলেন। ফাউল ফুটবলেরই অঙ্গ। তাঁর আরও বিচক্ষণতার পরিচয় দেওয়ার দরকার ছিল। তবে সব মিলিয়ে মারামারি আর ঘনঘন কার্ডের ধাক্কায় বিশ্বকাপের 'নোংরা' ম্যাচটিকে ঘিরে বিতর্কের আজও নিষ্পত্তি হয়নি।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement