অস্ট্রেলিয়ার আশ্রয় ছেড়ে যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানে ফিরে যাচ্ছেন আরও তিন মহিলা ফুটবলার। অজি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক জানান, সাতজন মহিলা ফুটবলারকে মানবিকতার খাতিরে ভিসা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু তাঁদের মধ্যে তিনজন রবিবার অস্ট্রেলিয়া ছেড়েছেন। টনি জানিয়েছেন, ইরানের মহিলা দলের ওই সদস্যদের কাছে সমস্ত বিকল্পই রাখা হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা স্বেচ্ছায় অস্ট্রেলিয়া ছেড়ে নিজের দেশে ফিরতে চাইছেন।
মহিলাদের এশিয়ান কাপে খেলার জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল ইরানের ২৬ সদস্যের দল। তাঁরা অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছনোর পরেই শুরু হয় যুদ্ধ। আমেরিকা এবং ইজরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের মৃত্যুর পরই জাতীয় সংগীত বয়কট করেছিলেন ইরানের জাতীয় দলের মহিলা ফুটবলাররা। তারপর থেকেই প্রশ্ন ছিল, এহেন আচরণের পর তাঁরা আদৌ নিরাপদে ইরানে ফিরতে পারবেন? খানিকটা প্রাণভয়েই দলের বেশ কয়েকজন সদস্য আবেদন করেছিলেন অস্ট্রেলিয়ার ভিসার জন্য়।
সবমিলিয়ে সাতজনকে ভিসা দেওয়া হয়। অন্তত সপ্তাহখানেক অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তাঁরা। কিন্তু এবার একে একে দেশে ফিরছেন তাঁরা। ইরান স্কোয়াডের বাকি সদস্যরা ইতিমধ্যেই ইরানের পথে পা বাড়িয়েছেন। সাতদিন অস্ট্রেলিয়ায় থাকার পর আরও চারজন সদস্য ফিরে যাচ্ছেন ইরানে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন অধিনায়ক জাহরা ঘানবারিও। অজি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ইরান দলের সদস্যরা অস্ট্রেলিয়া ছাড়ার আগে তাঁদের সঙ্গে বারবার আলোচনা করেছে অজি প্রশাসন। সমস্ত রকম বিকল্প তাঁদের কাছে রাখা হয়েছে। কিন্তু স্বেচ্ছায় তাঁরা ইরানে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
ফুটবলারদের ফিরে যাওয়ার নেপথ্যে ইরান প্রশাসনের কোনও ভূমিকা রয়েছে কি? প্রশ্ন বাড়ছে ক্রমেই। সাত ফুটবলারকে অস্ট্রেলিয়া ভিসা দেওয়ায় তেহরান যথেষ্ট অসন্তুষ্ট ছিল। ইরানের বিদেশমন্ত্রকের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই স্পষ্ট জানিয়েছিলেন, ফুটবলারদের ইস্যুতে অহেতুক হস্তক্ষেপ করছে অস্ট্রেলিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। ফুটবল দলের প্রত্যেক সদস্যকে ইরানে ফিরে আসতেও বার্তা দেন তিনি। উল্লেখ্য, খামেনেই জমানার জাতীয় সঙ্গীত 'বয়কট' করে হইচই ফেলে দিয়েছিল ইরানের মহিলা দল। কিন্তু পরবর্তী ম্যাচগুলিতে জাতীয় সঙ্গীত গেয়েছিলেন তাঁরা।
