নাম বদলে যাচ্ছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের? অন্তত তেমনই সম্ভাবনা। শনিবার ছিল এআইএফএফের ভার্চুয়াল বৈঠক। সেখানে অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের নাম বদলে 'ফুটবল ফেডারেশন অফ ভারত' করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যা নিয়ে ক্রীড়া মন্ত্রকের দ্বারস্থ হতে চলেছে এআইএফএফ।
শনিবার নয়াদিল্লিতে এআইএফএফের বিশেষ সাধারণ সভায় এই প্রস্তাব অনুমোদিত হয়। তবে নাম পরিবর্তনের আগে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া মন্ত্রক ও ফিফার অনুমোদন লাগবে। পাস করাতে হবে কার্যকরী কমিটিতে। ফেডারেশন সভাপতি কল্যাণ চৌবে বলেন, "আজ আমরা এই প্রক্রিয়া শুরু করলাম। ক্রীড়া মন্ত্রক অনুমোদন দিলে পরের ধাপে বিষয়টি ফিফাকে পাঠানো হবে।" তিনি জানান, তুর্কিয়ে ও চেকিয়ার মতো কয়েকটি দেশও তাদের ফুটবল সংস্থার নাম পরিবর্তন করেছে।
এদিনের বৈঠকে আগামী মরশুমের আগামী ৪ সেপ্টেম্বর থেকে আইএসএল শুরু করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে। ১৪টি দলকে নিয়ে প্রায় সাত মাস ধরে হোম ও অ্যাওয়ে ফরম্যাটে লিগ চলবে। তবে লিগের ভবিষ্যৎ কাঠামো নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। আপাতত বিষয়টি ক্লাব, এআইএফএফ এবং ম্যানেজিং কমিটির হাতে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। কল্যাণ চৌবে বলেন, "ক্লাবগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।" তাছাড়াও ৩০ জুনের মধ্যে ফেডারেশনের সংবিধানেরও কিছু পরিবর্তন হতে পারে বলে জানা গিয়েছে।
আইএসএলের কমার্শিয়াল রাইটসের জন্য বিড করেছিল জিনিয়াস স্পোর্টস। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে কিছুটা সময় লাগবে বলে লিখিতভাবে সংস্থাটিকে জানিয়েছে এআইএফএফ। পাশাপাশি তাদের আর্থিক কাঠামোতে বড় পরিবর্তন আনা হবে বলে জানিয়েছে ফেডারেশন। গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী মনসুখ মাণ্ডব্যর সঙ্গে বৈঠকের পর এআইএফএফ এবং আইএসএল ক্লাবগুলির মধ্যে নতুন মডেল নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছয় এআইএফএফ ও ক্লাবগুলি। আগামী চার বছর এই মডেল চলবে। ক্লাবগুলির স্বার্থকে গুরুত্ব দিয়ে আইএসএল চালানোর জন্য আলাদা এন্টিটিও গঠন করা হবে। অন্যদিকে, লজিস্টিকস ও অপারেশন সংক্রান্ত দায়িত্বে থাকবে এআইএফএফ। এর জন্য ফেডারেশন বছরে ১৬ কোটি টাকা পাবে। এখন জিনিয়াস স্পোর্টসের জবাবের অপেক্ষায় রয়েছে এআইএফএফ। সেই জবাব পাওয়ার পর বিষয়টি গভর্নিং বডির অনুমোদনের জন্য তোলা হবে। এ নিয়ে আগামী সপ্তাহে বৈঠকে বসবে আইএসএল ম্যানেজিং কমিটি। এই কমিটিতে প্রত্যেক ক্লাবের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি ফেডারেশনের তিনজন কর্মকর্তাও রয়েছেন।
তবে এদিনের বৈঠকের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ফেডারেশনের এক্সিকিউটিভ কমিটির সদস্য ভালাঙ্কা আলেমাও। এমনকী আদালতে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। ফেডারেশনকে এক ই-মেলে তিনি লেখেন, সুপ্রিম কোর্ট অনুমোদিত এআইএফএফ সংবিধান অনুযায়ী সভায় কেবল রাজ্য সংস্থার প্রতিনিধিরাই নন, প্রাক্তন খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি এবং ক্লাব প্রতিনিধিদেরও থাকার কথা। কিন্তু এখনও তাঁদের নিয়ে কোনও সংগঠন তৈরি হয়নি। তাই তাঁদের প্রতিনিধিরা সাধারণ পরিষদে নেই। ভালাঙ্কার কথায়, 'সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ সাধারণ পরিষদ গঠন না করে সংবিধান পরিবর্তন বা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া আইনসম্মত নয়।' তাঁর দাবি, সংবিধান সংশোধনের জন্য যে নিয়ম মেনে নোটিশ ও প্রস্তাব দেওয়ার কথা, তা-ও মানা হয়নি। 'আজকের সভায় নেওয়া যে কোনও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে আমি আদালতের দ্বারস্থ হব।' লেখেন ভালাঙ্কা।
