যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরান ছেড়ে অস্ট্রেলিয়াতেই নতুন জীবনের শুরু। রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন মঞ্জুর হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেলেন ইরানের দুই মহিলা ফুটবলার ফতেমেহ পসন্দিদেহ এবং আতেফহ রামেজানিসেদেহ। ব্রিসবেনে এক অনুষ্ঠানে তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করান অস্ট্রেলিয়ার অভিবাসন মন্ত্রী টনি বার্ক।
নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রামেজানিসেদেহ। তাঁর কথায়, "বৃহস্পতিবার অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়েছি। শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় ইরানিদের অনেকে ছিলেন। যাঁরা আমাদের বন্ধু বা সমর্থন করেছেন, তাঁরা এসেছিলেন। আমার জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন। যা কখনও ভোলা সম্ভব নয়। অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পেয়ে আমি গর্বিত এবং কৃতজ্ঞ। আমার জীবনকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ দিয়েছে অস্ট্রেলিয়া।" একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, "ইরান আমার শিকড়। সেই দেশের কথা সারা জীবন মনে থাকবে।"
একই সুর শোনা গিয়েছে পসন্দিদেহর গলাতেও। তিনি বলেন, "অস্ট্রেলিয়ার নাগরিকত্ব পাওয়ার দিনটি আমার জীবনের অন্যতম আনন্দের দিন। সরকারি ভাবে এই দেশের নাগরিক হতে পেরে আমি গর্বিত ও উচ্ছ্বসিত। অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনকে ধন্যবাদ। অনেক লড়াই ও প্রতিকূলতার মধ্যে দিয়ে এখানে পৌঁছেছি। এই মুহূর্তের গুরুত্ব ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়।"
গত মার্চে অস্ট্রেলিয়া সরকারের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয়ের আবেদন করেছিলেন দুই ফুটবলার। তার আগে মহিলাদের এশিয়ান কাপ খেলতে অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিলেন তাঁরা। দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ম্যাচের আগে জাতীয় সঙ্গীত ‘বয়কট’ করেছিলেন। নারী স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নেওয়ার পর দেশে ফিরলে নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। এমনকী শাস্তিরও আশঙ্কা ছিল। সেই কারণেই অস্ট্রেলিয়াতেই থেকে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন পসন্দিদেহ ও রামেজানিসেদেহ। অস্ট্রেলিয়ায় বসবাসকারী ইরানিদের সমর্থন এবং পরিস্থিতির গুরুত্ব বিচার করে তাঁদের আবেদন দ্রুত মঞ্জুর করে সে দেশের সরকার।
বর্তমানে দুই ফুটবলার অস্ট্রেলিয়ার 'এ' লিগের ক্লাব ব্রিসবেন রোয়ার্সের হয়ে খেলছেন। নতুন দেশের নাগরিকত্ব পেলেও, জন্মভূমি ইরানের সঙ্গে আত্মিক সম্পর্ক যে অটুট থাকবে, তা জানিয়ে দিয়েছেন দু'জনেই।
