ভবানীপুর ২ (সাহিল, রবি)
মোহনবাগান ১ (বিভান)
শুক্রবার ঘরোয়া লিগে ভবানীপুরের বিরুদ্ধে হেরে গেল মোহনবাগান। লিগ টেবিলে এমনিতেই সবুজ-মেরুনের উপরে ভবানীপুর। পাঁচ ম্যাচে তিন ম্যাচে জয়, একটিতে ড্র ও একটিতে হেরে কোচ বাস্তব রায়ের ছেলেরা তৃতীয় স্থানে থাকলেও সেভাবে ছন্দে পাওয়া যায়নি তাঁদের। তার উপর সিনিয়র দলের তারকা খেলিয়েও কাস্টমসের কাছে হারতে হয়েছিল। তাই সবুজ-মেরুনের কাছে এই ম্যাচ ছিল ফিরে আসার লড়াই। যদিও শেষ পর্যন্ত হতাশ হতে হল মেরিনার্সদের। ভবানীপুরের কাছে ১-২ গোলে হেরে গেল মোহনবাগান। দুর্দান্ত জয়ের ফলে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে উঠে এলেন কোচ রঞ্জন চৌধুরীর ছেলেরা।
মোহনবাগানের বিরুদ্ধে টানা চার ম্যাচে জিতে দুরন্ত ছন্দে থাকা ভবানীপুর উজ্জীবিত ফুটবল উপহার দিয়েছে গোটা ম্যাচেই। এমনিতেই তাদের আক্রমণভাগের ফুটবলার সাহিল হরিজন ও জিতেন মুর্মুরা দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন। এই ম্যাচেও নিজেদের উজাড় করে দিলেন তাঁরা। ৮ মিনিটেই বাঁদিক থেকে আক্রমণে উঠে আসে ভবানীপুর ফুটবলার। কোনওক্রমে রুখে দেন বাগান ডিফেন্ডাররা। ১২ মিনিটে জিতেন মুর্মুর দূরপাল্লার শট বাঁচান মোহনবাগান গোলকিপার দীপ্রভাত ঘোষ। সবুজ-মেরুন আক্রমণ সেভাবে দানা বাঁধেনি। বরং বল দখলের লড়াই থেকে আক্রমণ শানানো সবেতেই টেক্কা দিয়েছে ভবানীপুর।
১৯ মিনিটেই অফসাইডের কারণে গোল বাতিল হয় মোহনবাগানের। চার মিনিট পরই পালটা আক্রমণে ভবানীপুরের গোলমুখী শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন বাগান গোলরক্ষক। ২৭ মিনিটে সুহেল ভাটকে বক্সের ভিতরে আটকে দেন ভবানীপুরের এক ডিফেন্ডার। ৩৫ মিনিটে কিয়ান নাসিরির জোরালো শট পোস্টে লেগে প্রতিহত। প্রথমার্ধের ইনজুরি সময়ে বাঁদিক থেকে নাসিরির নেওয়া ফ্রিকিক অনবদ্য ফিস্ট করে বিপদমুক্ত করেন ইস্টবেঙ্গল খেলে আসা ভবানীপুরের গোলরক্ষক আদিত্য পাত্র। গোটা প্রথমার্ধেই দিশাহীন ফুটবল খেলতে দেখা যায় মোহনবাগানকে।
বিরতির পরও বদলায়নি ম্যাচের ছবি। ৭০ মিনিটে ভবানীপুরের একটি বিপজ্জনক ফ্রিকিক ঠেকিয়ে দেন বাগান গোলরক্ষক। ৭৬ মিনিটে গোলের একেবারে সামনে পৌঁছে গিয়েছিল ভবানীপুর। গোলরক্ষক দীপ্রভাত বল ফিস্ট করতে এগিয়ে এলেও পুরোপুরি সফল হননি। শেষ পর্যন্ত কোনও রকমে বিপদ সামাল দেন মোহনবাগানের ডিফেন্ডাররা। ভবানীপুরের জন্য ডেডলক ভাঙে ৮০ মিনিটে। দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে বাঁ পায়ের ইনস্টেপে দুর্দান্ত গোল করেন সাহিল হরিজন। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে গোল করে গ্যালারিতে থাকা বাবার সঙ্গে তাঁর উদযাপনও নজর কাড়ে।
ভবানীপুরের আনন্দ অবশ্য বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। ৮৬ মিনিটে রক্ষণভাগের মনঃসংযোগের অভাবের সুযোগ নিয়ে সমতা ফেরান বিভান জ্যোতি লস্কর। কিন্তু নাটক তখনও বাকি। দু'মিনিট পরেই দূরপাল্লার দুরন্ত শটে মোহনবাগানের জালে বল জড়িয়ে দেন রবি হাঁসদা। শেষ পর্যন্ত স্কোর লাইন থাকে ভবানীপুরের পক্ষে ২-১। এই জয়ের ফলে শীর্ষে উঠল তারা। আর টানা দুই ম্যাচ হেরে সুপার সিক্সের আশা আরও ক্ষীণ সবুজ-মেরুনের।
