বিশ্বকাপের কয়েক মাস আগেই প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছিল ব্রাজিল (Brazil Football Team)। ষষ্ঠবারের মতো বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) জয়ের স্বপ্ন পূরণে কোনও খামতি রাখতে চায় না পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। তাই শুধু মাঠে ভালো খেললেই হবে না, সব সময় পরিকল্পনা তৈরি রাখতে হবে। প্ল্যান 'এ' ফেল হলে প্ল্যান 'বি'-তে খেলতে হবে। প্রস্তুতিতে সেই বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিচ্ছে তারা। সঙ্গে বিশেষ এক প্রযুক্তিরও সাহায্য নিয়েছে 'সেলেকাও'রা। মরক্কোর বিরুদ্ধে নামার আগে উঠে এসেছে সেই তথ্য।
সেই প্রযুক্তির নাম ‘প্লেয়ার ট্র্যাকিং টেকনোলজি’। যা ব্যবহার করছে ব্রাজিল। যার মাধ্যমে ফুটবলারদের শারীরিক অবস্থার নানা তথ্য সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে এই প্রযুক্তি ফুটবল, ক্রিকেট-সহ নানা খেলায় এই ব্যবহৃত হচ্ছে। এই টেকনোলজিতে ফুটবলারদের একটি বিশেষ পোশাক পরতে হয়, যাকে বলা হয় ‘স্মার্ট ভেস্ট’। দেখতে অনেকটা স্পোর্টস ব্রা-র মতো এই ভেস্টে একাধিক সেন্সর লাগানো থাকে। এগুলোর সাহায্যে হৃদ্স্পন্দন, রক্তচাপ, দৌড়ের সর্বোচ্চ গতি এবং শরীরের আরও নানা তথ্য সংগ্রহ করা হয়। পরে সেই তথ্য বিশ্লেষণ করে কোচের কাছে পাঠানো হয়।
আন্সেলোত্তির হাতে ভিনি-নেইমারদের যাবতীয় তথ্য। ছবি সংগৃহীত।
চলতি বছরের শুরুতেই ব্রাজিল দলের ফুটবলারদের কাছে স্মার্ট ভেস্ট পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ক্লাব ফুটবলে খেলাকালীন সময়েও তাঁরা এটি ব্যবহার করেছেন। ফলে দীর্ঘ কয়েক মাসের ফুটবলারদের তথ্যভাণ্ডার তৈরি হয়েছে ব্রাজিলের। বিভিন্ন দেশের ভিন্ন আবহাওয়ায় ফুটবলারদের পারফরম্যান্স, ক্লান্তির মাত্রা এবং শারীরিক সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছেন কোচ কার্লো আন্সেলোত্তি ও সাপোর্ট স্টাফরা।
ব্রাজিল দলের স্পোর্টস সায়েন্স বিভাগের প্রধান গুইলের্মো পাসোস বলেন, “আমরা প্রতিদিন ক্লাবগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি। তারা আমাদের নিয়মিত সব তথ্য পাঠিয়েছে। ফলে ফুটবলাররা আমাদের সঙ্গে না থাকলেও আমরা তাদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ পেয়েছি। এতে আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। এখন সব তথ্য কোচের হাতে রয়েছে এবং তিনি সেই তথ্যের ভিত্তিতেই নিজের পরিকল্পনা তৈরি করছেন।”
