সব ঠিক থাকলে সোমবারের মিটিংয়ের পরই ঠিক হয়ে যাওয়ার কথা, আসন্ন ইন্ডিয়ান সুপার লিগ (ISL) পরিচালনা করবে আইএসএলের ক্লাবজোট। তবে চমকের জায়গা অন্য একটি জায়গায়। কেন্দ্রীয় ক্রীড়ামন্ত্রী আইএসএলের ক্লাবগুলির সঙ্গে যে মিটিং ডেকেছেন, সেই মিটিংয়ে উপস্থিত থাকছেন, প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল প্যাটেল। পরে ফেডারেশন সভাপতি এবং সচিবকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। কিন্তু ক্লাবগুলিকে এই আলোচনায় বসার জন্য আমন্ত্রণ গিয়েছে কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতর থেকে। সাধারণত, ক্লাবের কাছে যে আমন্ত্রণ যাওয়ার কথা ছিল ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের তরফে।
আইএসএলের ক্লাবগুলি রুখে না দাঁড়ালে ফেডারেশন এক প্রকার ঠিকই করে নিয়েছিল, সামনের ২০ বছরের জন্য কমার্শিয়াল পার্টনার হিসাবে জিনিয়াস স্পোর্টসের হাতে দায়িত্ব তুলে দেবে। কিন্তু ক্লাবগুলি নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে দেখে, ২০ বছরের জন্য জিনিয়াস স্পোর্টসের হাতে দায়িত্ব চলে গেলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে তারা। কারণ, আইএসএলের লভ্যাংশ থেকে ক্লাবগুলি কবে টাকা পাবে, কিছুই জানায়নি। তাছাড়া জিনিয়াস স্পোর্টসের সঙ্গে চুক্তি হয়ে গেলে ছ'মাস পরে ফেডারেশনের নির্বাচনের পর নতুন কোনও কমিটি এলে তারা চাইলেও আগামী ২০ বছর ভালো কোনও ইনভেস্টর নিয়ে আসতে পারবে না। এই সব কারণেই অনেক আগেই সমস্যা সমাধানের জন্য কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতরকে জানিয়েছিল ক্লাবগুলি। কিন্তু বেশ কিছুদিন আগে ক্রীড়া দফতরের হস্তক্ষেপ চাইলেও সমস্যা সমাধান হচ্ছিল না। এরপরেই ক্লাগুলি প্রাক্তন ফেডারেশন সভাপতি প্রফুল প্যাটেলের শরণাপন্ন হয়। অনুরোধ করে ক্লাবদের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারের সঙ্গে কথা বলে সমস্যা সমাধান করতে। কারণ, ফেডারেশন কর্তাদের বলেও কোনও লাভ হবে না।
এরপরেই কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতরের সঙ্গে কথা বলে ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে ক্লাবগুলির সোমবারের মিটিং ঠিক করেন তিনি। এরপরেই সোমবারের মিটিংয়ের জন্য ক্লাবগুলিকে সরাসরি চিঠি পাঠানো হয় কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতরের পক্ষ থেকে। শুরুতে ফেডারেশনকে এই মিটিং নিয়ে কিছুই জানানো হয়নি। সাধারণত, ক্রীড়া দফতরের সঙ্গে ফেডারেশনের অনুমোদিত ক্লাবের মিটিং হলে, ফেডারেশনের পক্ষ থেকেই ক্লাবগুলিকে তা জানানো হয়। এক্ষেত্রে ফেডারেশনকে কিছুই জানায়নি কেন্দ্রীয় ক্রীড়া দফতর। পরে পুরো ব্যাপারটা জানতে পেরে ক্রীড়া দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে ফেডারেশন। এরপরেই আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের।
ফলে বোঝাই যাচ্ছে, সোমবার ক্রীড়ামন্ত্রীর সঙ্গে ক্লাবগুলির মিটিংয়ে ফেডারেশন কর্তাদের খুব একটা কিছু ভূমিকা থাকবে না। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য প্রফুল প্যাটেলের এই মিটিংয়ে উপস্থিতি। ক্লাবগুলি মোটামুটি একটা ব্যাপার পরিস্কার করে দিয়েছে, ফেডারেশন বর্তমান কমিটির লোকজনের থেকে প্রফুল প্যাটেলের উপরেই তাদের ভরসা বেশি। এখন দেখা যাক, সোমবারেই আইএসএলের জট খোলে কি না। অসম্ভব কিছু না ঘটলে সোমবার মিটিংয়েই সিদ্ধান্ত হয়ে যাওয়ার কথা, ক্লাবজোটের হাতেই সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হবে ইন্ডিয়ান সুপার লিগ।
