ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসছে আমেরিকায়। কিন্তু ফুটবলের মহাযজ্ঞ থেকে বিতাড়িত হতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump) স্বয়ং! সূত্রের খবর, ট্রাম্প এবং আমেরিকার অন্যান্য আধিকারিকদের নিষিদ্ধ করা হতে পারে বিশ্বকাপ থেকে। কেবল বিশ্বকাপ নয়, ২০২৮ সালে লস অ্যাঞ্জেলস অলিম্পিক থেকেও ট্রাম্পদের বহিষ্কার করা হতে পারে বলে খবর ছড়াচ্ছে।
কিন্তু ট্রাম্পদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ হবে কেন? এই সম্ভাবনা উঠে এসেছে ওয়াডা অর্থাৎ ওয়ার্ল্ড অ্যান্টি ডোপিং এজেন্সির এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকের অ্যাজেন্ডা দেখে। ওই অ্যাজেন্ডায় বলা হয়েছে, ২০২৩ সাল থেকে ওয়াডার বকেয়া মেটায়নি আমেরিকা। সবমিলিয়ে ৭৩ লক্ষ ডলার বকেয়া রয়েছে তাদের। সেকারণেই ওয়াডার প্রস্তাব, যে দেশের এমন বিরাট অঙ্কের বকেয়া রয়েছে সেই দেশের সরকারি আধিকারিকদের বড়মাপের ক্রীড়া প্রতিযোগিতাগুলিতে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে না। বড় মাপের প্রতিযোগিতা বলতে মূলত ফুটবল বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিককেও বোঝাতে চাইছে ওয়াডা।
বকেয়া অর্থ কেন মেটায়নি মার্কিন প্রশাসন? মতবিরোধের সূত্রপাত ২০১৪ সালের শীতকালীন অলিম্পিক থেকে। সেবার রুশ অ্যাথলিটদের বিরুদ্ধে ডোপিংয়ের অভিযোগ উঠেছিল। আমেরিকার মতে, ওয়াডা সেই অভিযোগ ধামাচাপা দিয়েছে। ২০২৪ প্যারিস অলিম্পিকেও চিনা সাঁতারুদের বিরুদ্ধে ডোপিংয়ের অভিযোগ একইভাবে ওয়াডা এড়িয়ে গিয়েছে বলে সরব হয়েছে মার্কিন প্রশাসন। দলমত নির্বিশেষে এই অভিযোগ তুলেছে আমেরিকার সমস্ত রাজনৈতিক দলই। ওয়াডার একচোখামির প্রতিবাদ করেই বকেয়া মেটায়নি আমেরিকার সরকার।
ফুটবল বিশ্বকাপ হাতে নিয়ে ছবি তোলা, ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনোর সঙ্গে সাক্ষাৎ-সমস্ত কিছুই করে ফেলেছেন ট্রাম্প। নিজের দেশে ফুটবল বিশ্বকাপ আয়োজন নিয়েও যথেষ্ট উত্তেজিত তিনি। কিন্তু সেই মেগা টুর্নামেন্ট থেকে কি নির্বাসিত হতে হবে ট্রাম্পকে? সেই সম্ভাবনা খুবই ক্ষীণ। আগামী মঙ্গলবার এক্সিকিউটিভ কমিটির বৈঠকে যদি ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব গৃহীতও হয়, তাহলেও সেই প্রস্তাব কার্যকর হতে বিশ্বকাপ শেষ হয়ে যাবে। অভূতপূর্ব পরিস্থিতিতে জরুরি বৈঠক ডেকে ট্রাম্পকে নিষিদ্ধ করার একটা উপায় থাকতে পারে। কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্টের মতো ক্ষমতাশালী ব্যক্তিত্বকে কি আদৌ চটাবে ওয়াডা?
