ইস্টবেঙ্গল: ৮ [বিষ্ণু (হ্যাটট্রিক), জেসিন (২) খালিদ (আত্মঘাতী), জিকসন, বিপিন]
সিআইএসএফ: ০
ডার্বিতে হেরে ডুরান্ড অভিযান শুরু করলেও দ্বিতীয় ম্যাচে দুরন্ত ছন্দে ইস্টবেঙ্গল। প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে গেলে সিআইএসএফ প্রোটেক্টরসের বিরুদ্ধে ম্যাচটা মশাল ব্রিগেডের জন্য কার্যত ‘মরণবাঁচন’ ছিল। তিন পয়েন্টের পাশাপাশি গোলপার্থক্যও বাড়িয়ে নিতে হত লাল-হলুদকে। দু'টি ক্ষেত্রেই একশোয় একশো পেয়ে সফল কোচ আন্তোনিও লোপেজ হাবাসের ছেলেরা। ১ আগস্ট, জন্মদিনের প্রাক্কালে বিপক্ষকে ৮-০ গোলে গুঁড়িয়ে দিল ইস্টবেঙ্গল।
শুরু থেকেই আক্রমণের ঝড় তোলে লাল-হলুদ। বিপক্ষের জমাট রক্ষণ ভেঙে গোলের দরজা খুলতে সময় লেগেছিল বটে। কারণ শুরু থেকেই রক্ষণ আঁটসাঁট রেখে নেমেছিল সিআইএসএফ। 'গোল করব না, খাবও না' হয়তো এমন নীতি নিয়েই নেমেছিল সর্বভারতীয় পুলিশ গেমসের বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। ইস্টবেঙ্গলের আক্রমণ আটকানোই যেন ছিল তাদের প্রধান লক্ষ্য। কিন্তু ইস্টবেঙ্গলের মতো শক্তিধর দলকে কেবল ডিফেন্স আগলে রুখে দেওয়া কার্যত অসম্ভব। বাস্তবে সেটাই দেখা গেল। একবার গোলমুখ খুলতেই বিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চৌচির। প্রথমার্ধেই তিন গোল করে সিআইএসএফ-কে কার্যত ছত্রভঙ্গ দিল মশাল ব্রিগেড।
৬ মিনিটে এডমুন্ডের শট ব্লক। খানিক পর হার্দিকের ক্রসও বিপদমুক্ত করে সিআইএসএফের রক্ষণ। কিছুক্ষণ পর এডমুন্ডের কাটব্যাক থেকে জিকসনের শট অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট। ১৩ মিনিটে ফের সুযোগ। এডমুন্ডের শট শরীর ছুড়ে দিয়ে পতন রোধ করেন যতীন্দর। ২৯ মিনিটে ফ্রিকিক থেকে গোলের সুযোগ এসেছিল ইস্টবেঙ্গলের। দানি রামিরেসের নেওয়া ফ্রি-কিক অবশ্য দুরন্ত দক্ষতায় বাঁচিয়ে দেন সিআইএসএফ গোলরক্ষক রাজ মাথুর। পরের মিনিটেই ফের জোড়া সেভ। বাঁ-দিক থেকে আসা ক্রস সামলানোর পর রশিদের শটও আটকে দেন রাজ। একাই তখন সিআইএসএফকে টেনে নিয়ে যাচ্ছিলেন তিনি। কিন্তু ৩৮ মিনিটে আর রক্ষা হয়নি। বক্সের মধ্যে এডমুন্ডের কাটব্যাক। সামনে পিভি বিষ্ণু। এক মুহূর্ত দেরি না করে ব্যাকহিলে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। রাজকে কার্যত দাঁড় করিয়ে রেখে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দেন ২৪ বছরের ফরোয়ার্ড। দ্বিতীয় গোলের জন্য অবশ্য বেশি অপেক্ষা করতে হয়নি। ৪২ মিনিটে বাঁ-দিক থেকে বিষ্ণুর নিচু ক্রস। সিআইএসএফ অধিনায়ক খালিদের গায়ে লেগে বলের দিক বদলে যায়। এরপর রাজকে ছুঁয়ে বল জালে। প্রথমার্ধের সংযুক্ত সময়েই তৃতীয় গোল জিকসনের। ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে বিরতিতে যায় ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধের শেষ ১৫ মিনিটে কার্যত ম্যাচের ছবিই বদলে দেয় লাল-হলুদ। তখনই হয়তো 'দেওয়াল লিখন' পড়ে ফেলেছিল সিআইএসএফ।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ঝাঁজ আরও বাড়ায় ইস্টবেঙ্গল। বাঁ-প্রান্ত থেকে সন্দীপ মাণ্ডির মাপা ক্রস থেকে দুরন্ত ওভারহেড কিকে বল জালে জড়িয়ে দেন বিষ্ণু। ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোল করে ব্যবধান ৪-০ করেন তিনি। ৬৪ মিনিটে ডানদিক থেকে ভেসে আসা নিখুঁত ক্রসে গোল করে স্কোরলাইন ৫-০ করেন বিপিন সিং। ৭০ মিনিটে ডান দিক থেকে পাওয়া দুর্দান্ত থ্রু বল ধরে গোলরক্ষককে পরাস্ত করে নিচু শটে গোল জেসিন টিকের। এভাবেই হাফডজন গোলে এগিয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। ৬ গোলেও 'খিদে' কমেনি লাল-হলুদ ফুটবলারদের। ৭৩ মিনিট আবারও রাজ মাথুরকে পরাস্ত করে নিজের দ্বিতীয় এবং দলের সপ্তম গোলটি করেন জেসিন। ঠিক দু’মিনিট পর বিপিন সিংয়ের নিখুঁত ক্রস থেকে সহজই বল জালে পাঠিয়ে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন বিষ্ণু। মশাল বাহিনীর একচেটিয়া আধিপত্যে স্কোরলাইন তখন ৮-০। তবে এত বড় ব্যবধানের জয়েও লিগ টেবিলের শীর্ষে ওঠা হল না তাদের। মোহনবাগানের বিরুদ্ধে হারের ফলে হেড-টু-হেড রেকর্ডে এখনও পিছিয়ে লাল-হলুদ। ফলে দ্বিতীয় স্থানেই থাকতে হচ্ছে ইস্টবেঙ্গলকে। সাউথ ইউনাইটেডকে টপকে দুইয়ে উঠে এসেছে তারা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে সেই সাউথ ইউনাইটেডের বিরুদ্ধেই নামবে লাল-হলুদ।
