বিশ্বকাপ শেষ হতেই বয়কটের হুমকি। ফিফা বনাম উয়েফার ধুন্ধুমার যুদ্ধ ঘিরে উত্তাল ফুটবল দুনিয়া। একদিকে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা। অন্যদিকে ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বেসর্বা সংস্থা। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর বিশ্বকাপ 'বিক্রি'র চক্রান্তের প্রতিবাদে একত্রে বয়কটের ডাক দিয়েছে ইউরোপের ৫৫টি দেশ। এবার তার সঙ্গে যুক্ত হল কনকাকাফও। অর্থাৎ উত্তর আমেরিকার দেশগুলোর সংগঠনও ফিফার বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করে দিল। মোট ৯৬টি দেশ বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছে।
এই বিশ্বকাপ 'বিক্রি'র বিষয়টা ঠিক কী? ফিফার পরিকল্পনা অনুযায়ী, ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইসেস’ নামে একটি পৃথক সংস্থা গড়া হতে পারে। বিশ্বকাপ ও ক্লাব বিশ্বকাপের মতো প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক পরিচালনার দায়িত্ব থাকবে তাদের হাতে। সেই সংস্থার অন্তত ২১ শতাংশ মালিকানা বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার ভাবনা রয়েছে। বিশ্বকাপ পরিচালনার জন্য ২০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের একটি কোম্পানি গঠন করা হবে। এর মধ্যে বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ১০ বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্ব বিক্রি করা হবে। সেই অর্থ ‘ফিফা ফাস্ট ফরোয়ার্ড প্রোগ্রাম’-এর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলির ফুটবল সংস্থাগুলির উন্নয়নে খরচ করা হবে।
কোন সংস্থা এই বিশ্বকাপ 'কিনতে' এগিয়ে আসছে? তার নাম থ্রাইভ ইটারনাল। মালিকের নাম জোশুয়া কুশনার। তাঁর আরও একটি পরিচয় আছে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের ভাই। অনেকে বিশ্বকাপের সময় ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ওঠাবসার কারণ খুঁজে পাচ্ছেন। আর এই সিদ্ধান্তে তীব্র চটেছে ইউরোপের দেশগুলো। ৫৫টি সদস্য দেশ একসঙ্গে বিশ্বকাপ বয়কটের ডাক দিয়েছে। নিঃসন্দেহে চাপ বাড়ানোর পরিকল্পনা। কিন্তু এই অবস্থান থেকে না টললে ২০৩০-র বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন স্পেন বা ফ্রান্স-জার্মানি-পর্তুগাল-ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলো খেলবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে। উয়েফা তাদের বিবৃতিতে স্পষ্ট জানিয়েছে, এই মডেল তারা মানবে না। ফুটবল 'বিক্রি'র অধিকার কারও নেই।
তারা লিখেছে, 'এই প্রস্তাবগুলো কার্যকর থাকা পর্যন্ত উয়েফার কোনও দেশ ফিফার কোনও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করবে না। ফিফাকে বাধ্যতামূলক লিখিত আশ্বাস দিতে হবে যে ভবিষ্যতে তারা আর এরকম কোনও পদক্ষেপ নেবে না।' তাদের পাশে এসে দাঁড়িয়েছে কনকাকাফও। উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ৪১টি দেশের মিলিত সংগঠন জানিয়েছে, 'ফিফার গর্ভনেন্স বডি যেভাবে আলোচনা ছাড়াই দ্রুত এটা জোর করে চাপিয়ে দিতে চাইছে, আমরা তাতে উদ্বিগ্ন।' সদ্য বিশ্বকাপ আয়োজন করা আমেরিকা ও কানাডা জানিয়েছে, তারা এই সিদ্ধান্তে সম্পূর্ণ সহমত।
