শুনতে যতই ভালো লাগুক, ভারতীয় ফুটবলে ২০ বছরের জন্য ২০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে চলেছে জিনিয়াস স্পোর্টস। আইএসএলের ক্লাবরা বুঝে যায়, শুনতে ভালো লাগলেও, আসলে ক্লাবগুলির পকেটে এক টাকাও ঢুকবে না। উল্টে এন্ট্রি ফি দিয়ে আইএসএল খেলতে হবে। তাই শুরু থেকেই জিনিয়াস স্পোর্টসের এই এই প্রস্তাবের বিরুদ্ধে কথা বলে আসছে আইএসএলের ক্লাবরা। এবার ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট কল্যাণ চৌবেকে ক্লাবগুলির পক্ষে কোনও সিইও নয়, সরাসরি ক্লাব মালিকরা চিঠি লিখলেন।
তাঁরা জানালেন, কমার্শিয়াল রাইটস নিয়ে যেভাবে ফেডারেশন বিড করেছে, সেই বিড প্রক্রিয়া নিয়ে ক্লাব মালিকরা একদমই সন্তুষ্ট নন। আর ফলে নতুন ভাবে নতুন করে বিড প্রক্রিয়া চাইছে ক্লাবরা। আর এই পুরো ব্যাপারটা পেশাদারি পদ্ধতিতে ঠিকভাবে করার জন্য ক্লাব মালিকরা একটি 'ক্লাব ওয়ার্কিং কমিটি'-র প্রস্তাব দিয়েছে। যে কমিটিতে ক্লাব মালিকদের প্রতিনিধি হিসেবে থাকবেন ভাবেশ জিন্দাল, নিখিল নিম্নাগাড্ডা এবং রোহন শর্মা। এই কমিটিতে রাখা হবে পাঁচজন ক্লাব সিইও-কেও। তাঁরা হলেন, রবি পুষ্কর, একাংশ গুপ্তা, ড্যারেন ক্যালডেইরা, ধ্রুব সুদ এবং বিনয় চোপড়া।
এতদিন বিভিন্ন ইস্যুতে ক্লাবদের সিইও-রা সম্মিলিত ভাবে চিঠি দিতেন ফেডারেশনকে। এই প্রথম একসঙ্গে | ১৪টি ক্লাবের মালিক চিঠি দিয়ে কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করা নিয়ে বিড প্রক্রিয়ার আপত্তি জানালেন। যেখানে সঞ্জীব গোয়েঙ্কা, আদিত্য আগারওয়ালের পাশাপাশি সই করেছেন জন আব্রাহাম, পার্থ জিন্দাল, ভিতা দানির মতো ক্লাব মালিকরাও। ফলে এই চিঠির পর জেনারেল বডির মিটিং ডেকে জিনিয়াস স্পোর্টসের হাতে আগামী ২০ বছরের জন্য কমার্শিয়াল পার্টনারের দায়িত্ব তুলে দেওয়া ভারতীয় ফুটবল ফেডারেশনের কর্তাদের জন্য কিছুটা কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়াল।
ক্লাব মালিকরা যে চিঠি এদিন ফেডারেশন সভাপতিকে পাঠিয়েছেন, তাতে জানানো হয়েছে, ক্লাব মালিকরা নিজেদের মধ্যে বিস্তারিত আলোচনার পরই এই চিঠি পাঠাচ্ছেন। তাঁরা চিঠিতে লিখেছেন, লিগের বাণিজ্যিক এবং শাসনতান্ত্রিক কাঠামো এমন একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত, যেখানে এতদিন ধরে ভারতীয় ফুটবলে যারা অর্থ বিনিয়োগ করে লিগকে টিকিয়ে রেখেছে, তাদের পক্ষের কিছু ভাবনা-দৃষ্টিভঙ্গীরও প্রতিফলন ঘটবে। একই সঙ্গে ক্লাবগুলি জানিয়েছে, পুরো বিড প্রক্রিয়াটি যেভাবে চলেছে, সেই প্রক্রিয়াটি নিয়ে ক্লাবগুলি একদমই সন্তুষ্ট নয়। কারণ, বিড প্রক্রিয়াটা করা হচ্ছে ভারতীয় ফুটবলে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের কথা বিবেচনা করে। ক্লাব মালিকরা মনে করছেন, কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করার জন্য এরকম একটা বিড প্রক্রিয়া আরও বেশি সবার সঙ্গে আলোচনা করে করা উচিত ছিল। কারণ, ভারতীয় ফুটবলের দীর্ঘমেয়াদী কোনও পরিকাঠামো তৈরি করতে গেলে ক্লাব মালিকদের সমর্থন থাকাটা খুবই জরুরি। কারণ, ক্লাবগুলিই হচ্ছে ইন্ডিয়ান সুপার লিগের প্রাথমিক বিনিয়োগকারী এবং দীর্ঘমেয়াদী অংশীদার।
প্রসঙ্গত, ফেডারেশন আগেই প্রস্তাবে ঠিক করেছিল, লিগ চালানোর জন্য ক্লাবগুলির কাছে থাকবে ৬০ শতাংশ শেয়ার। অথচ সেই ক্লাবদের মালিকদের সমর্থন বা সম্মতি না নিয়ে ফেডারেশন ২০ বছরের জন্য কমার্শিয়াল পার্টনার ঠিক করে ফেলছে, এটা ঠিক নয়। এই সব কারণেই ক্লাব মালিকরা 'ক্লাব ওয়ার্কিং কমিটি' গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে। যে কমিটির দায়িত্ব হবে, ক্লাবগুলির প্রস্তাবের প্রতিনিধিত্ব করা। আর এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ফেডারেশনের সঙ্গে যাবতীয় পরিকল্পনা আদান প্রদান করা যাবে। ফলে ভারতীয় ফুটবলের স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি হবে।
