কয়েক বছর আগেও কী অরল্যান্ডো গিল জানতেন এভাবে বদলে যাবে তাঁর জীবন? জার্মানি ম্যাচের পর সারা দেশের কাছে তিনিই হয়ে উঠবেন নায়ক? ম্যাচ শেষে প্যারাগুয়ে গোলকিপার গিলকে ঘিরে সতীর্থদের যে বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসের ঢেউ একেবারেই অস্বাভাবিক নয়। সারা ম্যাচে শুধু দুর্ভেদ্য হয়ে ওঠাই নয়, টাইব্রেকারেও দুটি শট বাঁচিয়ে চারবারের বিশ্বজয়ীদের এবারের প্রতিযোগিতা থেকে সোজা দেশে পাঠিয়ে দিয়েছেন একা গিল।
অথচ জার্মান বধের এই অন্যতম নায়ককে বছর চারেক আগে এতটাই অর্থ কষ্টে পড়তে হয়েছিল, যে সদ্যোজাত সন্তানের চিকিৎসার জন্য বিক্রি করেছিলেন নিজের জার্সি, বুট সহ একাধিক ক্রীড়া সরঞ্জাম। এর মধ্যে ছিল বয়সভিত্তিক জাতীয় দলে খেলা প্রিয় জার্সিও। গত বছরই তাঁর স্ত্রী মেলিসা আলভোস এক বার্তায় জানিয়েছিলেন, 'আমাদের সন্তানের চিকিৎসার জন্য নিজের সবটুকু উজাড় করে দিয়েছে ওর বাবা। অর্থের জোগানের জন্য কোনও কিছু না ভেবেই নিজের জার্সি, জুতো, অনূর্ধ্ব ২০ জাতীয় দলের জার্সি বিক্রি করে দিয়েছে। যেগুলো এখন ওর কাছে স্মৃতি ছাড়া আর কিছুই নয়।'
আর গিল? বদলে যাওয়া সময়ের সামনে দাঁড়িয়ে তিনি কী বলছেন? তাঁর মুখে নিজের ভাইপোর কথা। এই মুহূর্তে তাঁর ভাইপো কঠিন রোগে হাসপাতালে ভর্তি। এদিন জয়ের পর ম্যাচের সেরা হয়ে তিনি বলেন, "আলেকজান্ডার এই ট্রফি তোমার জন্য। আশা করছি তুমি দ্রুত সেরে উঠবে আবার। দূর থেকেই তোমার গডফাদার তোমাকে সমর্থন করে যাচ্ছে।" তিনি আর্জেন্টিনায় ক্লাব ফুটবলে যোগ দেওয়ার পর থেকেই নজরে পড়ে গিয়েছিলেন জাতীয় কোচের। ২০২৫ সালে ধীরে ধীরে প্রথম একাদশেও নিয়মিত হয়ে যান এই ছয় ফুট উচ্চতার গোলকিপারটি। বাকিটা ইতিহাস। ম্যাচ শেষ হতেই আনন্দে চোখে জল এসে গিয়েছিল জুলিও এনসিসোরও। তাঁর গোলেই এদিন এগিয়ে গিয়েছিল প্যারাগুয়ে। এই জয় উৎসর্গ করছেন প্রয়াত দাদুকে। বলেন, "জীবনের সেরা দিন। সাফল্য উৎসর্গ করছি দাদুকে। তিনি বেঁচে থাকলে গর্ব অনুভব করতেন। আকাশের ঠিকানায় দাদুকে চুমু পাঠালাম।"
