shono
Advertisement
FIFA World Cup 2026

জার্মানির জাবরা ফ্যান, জমি বিক্রির অর্থে ৮ কিমি দীর্ঘ পতাকা বানিয়ে তাক লাগালেন বাংলাদেশি ভক্ত!

বিশ্বকাপ আসতেই তিনি টাঙিয়েছেন জার্মানির দীর্ঘ পতাকা। তাঁর স্বপ্ন, একদিন এই বিশাল পতাকা জার্মানির কোনও জাদুঘরে জায়গা পাবে।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 05:22 PM Jun 12, 2026Updated: 09:14 PM Jun 12, 2026

তিনি জার্মানির জাবরা ফ্যান! বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) ফুটবল এলেই নতুন করে উন্মাদনায় মেতে ওঠেন মাগুরার আমজাদ হোসেন। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। প্রিয় দল জার্মানির জন্য তৈরি করেছেন প্রায় ৮ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা। যা ইতিমধ্যেই সবার নজর কেড়েছে। শুধু এবারের বিশ্বকাপ নয়, প্রতিটি বিশ্বকাপেই জার্মানিকে নিয়ে তাঁর এমন আবেগ থাকে। বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের মাগুরার এই জার্মানি-ভক্তের স্বপ্ন, একদিন তাঁর তৈরি এই বিশাল পতাকা জার্মানির কোনও জাদুঘরে স্থান পাবে।

Advertisement

গত বুধবার ওপার বাংলার সদর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে বছর ৭২-এর আমজাদ তাঁর তৈরি সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকাটি প্রদর্শন করেন। বাদ্যযন্ত্রের তালে তালে আয়োজিত এ প্রদর্শনী নিয়ে উন্মাদনা ছিল তুঙ্গে। মাঠজুড়ে ফুটবলপ্রেমীদের ভিড় দেখা যায়। প্রদর্শনীতে আর কী কী হয়েছিল? সেখানে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মাধ্যমে ছোট একটি ট্রাকে বলের আদলে মোড়ানো পতাকাটি মাঠে আনা হয়। পরে সমর্থকদের উপস্থিতিতে পতাকাটি উন্মোচন করা হলে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের তৈরি হয়। আমজাদের এই আয়োজন দেখতে ঢাকা থেকেও বহু ফুটবলপ্রেমী মাগুরায় ছুটে এসেছিলেন। মাঠে উপস্থিত একজন জানান, ২০০৬ সাল থেকেই তিনি এই পতাকা প্রদর্শনী দেখতে আসছেন। তাঁর কথায়, গোটা এলাকায় ফুটবল উন্মাদনা যেভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, তা সত্যিই অভূতপূর্ব।

৭.৫ কিমি দীর্ঘ বাংলাদেশের পতাকা। ছবি সংগৃহীত।

পেশায় কৃষক আমজাদ হোসেনের বাড়ি মাগুরা পুরসভার ঘোড়ামারা এলাকায়। জার্মানির প্রতি তাঁর এই গভীর ভালোবাসার নেপথ্যে এক বিশেষ স্মৃতি। ২০০৪-০৫ সালের দিকে তিনি জটিল শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হন। পরে চিকিৎসকের পরামর্শে জার্মানি থেকে আমদানি করা একটি ওষুধ খেয়ে সুস্থ হয়ে ওঠেন। সেই কৃতজ্ঞতা থেকেই ২০০৬ সালের বিশ্বকাপে জার্মানিকে ভালোবাসার প্রতীক হিসাবে একটি পতাকা তৈরির সিদ্ধান্ত নেন তিনি। প্রসঙ্গত, মাগুরা শহরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটার শাকিব আল হাসানের জন্ম।

মাগুরায় বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে জার্মানি ফুটবল দলের প্রায় সাড়ে সাত কিলোমিটার পতাকা প্রদর্শন করেন আমজাদ। প্রথম বছর আমজাদ প্রায় দেড় কিলোমিটার (৩৫০ গজ) দীর্ঘ পতাকা তৈরি করেন। এরপর প্রতিটি বিশ্বকাপেই পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়তে থাকে। ২০১০ সালে ২ দশমিক ৫ কিলোমিটার, ২০১৪ সালে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার, ২০১৮ সালে ৫ দশমিক ৫ কিলোমিটার ও ২০২২ সালে তৈরি করেছিলেন এই সাড়ে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ জার্মানির পতাকা। এ বছর সেই পতাকাটিই টাঙিয়েছেন।

শুরুর দিকে পরিবারের সমর্থন না পেলেও নিজের সিদ্ধান্তে অটল ছিলেন আমজাদ। পতাকার দৈর্ঘ্য বাড়াতে তিনি জমিও বিক্রি করেছেন। ২০১৪ সালে ৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা তৈরির জন্য প্রায় ২০ শতক জমি ও ২০১৮ সালের বিশ্বকাপের আগে আরও ১০ শতক জমি বিক্রি করেন। ২০১৪ সালে জার্মানি বিশ্বকাপ জয়ের পর বাড়িতে প্রজেক্টরের মাধ্যমে খেলা দেখার আয়োজন করেন আমজাদ। পাশাপাশি এলাকাবাসীর জন্য ভোজের ব্যবস্থাও করেছিলেন।

আমজাদের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নজর কেড়েছে জার্মান দূতাবাসের। ২০১৪ সালে তৎকালীন জার্মান চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ফার্দিনান্দ ভন ওয়েহি মাগুরায় এসে তাঁকে সংবর্ধনা দেন এবং জার্মানি জাতীয় ফুটবল দলের ফ্যান ক্লাবের আজীবন সদস্যপদ প্রদান করেন। আগামী দিনেও পতাকার দৈর্ঘ্য আরও বাড়ানোর আশা প্রকাশ করে আমজাদ বলেন, ‘‘এই পতাকা আমার কাছে সন্তানদের চেয়ে কম নয়।’’ তবে তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা, এই বিশাল পতাকাটি যেন জার্মানির কোনও জাদুঘরে সংরক্ষিত হয়।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement