১৯৮২ সাল। চুয়াল্লিশ বছর আগের একদিন। স্পেনে বসেছে ফুটবল বিশ্বকাপের আসর। বিশ্বসেরা দলগুলোর সঙ্গে প্রথমবারের মতো পা রেখেছে কুয়েত। অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে। কিন্তু আত্মবিশ্বাসে টগমগ। প্রথম ম্যাচে চেকস্লোভাকিয়ার বিরুদ্ধে ১-১ ড্র। এরপর ‘যুদ্ধ’ শক্তিশালী ফ্রান্সের সঙ্গে। সেই খেলা গ্যালারিতে বসে দেখেছিলেন কুয়েতের রাজপুত্র ও ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শেখ ফাহাদ আল আহমেদ আল জাবের আল সাবাহ। সবাই তাঁকে ডাকতেন ‘প্রিন্স ফাহাদ’। এই লেখা বিশ্বকাপের মঞ্চে তাঁর কাণ্ডকারখানা নিয়ে। কীভাবে তিনি মাঠে ঢুকে রেফারির সিদ্ধান্ত বদলে ফেলেছিলেন, রইল সেই গল্প।
অতি বড় কুয়েত ভক্তরাও সেদিন প্রিয় দলের হয়ে বাজি ধরেননি। ‘লে ব্লুজ’দের হারানো কার্যত এভারেস্ট জয়ের সমান। শুরুতে সাধ্যমতো লড়াই করছিল কুয়েত। কিন্তু ধীরে ধীরে ম্যাচে ফিরে আসে ফ্রান্স। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ৩-০ গোলে এগিয়ে যায় তারা।
আসল নাটক তখনও বাকি। দ্বিতীয়ার্ধে আবদুল্লাহ আল বুলৌশির গোলে ব্যবধান কমায় কুয়েত। খেলার বয়স তখন ৭৯ মিনিট। আক্রমণে ফ্রান্স। তখনই ভেসে আসে ‘ভৌতিক’ হুইসেলের শব্দ। কুয়েত ফুটবলাররা ভেবেছিলেন, খেলা থামানোর নির্দেশ দিয়েছেন রেফারি। তাঁরা দাঁড়িয়ে পড়েন। সেই সুযোগে গোল করেন ফরাসি মিডফিল্ডার আলাইন গিরেস। রেফারিও ঘোষণা করেন, গোওওওল...
এর পরেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। রেফারির অন্যায়ে সরব হয়ে ওঠেন কুয়েত ফুটবলাররা। একটাই যুক্তি, বাঁশি শুনে তাঁরা ভেবেছিলেন খেলা বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছেন রেফারি। সেই কারণেই কয়েকজন খেলোয়াড় দাঁড়িয়ে পড়েন। তবে এসব কিছু শোনার পরেও রেফারি তাঁর নিজ সিদ্ধান্তে অনড়। এই সবকিছু গ্যালারি থেকে বসে দেখছিলেন প্রিন্স ফাহাদ। বেশিক্ষণ আর দর্শকাসনে বসে থাকতে পারেননি। তাঁকে দেখা যায় লন ধরে মাঠের দিকে নেমে আসতে।
মাঠে নেমেই রেফারির কাছে কৈফিয়ত চান। শুরু হয় তর্ক। যা সলতে পাকাতে পাকাতে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এমনকী ম্যাচ বন্ধের হুমকিও দেন মেজাজ সপ্তমে ওঠা রাবজপুত্র। শেষ পর্যন্ত সেই চাপেই গোল বাতিল করে ড্রপ বলের মাধ্যমে খেলা শুরু করেন সোভিয়েত ইউনিয়নের রেফারি মিরোস্লাভ স্টুপার। যদিও সেই ম্যাচ শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলে জিতেছিল ফ্রান্স। ম্যাচে পর ফ্রান্সের মানুয়েল আমোরোসের টিপ্পনী, “আমরা দেখলাম কুয়েতের যুবরাজ মাঠে নামছেন। তাঁর সঙ্গে ছিল ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষীরা। তিনি এমন আচরণ করেছিলেন, মনে হচ্ছিল যেন তিনিই ফিফার প্রেসিডেন্ট!” নটে গাছটি এখনও মুড়োয়নি। সোভিয়েত রেফারিকে আজীবনের জন্য নির্বাসিত করে ফিফা। দিতে হয় জরিমানা। শেষ ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে ১-০ গোলে হেরে বিশ্বকাপ অভিযান শেষ করে। এরপর কুয়েত আজও বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরতে পারেনি।
