কথায় বলে, চল্লিশেই চালসে। কিন্তু এবারের ফিফা বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) দেখল চল্লিশের এক যুবককে, যাঁর হাতে আটকে যায় মহাশক্তিধর প্রতিপক্ষ। সোমবার রাতে স্পেনের যাবতীয় আক্রমণ একাহাতে প্রতিরোধ করে নায়ক হয়ে উঠেছেন 'পুঁচকে' কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা (Vozinha)। ফুটবলমহলে তাঁকে নিয়ে জোর চর্চা। একইসঙ্গে সোশাল মিডিয়াতেও হইচই ফেলে দিয়েছেন ভোজিনহা। ৫০ হাজার থেকে ৫০ লাখে পৌঁছে গিয়েছে তাঁর ফলোয়ার সংখ্যা।
কুরাসাওয়ের মতো কেপ ভার্দেও বিধ্বস্ত হবে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের কাছে, এমনটাই ধরে নিয়েছিল ফুটবলবিশ্ব। কিন্তু একাহাতে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়েছেন ৪০ বছরের ভোজিনহা। একের পর এক নিশ্চিত গোল রুখেছেন। বিশ্বকাপ অভিষেক ম্যাচেই স্পেনের মতো শক্তিশালী দলের বিরুদ্ধে ছিনিয়ে এনেছেন এক পয়েন্ট। ম্যাচ চলাকালীনই হুহু করে বাড়তে থাকে ভোজিনহার ফলোয়ার। ম্যাচ শুরুর আগে ইনস্টাগ্রামে ৫০ হাজার ফলোয়ার ছিল তাঁর। মঙ্গলবার সকালে পর্যন্ত সেটা ৫০ লক্ষ পেরিয়ে গিয়েছে। উল্লেখ্য, কেপ ভার্দের জনসংখ্যা ৫ লক্ষ ২৯ হাজার। তার দশগুণেরও বেশি মানুষ এখন ফলো করেন জাতীয় দলের গোলকিপারকে।
অনবদ্য পারফরম্যান্সের পর ম্যাচ শেষে ভোজিনহার চোখে আনন্দাশ্রু। ভেজা চোখেই জানালেন, জাতীয় দলে খেলেছেন ২০১২ থেকে। কিন্তু বহুবার ফুটবল ছেড়ে দেওয়ার কথা ভাবতেন। চল্লিশ বছর বয়সে এসে বিশ্বকাপ খেলার সুযোগ পেয়ে তিনি আপ্লুত। বলছেন, "সারা জীবন তো এই স্বপ্নটাই দেখেছি, এই মুহূর্তটা পাওয়ার জন্য প্রাণপাত করেছি। আমার আগের অনেক প্রজন্ম এই স্বপ্ন দেখলেও তা সত্যি হয়নি। এখন আমাদের স্বপ্নপূরণের সময়। আমরা সকলেই খুব খুশি। সকলেই কঠোর পরিশ্রম করেছে। তবে আমরা এই মঞ্চের যোগ্য। বিশ্বের অন্যতম সেরা স্পেনের বিরুদ্ধে দারুণ খেলেছি আমরা। "
উল্লেখ্য, সোমবার স্প্যানিশ আর্মাডাকে একাই রুখে দিয়েছেন ভোজিনহা। কখনও স্পেনের ডিফেন্ডার লাপোর্তের হেড, কখনও বা ওয়ারজাবালের শট, সব আটকে গিয়েছিল তাঁর হাতে। একটা সময় ম্যাচটা পরিণত হয়েছিল স্পেন বনাম ভোজিনহা। গোটা ম্যাচ জুড়ে আফ্রিকার দেশের গোল লক্ষ্য করে ৮টি শট মেরেছে স্পেন। সবক'টাই আটকে গিয়েছে 'বুড়ো' ভোজিনহার হাতে।
