দেশের হয়ে প্রথম এবং শেষ বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) খেলতে নেমে রূপকথার জন্ম দিয়েছেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। সোমবার রাতে মহাশক্তিধর স্পেনের যাবতীয় আক্রমণ রুখে দিয়ে রাতারাতি নায়ক বনে গিয়েছেন বছর চল্লিশের গোলকিপার। তবে স্বপ্নপূরণের সেই মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারেননি মা। মাঠে বসে দেখতে পাননি ছেলের রাজকীয় অভিষেক। ম্যাচের পর ভোজিনহা বলেছিলেন, অর্থের অভাবে তাঁর মা বিশ্বকাপ দেখতে আসতে পারেননি। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে চলেছে। ভিসা পেলেন ভোজিনহার মা। বিশ্বকাপে রিইউনিয়নের অপেক্ষায় কেপ ভার্দের মহানায়ক।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা ইভোরার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ করেছে আমেরিকার বিদেশ দপ্তর। আসলে কেপ ভার্দের নাগরিকদের জন্য় আমেরিকার দরজা কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, কেপ ভার্দের আমজনতা আমেরিকায় এলে ভিসার মেয়াদ ফুরনোর পরেও দেশে ফিরতে চান না। সেটা রোখার জন্য কেপ ভার্দের নাগরিকদের থেকে মোটা অঙ্ক জমা রাখে মার্কিন প্রশাসন। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্কটা ১৪ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা।
তবে স্পেন ম্যাচের পর ভোজিনহার কান্না নাড়িয়ে দিয়েছে আমেরিকার প্রশাসনকেও। উদ্যোগ নেন মার্কিন কংগ্রেসম্যান হাকিম জেফ্রিস। আমেরিকার সেক্রেটারি অফ স্টেট পদে থাকা মার্কো রুবিওর সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেন তিনি। বলেন, "স্পেনের বিরুদ্ধে ড্র করে গোটা বিশ্বকে অনুপ্রাণিত করেছে কেপ ভার্দে। আমেরিকা-সহ যেখানে যেখানে তাদের সমর্থকরা রয়েছে, তারা সেই জয় সেলিব্রেট করেছে। কিন্তু ভোজিনহা কাঁদতে কাঁদতে জানান, তাঁর মা ভিসা সমস্যার কারণে মাঠে হাজির থেকে ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থাকতে পারেননি। কোনও মায়েরই এমন মুহূর্ত মিস করা উচিত নয়।"
এরপরেই সুখবর দেন জেফ্রিস। জানান, ভোজিনহার মায়ের ভিসার আবেদন মঞ্জুর হয়েছে। এমনকী সমস্ত সরকারি ফি মকুব করা হয়েছে। জানা গিয়েছে, স্টেট ডিপার্টমেন্টের সঙ্গে আলোচনা করেই মা-ছেলের রিইউনিয়নের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। সুতরাং উরুগুয়ের বিরুদ্ধে ম্যাচে গ্যালারিতে উপস্থিত থাকতে পারবেন ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা ইভোরা। তখন যে আবেগঘন মুহূর্ত তৈরি হতে চলেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। খুব শীঘ্রই তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছবেন। ইতিমধ্যেই তাঁকে আমেরিকাগামী বিমানবন্দরে দেখা গিয়েছে। উল্লেখ্য, একাহাতে স্প্যানিশ আর্মাডাকে রুখে দিয়েছিলেন ভোজিনহা। কখনও স্পেনের ডিফেন্ডার লাপোর্তের হেড, কখনও বা ওয়ারজাবালের শট, সব আটকে গিয়েছিল তাঁর হাতে। একটা সময় ম্যাচটা পরিণত হয়েছিল স্পেন বনাম ভোজিনহায়। ম্যাচজুড়ে আফ্রিকার দেশের গোল লক্ষ্য করে ২৮টি শট মারে স্পেন। সবই আটকে গিয়েছে ‘বুড়ো’ ভোজিনহার হাতে। এই আবহেই তাঁর মায়ের ভিসা পাওয়ার খবর সামনে এল। তাতে খুশি ফুটবলপ্রেমীরাও।
