shono
Advertisement
Narendranath Chakraborty

মমতার সঙ্গে থাকতে চাইছেন না কেউই! প্রদীপ, রবীন্দ্রনাথের পর এবার পদ ছাড়লেন সদ্য নিযুক্ত নরেন

শারীরিক অসুস্থার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা লিখে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি দেন তিনি।
Published By: Arpita MondalPosted: 07:08 PM Jun 19, 2026Updated: 07:43 PM Jun 19, 2026

রাজ্যে পালাবদলের দিন কয়েকের মধ্যেই দলের সব কমিটি ভেঙে দিয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর রাজ্য-সহ সব জেলায় নতুন করে কমিটি গঠন করা হয়। উল্লেখ্য, যে কমিটিতে মূলত প্রবীণ ও অভিজ্ঞ নেতাদেরই অগ্রাধিকার দিয়েছিলেন 'কালীঘাট তৃণমূলের' সুপ্রিমো। কিন্তু মনে হচ্ছে, মমতার সঙ্গে আর থাকতে চাইছেন না কেউই। সেই কমিটি থেকেও একের পর এক বেরিয়ে ইস্তফা দিচ্ছেন মমতাপন্থী নেতারা। এবার পশ্চিম বর্ধমানের জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ ছাড়লেন নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। শারীরিক অসুস্থার কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতির কথা লিখে তৃণমূলের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি দেন তিনি।

Advertisement

বুধবার রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন তাঁকে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে শারীরিক অসুস্থ থাকার কারণে তিনি এই দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তৃণমূল নেতা।

নতুন কমিটি গড়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন প্রদীপ সরকার। ঠিক তার পরপরই পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি পদ ছাড়েন রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়। এবার পদ ছাড়াদের তালিকায় পশ্চিম বর্ধমানের নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। বুধবার রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে তিনি জানান, ফেসবুকের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন তাঁকে জেলার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে শারীরিক অসুস্থ থাকার কারণে তিনি এই দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয় বলে জানান তৃণমূল নেতা।

সভাপতির পদ থেকে ইস্তফার কথা জানিয়ে চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে চিঠি নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর।

গত শনিবার তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সভানেত্রী চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য দলের বিভিন্ন জেলার সভাপতিদের নাম ঘোষণা করে তালিকা প্রকাশ করেন। এর মধ্যে পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি হিসেবে ফের একবার নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর নাম ঘোষণা করা হয়েছিল। এই তালিকা প্রকাশের পরেই পশ্চিম বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি চেয়ে চিঠি দিলেন নরেন। 

দীর্ঘদিনের রাজনীতিবিদ নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী। পাণ্ডবেশ্বরের বিধায়ক ছিলেন। এবারের বিধানসভা নির্বাচনেও তৃণমূলের তরফে টিকিট পেয়েছিলেন তিনি। তবে তৃণমূলের ভরাডুবি হতেই তাঁর বিরুদ্ধে নানারকম অভিযোগ উঠতে শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ ছিল, সাধারণ মানুষের প্রাপ্য সরকারি সামগ্রী বিতরণ না করে দীর্ঘদিন ধরে সেগুলি ব্যক্তিগত অফিস ঘরের গোডাউনে মজুত করে রেখেছেন বিধায়ক। এরপরই নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাড়ি ও কার্যালয় নরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তীর বাড়ি ও কার্যালয় ঢুড়ে উত্তেজিত জনতা। এরপরই প্রকাশ্যে আসে চাঞ্চল্যকর বিষয়। দেখা যায়, বিধায়কের কার্যালয়ের ভিতরে সুসজ্জিত দুটো ঘর। দুটিতেই রয়েছে বিছানা, তোষক, বালিশ। একটি ঘরের ড্রয়ার খুলতেই চক্ষুচড়কগাছ! তাতে ভর্তি কন্ডোমের প্যাকেট। বিষয়টা প্রকাশ্যে আসতেই স্বাভাবিকভাবেই চরমে উঠেছে স্থানীয়দের ক্ষোভ। নরেন্দ্রনাথের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে পাশ কাটাতে চাইলেন জনতার ক্ষোভের আগুন যে ধিকধিক করে জ্বলছে তা হয়তো বেশ আঁচ করতে পারছেন প্রাক্তন বিধায়ক।

এই ঘটনার পরপরই তৃণমূলের নতুন কমিটিতে পশ্চিম বর্ধমান জেলার সভাপতির দায়িত্বে ফের জায়গা পান নরেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তৃণমূলের নেতারা যেভাবে জনগণের টার্গেট হয়ে উঠেছেন, রাজনৈতিক মহল মনে করছে, 'কালীঘাট তৃণমূলে' থেকে যাওয়া প্রবীণ নেতাদের উপর দল আস্থা রাখতে মরিয়া চেষ্টা করলেও, 'ডিম থেরাপি'র ভয়ে এবার কি তাঁরাও একে একে পদ থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement