ফ্লোরিডার কঠোর আইন। ফলে মাঝপথে ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোদের (Ronaldo) প্র্যাকটিস বন্ধ করে দিতে বাধ্য হলেন কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। উজবেকিস্তানকে পাঁচ গোল দেওয়ার পর এমনিতে রোনাল্ডোদের শিবির এখন সুখী গৃহকোণের মতো। এই কঙ্গো ম্যাচের আগেও যে পর্তুগিজ সাংবাদিকরা তাঁদের অধিনায়কের মুণ্ডপাত করছিলেন, সমালোচনায় ফালাফালা করে দিচ্ছিলেন, তাঁরাই এখন রোনাল্ডোকে প্র্যাকটিসে দেখে এমন ভাব করছেন যেন, 'আহা.. কী দেখিলাম। জন্মে জন্মান্তরেও দেখি নাই।'
অধিনায়ক হিসেবে রোনাল্ডোর প্রশংসায় এখন পঞ্চমুখ পর্তুগিজ সংবাদমাধ্যম। অথচ, এই ক'দিন আগে কঙ্গো ম্যাচের পর দাদার সমর্থনে সোশ্যাল মিডিয়াতে পর্যন্ত নেমে পড়তে হয়েছিল রোনাল্ডোর বোনকে। স্রেফ রোনাল্ডোর দু'টো গোল আর দলের একটা জয় কী আমূল বদলে দিয়েছে পর্তুগাল শিবিরকে। কিন্তু প্রকৃতির মার আটকাবেন কী করে? রোনাল্ডোরা এই মুহূর্তে মায়ামির পাম বিচের কাছে ঘাঁটি গেড়েছেন। ঠিক ছিল, সকালে হোটেলে সাংবাদিক সম্মেলনের পর কলম্বিয়া ম্যাচকে সামনে রেখে প্র্যাকটিস শুরু করবেন কোচ মার্টিনেজ। সকাল থেকে সব কিছু পরিকল্পনামাফিকই হচ্ছিল। পর্তুগাল কোচের খুশিতে থাকার আরও একটি কারণ হল, কলম্বিয়ার বিরুদ্ধে পুরো দল নিয়ে মাঠে নামার সম্ভাবনা তৈরি হওয়া।
প্রথম ম্যাচ খেলতে পারেননি রুবেন ডিয়াস। আবার দ্বিতীয় ম্যাচে ছিলেন না টমাস আরাউহো। আর তারপর থেকে দলে নতুন করে কোনও চোট-আঘাতের খবরও নেই। সব কিছু যখন ঠিকঠাক, তখন রোনাল্ডোদের নিয়ে স্থানীয় সময় ১১টায় প্র্যাকটিসে নেমেছিলেন কোচ মার্টিনেজ। সবে প্র্যাকটিস ৩০ মিনিট এগিয়েছে। কিন্তু তারপরই ফ্লোরিডায় কঠোর আইনের জেরে পুরো প্র্যাকটিসটাই বন্ধ করে দিতে হল বিরক্ত পর্তুগাল কোচকে। কী এমন আইন যে, মাঝপথে প্র্যাকটিস বন্ধ করে হোটেলে ফিরে যেতে হল রোনাল্ডোদের?
আবহাওয়া নিয়ে ফ্লোরিডার কঠোর আইন বলছে, যদি বজ্রপাত সহ কোনও ঝড়ের পূর্বাভাস ১৩ কিলোমিটার দূর থেকেও মাঠের দিকে এগিয়ে আসে, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে প্র্যাকটিস বন্ধ করে দিতে হবে। আর এদিন রোনাল্ডোদের ক্ষেত্রে সেটাই হয়েছে। এমনিতে মায়ামিতে কখন যে আকাশের মুখ ভার হয়ে বৃষ্টি নামবে কেউ জানে না। সঙ্গে আবার ঝোড়ো হাওয়া। গত সপ্তাহেও ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে বজ্রপাতে এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। হিসেব কষে দেখা গিয়েছে, ফ্লোরিডাতে প্রতি বছরই বজ্রপাতে কিছু না কিছু মৃত্যুর খবর আসবেই। ফলে এদিন রোনাল্ডোর প্র্যাকটিস চলাকালীন, যখন স্থানীয় ম্যানেজার জানান, এই অঞ্চলে আবহাওয়া নিয়ে বিপদ সঙ্কেত দেওয়া হয়েছে, তখন আর প্র্যাকটিস করার কোনও ঝুঁকিই নিতে পারেননি তাঁরা। আগে তো প্রাণ। তারপর খেলা। ফলে মাঝপথে প্র্যাকটিস বন্ধ রেখেই হোটেলের দিকে দে ছুট রোনাল্ডোদের।
