কয়েক মিনিট আগেই তাঁর দলের বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) স্বপ্ন শেষ হয়েছে। ইংল্যান্ডের মতো মহাশক্তিধর দেশের বিরুদ্ধে নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পরও সাফল্যে আসেনি। দীর্ঘক্ষণ এগিয়ে থাকার পরও হেরে বিদায় নিতে হচ্ছে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মঞ্চ থেকে। সেই খেলা নিয়ে কাটাছেঁড়া চলছে। সাংবাদিক সম্মেলনে প্রশ্ন ধেয়ে আসছে একের পর এক প্রশ্ন। এর মধ্যেই মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ার মতো দুঃসংবাদ। আচমকা তিনি জানতে পারলেন বাবা প্রয়াত হয়েছেন।
ডি আর কঙ্গোর কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রে। আদতে ফরাসি। কঙ্গোর দায়িত্ব নেওয়ার পর আফ্রিকার ওই দরিদ্র দেশটির ফুটবল ইতিহাস বদলে দিয়েছেন। সেবাস্তিয়ানের অধীনেই প্রথম সবকিছুর স্বাদ পেয়েছে কঙ্গো। ১৯৭৪ সালের পর এই প্রথম বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন। বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম গোল, প্রথমবার জয়, এমনকী প্রথমবার নকআউটের টিকিট পাওয়া। সেই নকআউট ম্যাচেও ইংল্যান্ডের মতো দলকে ভালোমতো বেগ দেওয়া। এসবের পরও নকআউটের হার বিমর্ষ করে দিয়েছিল কোচ সেবাস্তিয়ান দেসাব্রেকে।
ম্যাচ শেষে সাংবাদিক বৈঠকে ইংল্যান্ডের ম্যাচ নিয়ে একের পর এক প্রশ্নের জবাব দিচ্ছিলেন দেসাব্রে। আচমকা মিডিয়া অফিসার এসে ঘোষণা করেন, "আপনাদের সকলকে ধন্যবাদ। কিন্তু আমাদের একটা ঘোষণা আছে। কোচের পিতৃবিয়োগ হয়েছে। ওকে সমবেদনা জানাচ্ছি।" আচমকা মিডিয়া ম্যানেজারের ওই ঘোষণায় প্রত্যাশিতভাবেই হতভম্ব হয়ে যান কঙ্গোর কোচ। কয়েক সেকেন্ড বাবার মৃত্যুসংবাদ যেন বিশ্বাসই করতে পারছিলেন না তিনি। কয়েক সেকেন্ড পর একটু ধাতস্ত হয়ে, "আমাকে ক্ষমা করবেন" বলে বেরিয়ে যান দেসাব্রে।
সেখান থেকে সোজা বিমানবন্দরে গিয়েছেন। দেশে ফেরার বিমান ধরেছেন দেশাব্রে। কঙ্গোর ফুটবলার ও অন্য সাপোর্ট স্টাফেরা সূচি অনুযায়ী ফিরবেন। ফরাসি কোচের ওই পিতৃবিয়োগের খবর লাইভ হচ্ছিল। সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। গোটা বিশ্বের ফুটবলপ্রেমীরা তাঁর পাশে দাঁড়িয়েছেন।
