বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) নকআউট পর্বে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে মিশর। ঐতিহাসিক জয়ের পর প্যালেস্টাইনের পতাকা হাতে মাঠ প্রদক্ষিণ করেন মহম্মদ সালহাদের হেডকোচ হোসাম হাসান। তিনি জানান, এই জয় শুধু মিশরের জন্য নয়, প্যালেস্টাইনের মানুষের প্রতিও উৎসর্গ। এই ঘটনায় বিশ্বকাপের মঞ্চে রীতিমতো শোরগোল। প্রশ্ন হল, মিশর কোচ কি শাস্তির কবলে পড়তে চলেছেন?
নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে নির্ধারিত সময়ে স্কোর লাইন ছিল ১-১। টাইব্রেকারে ৪-২ ব্যবধানে অস্ট্রেলিয়াকে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করে মিশর। ম্যাচ শেষে সোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল এক ভিডিওয় দেখা যায়, প্যালেস্টাইনের পতাকা হাতে মাঠ ঘুরে দর্শকদের অভিবাদন জানাচ্ছেন হোসাম হাসান। এ সময় গ্যালারিতে উপস্থিত সমর্থকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয় ‘ফ্রি, ফ্রি প্যালেস্তাইন’ স্লোগান। মুহূর্তেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়। সংবাদমাধ্যমকে হাসান বলেন, “আমি এই জয় মিশর এবং প্যালেস্টাইনের মহান মানুষেকে উদ্দেশে উৎসর্গ করছি। আমার হৃদয় সব সময় তাঁদের সঙ্গেই রয়েছে।” মিশরের সাংবাদিক ইউনিয়নের প্রাক্তন প্রধান ইয়াহিয়া কালাশ কোচের এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে বলেন, “এটাই ছিল ম্যাচের পর সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ দৃশ্য। অত্যন্ত শক্তিশালী ও অর্থবহ বার্তা দিয়েছেন মিশর কোচ।”
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাস হামলার পর শুরু হওয়া গাজা যুদ্ধের জেরে মানবিক সংকট এখনও জারি রয়েছে। যুদ্ধের কারণে লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত। বিস্তীর্ণ এলাকা ধ্বংসস্তূপে পরিণত। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রক সূত্রে জানা গিয়েছে, সংঘাত শুরুর পর থেকে ৭৩ হাজারেরও বেশি প্যালেস্তিনীয়র মৃত্যু হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে বিভিন্ন দেশে প্যালেস্টাইনের প্রতি সংহতি জানিয়ে বিক্ষোভও হয়েছে। ক্রীড়া জগতের অনেকেই প্যালেস্টাইনের পাশে দাঁড়িয়েছেন।
এর আগে চলতি বছরের শুরুতে স্প্যানিশ লিগ জিতে সেলিব্রেশনের সময় লামিনে ইয়ামাল প্যালেস্টাইনের পতাকা উড়িয়েছিলেন। সেই ঘটনাও আলোড়ন তৈরি করেছিল। সে সময় ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সমালোচনার মুখেও পড়তে হয়েছিল বার্সেলোনার এই তরুণ ফুটবলারকে। হোসাম হাসান কোনও রাজনৈতিক দল বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর সঙ্গে যুক্ত নন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে চুটিয়ে ফুটবল খেলেছেন। সাধারণ পরিবার থেকে উঠে এসে দেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে প্যালেস্তাইনের পতাকা প্রদর্শনের ঘটনায় ফিফা কোনও ব্যবস্থা নেবে কি না, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত বিশ্ব ফুটবলের নিয়ামক সংস্থা কোনও মন্তব্য করেনি।
অতীতে মাঠে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছে ফিফা। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপেও ‘ওয়ান লাভ’ বাহুবন্ধনী পরে মাঠে নামার পরিকল্পনা ঘিরে তুমুল বিতর্ক হয়েছিল। সে সময় নিয়ম ভাঙলে ফুটবলারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছিল ফিফা। একইভাবে, চলতি বিশ্বকাপে ইরানের ম্যাচের সময় লস অ্যাঞ্জেলেসে কিছু ইরানি-আমেরিকান সমর্থক দেশটির ‘সিংহ-সূর্য’ পতাকা নিয়ে মাঠে ঢোকার অনুমতি চাইলে আদালত সেই আবেদন খারিজ করে দেয়। ফলে ফিফার বিধিনিষেধই বহাল থাকে। এখন দেখার বিষয়, মিশরীয় কোচের ঘটনায় কোনও পদক্ষেপ নেয় কি না ফিফা।
