shono
Advertisement

Breaking News

Deniz Undav

টাকার প্রয়োজনে কাজ করতেন কারখানায়, ‘শ্রমিক’ উন্দেভের রূপকথায় নকআউটে জার্মানি

‘সুপার সাব’ হয়ে জোড়া গোল করে তিনিই এখন নায়ক জার্মান শিবিরে। ১২ বছর পর ফের নক আউটে গেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
Published By: Prasenjit DuttaPosted: 03:28 PM Jun 22, 2026Updated: 04:18 PM Jun 22, 2026

ডেনিজ উন্দাভকে (Deniz Undav) প্রথম দুই ম্যাচে একাদশে রাখেননি জার্মান কোচ জুলিয়ান নাগেলসম্যান। কিন্তু আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে এক গোলে পিছিয়ে থাকা ম্যাচে ‘সুপার সাব’ হয়ে জোড়া গোল করে তিনিই এখন নায়ক জার্মান শিবিরে। বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) দুই ম্যাচে মোট তিন গোল করলেন এই জার্মান স্ট্রাইকার। একই সঙ্গে জার্মানিও চলে গেল পরের রাউন্ডে। ১২ বছর পর ফের নক আউটে গেল চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

Advertisement

অথচ প্রথম একাদশে জামাল মুসিয়ালা নাকি উন্দাভ– কাকে খেলানো উচিত এই নিয়ে কুরাসাও ম্যাচের আগে রীতিমতো তর্কে জড়িয়ে গিয়েছিলেন তিন জার্মান কিংবদন্তি। একদিকে যুরগেন ক্লপ ও টমাস মুলার যখন চোট কাটিয়ে ওঠা মুসিয়ালার পরিবর্তে উন্দাভকেই প্রথম একাদশে দেখতে চাইছিলেন। তখন মুসিয়ালার হয়ে জোরাল সওয়াল করেছিলেন আর এক জার্মান কিংবদন্তি লোথার ম্যাথেউস।

গত আট ম্যাচে নয় গোল করে ফেলেছেন উন্দাভ। অথচ এই জার্মান ফরোয়ার্ডের ফুটবলার হওয়ার কথাই ছিল না। চোদ্দো বছর বয়সি উন্দাভকে বুন্দেশলিগার ক্লাব ওয়ার্ডার ব্রেমেন বাতিল করে দিয়েছিল কম উচ্চতার জন্য। এরপরের জীবন আরও কঠিন। ১৭ বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে পেশাদার ফুটবলার হওয়ার জন্য চলে যান। তারপর জার্মানির একটি চতুর্থ ডিভিশনের দল টিএসভি হ্যাভেলসে সই করেন। সেখানে পেতেন মোটে ১২০ পাউন্ড। এই অর্থে জীবন চলত না বলে একটি কারখানায় কাজ করতেন। দৈনিক আট ঘণ্টা। তার পরেও ছেড়ে দেননি ফুটবলকে। সেখান থেকে তিনি প্রথম পেশাদার চুক্তি পান ২৩ বছর বয়সে। ইউনিয়ন সেন্ট গিলোসিতে সই করেন। সেখান থেকে চলে যান ইপিএলের ক্লাব ব্রাইটন অ্যান্ড হোভ আলবিয়নে। এই ক্লাব খেলে আসেন বুন্দেশলিগার ক্লাব ভিএফবি স্টুটগার্টে। ২০২৫ মরশুমে বুন্দেশলিগায় স্টুটগার্টের জার্সি গায়ে দুরন্ত খেলেন তিনি। এখান থেকেই বিশ্বকাপের দলে আসেন উন্দাভ। 

সাফল্যের মাঝেও অতীত ভোলেননি উন্দাভ। ২৯-এর স্ট্রাইকার বলছিলেন, “ব্রেমেন উচ্চতার জন্য বাতিল করার পর ভেঙে পড়েছিলাম খুব। কিন্তু আশা ছাড়িনি। সতেরো বছর বয়সে বাড়ি ছেড়েছিলাম। তারপর দৈনিক আট ঘণ্টা কারখানায় পরিশ্রম করেও ফুটবল খেলেছি। সেই সময় ভোর চারটের সময় ঘুম থেকে উঠে কারখানাতে চলে যেতাম। সেখান থেকে সোজা মাঠে অনুশীলন। তারপর রাত ৮টার সময় বাড়ি ফেরা। অন্য কিছু ভাবার আগেই পরের দিন চলে আসত।” একসময় বুন্দেশলিগা ক্লাবের বাতিল ফুটবলারই আজ জার্মানির বিশ্বকাপ দলের নায়ক। উত্থান একেবারে যেন রূপকথার। আইভরি কোস্টের বিরুদ্ধে জার্মানির জয়ের মতোই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement