shono
Advertisement
Brazil Football Team

'বিশ্বকাপ ভিনির প্রতিষ্ঠা মঞ্চ', ভবিষ্যদ্বাণী রোমারিওর, রাফিনহার চোট নিয়ে চিন্তায় ব্রাজিল কিংবদন্তি

কুনহার প্রশংসায় পঞ্চমুখ রোমারিও।
Published By: Arpan DasPosted: 04:42 PM Jun 22, 2026Updated: 05:18 PM Jun 22, 2026

মরক্কো ম্যাচের ধাক্কা কেটেছে হাইতির বিরুদ্ধে। বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) জয়ের দেখা পেয়েছে ব্রাজিল। সাম্বার ঝড় না উঠলেও সেই পারফরম্যান্স কিঞ্চিৎ স্বস্তির কোচ কার্লো আন্সেলোত্তির জন্য। হাইতি ম্যাচের পর পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের নিয়ে কলম ধরলেন সেলেকাও কিংবদন্তি রোমারিও। যিনি আপাতত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ব্রাজিলের সব ম্যাচ কভার করছেন সাংবাদিক হিসেবে। হাইতি ম্যাচের পর সে দেশের এক সংবাদমাধ্যমে কী লিখছেন তিনি, তুলে দেওয়া হল নিচে-

Advertisement

'... বিশ্বকাপে দশ-দশটা দিন কেটে গেল। সব দেশই একটা-দু'টো করে ম্যাচ খেলে ফেলেছে। ব্রাজিলও (Brazil Football Team) দু'টো খেলেছে। এখন দলের পারফরম্যান্স নিয়ে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা যেতে পারে। কে কেমন খেলল, কোন কোন জায়গায় উন্নতি করা যাবে এবং কোন বিষয়টা না দেখলেই নয়।

দ্বিতীয় ম্যাচে ব্রাজিল তুলনায় ভালো খেলেছে। মরক্কো অনেক শক্তিশালী প্রতিপক্ষ। হাইতি তুলনায় পিছিয়ে। দক্ষতার বিচারে। তবে শারীরিকভাবে ওরা শক্তিশালী। আমরা জানতাম, ওদের কিছু প্লেয়ারের ক্ষমতা আছে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার। ফলে শুরু থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হাতে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। যেটা মরক্কোর বিরুদ্ধে আমরা করতে পারিনি। তবে হাইতির বিরুদ্ধে সাফল্য এসেছে সে কাজে।

হাইতির বিরুদ্ধে গোল ভিনিসিয়াসের। ছবি: পিটিআই

এই দু'টো ম্যাচে কয়েকজন প্লেয়ারের পারফরম্যান্স চোখ টেনেছে। প্রথমেই নাম নেব ভিনিসিয়াস জুনিয়রের। দু'টো ম্যাচেই ও সেরা প্লেয়ার হয়েছে। আমি বলব, একদম ঠিক সিদ্ধান্ত। ও এই পুরস্কারের যোগ্য। কী করেনি মাঠে। ডিফেন্স ভেঙে দৌড়। ড্রিবলে প্রতিপক্ষকে টেক্কা দেওয়া। বল কেড়ে নেওয়া। সঙ্গে দু'টো গোল করেছে এবং একটা করিয়েছে। ভিনি প্রসঙ্গে একটা আলোচনা খুব শোনা যায়। ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যতটা ভালো খেলে, ব্রাজিলের জার্সিতে তার ধারেকাছেও যায় না ওর পারফরম্যান্স। কিন্তু আমি এবার দেশের জার্সিতে সেই রিয়ালের ভিনিকে দেখতে পাচ্ছি যেন। যেখানে ও বিশ্বের অন্যতম সেরা প্লেয়ার। এই বিশ্বকাপ ওর প্রতিষ্ঠার মঞ্চ হতে পারে। ভিনি সেভাবেই খেলছে।

ভিনি প্রসঙ্গে একটা আলোচনা খুব শোনা যায়। ও রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে যতটা ভালো খেলে, ব্রাজিলের জার্সিতে তার ধারেকাছেও যায় না ওর পারফরম্যান্স। কিন্তু আমি এবার দেশের জার্সিতে সেই রিয়ালের ভিনিকে দেখতে পাচ্ছি যেন।

ভিনির পরের ধাপে আমি দু'জনকে রাখব। লুকাস পাকেতা ও ম্যাথিয়াস কুনহা। প্রথমজনের জন্য আমাদের মাঝমাঠের ছবিটা বদলে গিয়েছে। একদিকে যেমন ও খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করে, তেমনি নেমে এসে রক্ষণেরও পাশে থাকে। মরক্কোর বিরুদ্ধে পাকেতা বিশেষ ভালো খেলেনি। সেটা অবশ্য কেউই খেলেনি দলের। কিন্তু হাইতি ম্যাচে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে, ব্রাজিল এই স্কোয়াডে সেরা প্লে-মেকার পাকেতাই।

মরক্কোর বিরুদ্ধে গোলের পর ভিনিসিয়াস জুনিয়র

আর কুনহা। অসাধারণ। মরোক্কোর বিরুদ্ধে পরিবর্ত নেমে যা পারফর্ম করেছে, প্রথম একাদশে ফেরা অবশ্যম্ভাবী ছিল। একজন পরিপূর্ণ স্ট্রাইকারের সব গুণই ওর মধ্যে রয়েছে। লেগে থাকে, দ্রুত জায়গা বদল করে। টাচ ভালো। জানি, ও আমার মতো ক্লাসিক 'নাম্বার নাইন' নয়। যে কি না বক্সের মধ্যে অপেক্ষা করবে। তবে কুনহা জানে কেন ওকে নামানো হয়েছে, কী দায়িত্ব পালন করতে হবে। দু'টো গোল সেই ক্ষমতা থেকেই করল ও। বলতেই পারতাম, আন্সেলোত্তি নিজের সেরা ফর্মেশনটা খুঁজে পেয়েছে। পারছি না, কারণ রাফিনহার চোট। আমাদের জন্য দুর্ভাগ্যের। দারুণভাবে উন্নতি করছিল ও। রায়ান ভালো বিকল্প হতে পারে। দেখা যাক স্কটল্যান্ডের বিরুদ্ধে কোচ কী সিদ্ধান্ত নেয়? হাইতির থেকে এই ম্যাচটা কঠিন হতে চলেছে। স্কটল্যান্ডের মার্কিং বেশ ভালো। আর ওদের অ্যাটাকাররা শারীরিকভাবেও শক্তিশালী। আর অভিজ্ঞতার বিচারে অনেকটা এগিয়ে। অবশ্য হাইতি ম্যাচের পর বলতে পারি, আমাদের দলটাও উন্নতি করছে। ফলে মায়ামিতে স্কটল্যান্ডকে হারিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন না হওয়ার কোনও কারণ দেখছি না।..."

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement