shono
Advertisement

Breaking News

FIFA World Cup 2026

৭ মিনিটের জন্য ছিলেন মৃত! ব্রাজিলকে হারিয়ে 'চিরসঙ্গী'র আদরে ডগমগ নরওয়ের 'মৃত্যুঞ্জয়ী' কোচ

Stale Solbakken: প্রায় ৩০ ঘণ্টা কোমায় ছিলেন। সেখান থেকে বিশ্বকাপে 'মৃত্যুঞ্জয়ী' হয়ে উঠলেন স্টালে সোলবাকেন।
Published By: Arpan DasPosted: 05:17 PM Jul 06, 2026Updated: 07:46 PM Jul 06, 2026

অনেকে মৃত্যুমুখ থেকে ফিরে আসেন। কিন্তু নরওয়ের কোচ স্টালে সোলবাকেনের (Stale Solbakken) সত্যিই 'মৃত্যু' হয়েছিল। ঠিক ৭ মিনিট বন্ধ ছিল হৃদস্পন্দন। সেই সোলবাকেনের কোচিংয়েই ব্রাজিল-বধ। প্রথমবার বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে আর্লিং হালান্ডের দল। আর ইতিহাস গড়েই সোলবাকেন চলে গেলেন গ্যালারিতে। জড়িয়ে ধরলেন জীবন-মৃত্যুর সঙ্গী স্ত্রী আন্নিকেনকে। ফুটবল আরও একবার জীবনের গল্প বলে গেল।

Advertisement

সামনে মহাশক্তিধর ব্রাজিল। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন। সেখানে নরওয়ে প্রথমবার নকআউটে। না, সেটা একবারও বোঝা যায়নি 'ভাইকিং'দের খেলা দেখে। বরং সেলেকাওদের বিরুদ্ধে দাপট দেখিয়েছে তারা। জোড়া গোল হালান্ডের। অবিশ্বাস্য সব সেভ করেছেন গোলকিপার নাইল্যান্ড। তাঁদের নিয়ে মাতামাতি হবে খুব স্বাভাবিক। কিন্তু যাঁর ছকে ভিনিসিয়াসরা বোতলবন্দি হলেন, সেই সোলবাকেনের গল্পও বলা যাক।

১৯৬৮ সালে জন্ম। ১৯৯৪ সালে নরওয়ের জার্সিতে অভিষেক। ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে হারানোর ম্যাচেও স্কোয়াডে ছিলেন এই মিডফিল্ডার। কিন্তু ২০০১ সালে আচমকাই কেরিয়ার শেষ। কেন? কোপেনহেগেন ক্লাবের হয়ে অনুশীলনের সময় হঠাৎই একদিন হার্ট অ্যাটাক। মাটিতে লুটিয়ে পড়েন সোলবাকেন। ক্লাবের ডাক্তার ফ্র্যাঙ্ক ওডেগার্ড বুঝতে পারেন, তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে গিয়েছে। একদিকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার জন্য অ্যাম্বুলেন্স ডাকা হয়, অন্যদিকে ক্রমাগত ডাক্তার 'কার্ডিয়াক মাসাজ' দিতে থাকেন। যতক্ষণে অ্যাম্বুলেন্স এসে পৌঁছয়, ততক্ষণে সোলবাকেনকে 'ক্লিনিকালি ডেড' ঘোষণা করা হয়। অর্থাৎ, শরীরে অক্সিজেনের অভাবে মস্তিষ্ক ও কোষে অক্সিজেন পৌঁছনো বন্ধ হয়ে গিয়েছে।

প্রায় ৭ মিনিট। সোলবাকেন 'মৃত' অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু মিরাকলও তো ঘটে। আচমকাই তিনি প্রাণ ফিরে পান। দৈব লিখন ছাড়া একে আর কীই বা বলা যায়! তারপরও প্রায় ৩০ ঘণ্টা কোমায় ছিলেন। পেসমেকার বসিয়ে প্রাণে বাঁচলেন ঠিকই, তবে ফুটবল কেরিয়ার শেষ। পরে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই হৃদপিণ্ডে সমস্যা ছিল। মাত্র ৩৩ বছরে অবসর নিয়ে মন দিলেন কোচিংয়ে। সেখান থেকে শুরু হল নতুন জীবন। অনেকেই হয়তো আশাভরসা হারিয়ে ফেলেন। কিন্তু সোলবাকেন সেই গোত্রের মানুষ নন। কোপেনহেগেন, এফসি কোন, উলভসের মতো দলে কোচিং করিয়েছেন। কোচ হিসেবে ১৩টা ট্রফি তাঁর ঝুলিতে। অবশেষে ২০২০ সাল থেকে নরওয়ের দায়িত্ব নেন। এবার বিশ্বকাপের মঞ্চে এত বড় সাফল্য।

আর এই পুরো সফরটায় সঙ্গী ছিলেন স্ত্রী আন্নিকেন। যখন সোলবাকেন অসুস্থ হন, তখন তাঁর কোলে দুই সন্তান। কখনও সোলবাকেনের হাত ছাড়েননি আন্নিকেন। ৩০ বছরের দাম্পত্য জীবন। নরওয়ে কোচ স্বীকার করেন, তাঁর পরিবারের 'সর্বময়কর্ত্রী' আন্নিকেনই। সেই ঘটনার ২৫ বছর পর 'একসঙ্গে' বিশ্বকাপের (FIFA World Cup 2026) কোয়ার্টার ফাইনালে। সেনেগালকে হারিয়ে শেষ ৩২-এ উঠে গ্যালারিতে উঠে জড়িয়ে ধরে স্ত্রীকে চুমু খেয়েছিলেন সোলবাকেন। এদিন অবশ্য চুমু খাননি। তবে জড়িয়ে ধরেছিলেন। কে বলে, বিশ্বকাপ ৫-৬ ম্যাচের টুর্নামেন্ট? বিশ্বকাপ প্রত্যেকটা মানুষের 'মৃত্যুঞ্জয়ী' হয়ে ওঠার গল্প।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement