মহানাটকীয় ম্যাচে মিশরের বিরুদ্ধে আটকে গিয়েছে ইরান। এর সঙ্গে নতুন ইতিহাস লিখেছে মহম্মদ সালাহর দেশ। ১৯৩৪ সাল থেকে ফিফা বিশ্বকাপে অংশ নিচ্ছে তারা। এবারই প্রথম গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউটে পৌঁছেছে 'দ্য ফারাওস'। তবে এই ঐতিহাসিক সাফল্যের মাঝেই উদ্বেগ সালাহর (Mohamed Salah) চোট। এখন কেমন আছেন 'মিশরীয় মেসি'? আর খেলতে পারবেন বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026)?
বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মিশরের অধিনায়ক। ম্যাচের ৫৭ মিনিটে তাঁকে তুলে নেন প্রধান কোচ হোসাম হাসান। তাঁর পরিবর্তে মাঠে নামেন মোস্তাফা জিকো। এরপর খেলা চলাকালীন ক্যামেরায় বারবার তাঁর হতাশার অঙ্গভঙ্গি ধরা পড়েছে। ম্যাচ শেষে সালাহর চোট নিয়ে কোচ হোসাম হাসান বলেন, "ওর সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে। এটা খুব বড় কোনও চোট নয়। আমাদের মেডিক্যাল স্টাফরা নজর রাখছেন। এখনও হাতে কিছুটা সময় আছে। আমার বিশ্বাস, ও ফিরে আসবে। সালাহ নিজেও আমাকে আশ্বস্ত করেছে ও ঠিক হয়ে যাবে।"
বাঁ হাঁটুতে চোট পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন মিশরের অধিনায়ক। ছবি সংগৃহীত।
৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো নকআউটে উঠেছে মিশর। তবে আগামী শুক্রবার অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে রাউন্ড ৩২-এর ম্যাচে সালাহ খেলতে না পারলে তা দলের জন্য বড় ধাক্কা। চলতি বিশ্বকাপে ইতিমধ্যেই একটি গোল ও দু'টি অ্যাসিস্ট করেছেন তিনি। তাই শেষ পর্যন্ত নকআউটে তিনি খেলতে না পারলে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে ওমর মারমুশ-সহ দলের অন্য আক্রমণভাগের ফুটবলারকে।
গ্রুপ 'জি'র পরিস্থিতি এমন ছিল, যেখানে বেলজিয়াম, মিশর ও ইরানের কাছে পরের রাউন্ডে যাওয়ার সুযোগ। সিয়াটেলে ৫ মিনিটে মাহমুদ সাবেবের গোলে এগিয়ে যায় মিশর। কিন্তু হাল ছাড়েনি ইরানও। ১১ মিনিটে পেনাল্টি পায় ইরান। বহু লড়াইয়ের যোদ্ধা মেহেদি তারেমি এগিয়ে আসেন। কিন্তু বাঁদিক ঘেঁষে মারা শট আটকে দেন মিশরের গোলকিপার ঔফা সোবের। ৩ মিনিট পরেই সমতা ফেরায় ইরান। কঠিন কোণ থেকে রামিন রেজাইন গোল করেন। এরপর ৯৩ মিনিটে ইরান গোল পেলেও অফসাইডের জন্য বাতিল হয়। হৃদয়ভঙ্গ নিয়ে ১-১ গোলেই থামতে হয় ইরানকে। এর ফলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড অফ ৩২-এ চলে গেল মিশর। যদিও সালাহর চোটে চিন্তায় থাকবে তারা।
