কেবল ম্যাচ খেলার ভিসাটুকু মিলেছে। কিন্তু যুদ্ধবিধ্বস্ত ইরানকে সেই সুযোগটাও দিতে নারাজ মার্কিন জনতা! বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ। তার আগেই লস অ্যাঞ্জেলসের পথে নামলেন আমজনতা। তাঁদের দাবি, ইরানে লাগাতার মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটছে। নারীদের স্বাধীনতা হরন করছে ইসলামিক রাষ্ট্রটি। তাই বিশ্বকাপের মঞ্চ থেকে ইরানকে নিষিদ্ধ করা হোক, দাবি তুলেছেন আমজনতা। প্রতিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকরাও।
লস অ্যাঞ্জেলসের সিটি হলের সামনে জমায়েত হন বিক্ষোভকারীরা। তাঁদের সঙ্গে ছিল একাধিক ক্রীড়াবিদের ছবি, যাঁরা রাষ্ট্রশক্তির বিরোধিতা করেছিলেন। তারপর সরকারি হেফাজতেই সম্ভবত তাঁদের মৃত্যু হয়েছে। সেই ক্রীড়াবিদদের মধ্যে অন্যতম আশগর আদিবি। ১৯৭০ সালে ইরানে জার্সিতে ফুটবল খেলেছেন তিনি। কিন্তু পরবর্তীকালে তিনি বলেন, ইরানের জাতীয় দল আসলে আয়াতোল্লার টিম হয়ে গিয়েছে। ফুটবলের উপর ছড়ি ঘোরাচ্ছে ইরানের সেনা। আশগর আরও বলেন, যে সেনা মানুষ খুন করে তাদের প্রতিনিধিত্ব করা উচিত নয়। তবে আদিবির কোনও খবর আপাতত জানা নেই।
ইরানের জাতীয় দলের প্রাক্তন অধিনায়ক হাবিব খাবিরির ছবিও ছিল প্রতিবাদীদের হাতে। ১৯৭৯ সালের আয়াতোল্লা শাসন শুরু হতেই গ্রেপ্তার হন। বছরপাঁচেকের মধ্যেই তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এমনই একাধিক ফুটবলারের ছবি নিয়ে মার্কিন জনতা প্রতিবাদে সরব হন। তাঁদের মতে, ইরানের ফুটবল দল আসলে সেদেশের সেনার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। যে সেনা দিনের পর দিন নির্যাতন চালাচ্ছে, সেই ফুটবল দলের বিশ্বকাপ খেলা মেনে নেওয়া যায় না।
এই প্রতিবাদীদের মধ্যে অন্যতম রায়ান সালামি। তাঁর বাবা-মা ইরান থেকে পালিয়ে আমেরিকায় পাড়ি দিয়েছিলেন। রায়ান বলছেন, "ইরানকে এখানে ডেকে এনে এবং খেলার অনুমতি দেওয়া হল। দেশ শান্ত রয়েছে-এটা প্রমাণের চেষ্টা চলছে। কিন্তু আদতে ইরানে এতটুকু শান্তি নেই-স্রেফ মৃত্যুদণ্ড এবং নির্যাতন।" কেউ বলছেন, প্রতিবাদ করতে চেয়েও ফুটবলাররা হয়তো শাসকদের ভয়ে চুপ থাকতে বাধ্য হন। সেকারণেই বিশ্বকাপ থেকে ইরানকে বহিষ্কার করা হোক, চাইছেন মার্কিন জনতা।
