বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়াটা একেবারে বিভীষিকা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইরানের জন্য। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে। ম্যাচ খেলার পর বিশ্রামের ন্যূনতম সময়টুকুও মিলছে না, আমেরিকা ছাড়ার নির্দেশ ঝুলছে ফুটবলারদের মাথার উপর। এহেন পরিস্থিতিতে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন ইরান ফুটবল ফেডারেশনের জেনারেল সেক্রেটারি হেদায়াত মোম্বেইনি। জানিয়েছে, বিশ্বকাপ খেলতে আসা ইরানের সঙ্গে যেরকম দুর্ব্যবহার চলছে সেটা ফুটবলের এক অন্ধকার অধ্যায়।
বহু কাঠখড় পুড়িয়ে অবশেষে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছে ইরান। কিন্তু নিজেদের প্রথম ম্যাচে দারুণ পারফর্ম করার পরেই আয়োজকদের রোষে পড়েন মেহদি তারেমিরা। লস অ্যাঞ্জেলস স্টেডিয়ামে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের পরই রীতিমতো ‘ঘাড়ধাক্কা’ দেওয়া হয় ইরান ফুটবল দলকে। শুধুমাত্র ম্যাচের সময়টুকুর জন্য মার্কিন ভিসা পেয়েছে ইরান। বাকি সময়টা মেক্সিকোয় থাকছে দল। সবমিলিয়ে, যাতায়াত করতেই কেটে যাচ্ছে অনেকটা সময়। ইরানের কোচ আমির ঘালেনোই স্পষ্ট জানান, নির্যাতন চলছে তাঁর দলের উপর।
এহেন আচরণের প্রতিবাদে ফিফায় অভিযোগ দায়ের করছে ইরানের ফুটবল সংস্থা। কবে সেই অভিযোগ জমা পড়বে জানা নেই। তবে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন হেদায়েত। সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, "বিশ্বকাপ একটা বিরাট মাপের টুর্নামেন্ট। আমাদের জন্য নিয়ম বদলে যাচ্ছে। আগে থেকে একরকম সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও শেষ মুহূর্তে এসে সেটা বাতিল হচ্ছে। এহেন আচরণে আমার মনে হয় ফুটবল নিয়েই প্রশ্ন উঠে যায়। ফুটবল বিশ্বকাপের ইতিহাসে কালো দাগ হয়ে থাকবে এই অধ্যায়।"
প্রসঙ্গত, আড়াই মাস ধরে আমেরিকা ও ইরানের যুদ্ধ চলেছে। মূলত সেই কারণেই ইরানের নাগরিকদের জন্য আমেরিকার দরজা বন্ধ। ফুটবলারদের ভিসা মঞ্জুর হলেও কর্তাদের অনেকেই ভিসা পাননি। ইরানভক্তদের অনেকে টিকিট কেটেও আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি পাননি। ইরানের ফুটবলারদের স্রেফ ম্যাচের দিন এবং তার আগের দিনের ভিসা মঞ্জুর করা হয়েছে। মাঠের বাইরে এমন প্রতিকূলতা সামলেই খেলতে নামছেন মেহদি তারেমিরা। ২২ জুন তাঁদের কঠিন প্রতিপক্ষ বেলজিয়াম। পরের রাউন্ডে জেতে গেলে ওই ম্যাচ হারা চলবে না ইরানের।
