বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) থেকে ব্রাজিল ছিটকে যেতেই আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানিয়েছেন নেইমার (Neymar)। আর কোনও দিন তাঁকে ব্রাজিলের জার্সিতে ফুল ফোটাতে দেখা যাবে না। কিন্তু সত্যিই কি তাই? সিদ্ধান্ত কি বদলাবেন ব্রাজিল তারকা? বিশেষ অনুরোধ জানিয়েছেন তাঁর বাবা। ফুটবল জীবনের বহু সুন্দর মুহূর্তের মন্তাজ তুলে ধরে তাঁর কাতর অনুরোধ, 'প্লিজ ফুটবলটা খেলতে থাকো।'
১৬ বছর আগে আমেরিকার মেটলাইফ স্টেডিয়ামেই ব্রাজিলের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিষেক হয়েছিল নেইমারের। রবিবার রাতে সেই মাঠেই শেষ হয়েছে তাঁর ১৬ বছরের আন্তর্জাতিক কেরিয়ার। প্রিকোয়ার্টারে নরওয়ের কাছে হারের পর মাঠেই কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। পরে মিক্সড জোনে সাংবাদিকদের বলেন, “আমি অনেক চেষ্টা করেছি। নিজের সেরাটা উজাড় করে দিয়েছি। কিন্তু এবার সব শেষ। এখানেই আমার যাত্রা শুরু হয়েছিল, এখানেই শেষ করলাম।”
কিন্তু তাঁর বাবা চান না এভাবে সব শেষ হয়ে যাক। তিনি লিখেছেন, 'কী অসাধারণ এক যাত্রা! কত সুন্দর পথ পেরিয়ে এলে। তাতে চ্যালেঞ্জ ছিল, কষ্ট ছিল, সেই সঙ্গে ঈশ্বরের অশেষ আশীর্বাদও ছিল। তোমার মধ্যে শুধু প্রতিভা ছিল না, ছিল একটি প্রতিজ্ঞা। প্লিজ, ফুটবল খেলা চালিয়ে যাও। আবার বল পায়ে খেলার আনন্দ খুঁজে নাও। মাঠে হাসিমুখে ফিরে এসো। ঈশ্বর তোমাকে সুস্থ করে আরেকটি সুযোগ দিয়েছেন। আগামী দিনগুলোকে ভয় পেয়ো না। আজকে বাঁচো, অনুশীলন করো, খেলো, হাসো, সন্তানদের সময় দাও, পরিবারকে ভালোবাসো। বাকিটা ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দাও।'
এর আগে মেসিও অবসর ভেঙে ফিরে এসেছিলেন। কিন্তু তখন তাঁর বয়স কম ছিল। সেখানে নেইমারের বয়স ৩৪। উল্লেখ্য, ২০১০ সালে ব্রাজিলের হয়ে অভিষেকের পর জাতীয় দলের জার্সিতে ১৩০ ম্যাচে ৮০ গোল করেছেন নেইমার। রয়েছে চারটি হ্যাটট্রিকও। ব্রাজিলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসাবে তিনি কেরিয়ার শেষ করলেন। নেইমার খেলেছেন চারটি বিশ্বকাপ। জাতীয় দলের হয়ে তিনি জিতেছেন ২০১২ অলিম্পিকে রুপো, ২০১৬ অলিম্পিকে সোনার পদক এবং ২০১৩ কনফেডারেশনস কাপের শিরোপা। তবে বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন আর পূরণ হল না। ব্রাজিল ফুটবলের ইতিহাসে ট্র্যাজিক নায়ক হিসাবে থেকে যাবেন তিনি।
