আমেরিকায় মদের আকাল! আরও স্পষ্ট করে বললে বস্টন শহরে। নেপথ্যে স্কটল্যান্ডের সমর্থকরা। প্রায় ৫০ হাজার স্কটল্যান্ড সমর্থক এই মুহূর্তে বস্টনে। দলকে সমর্থন করার পাশাপাশি আরও একটা কাজ করছেন তাঁরা। দেদার বিয়ার খাচ্ছেন। সেটার পরিমাণ কত? বস্টন শহরের বাসিন্দারা এক সপ্তাহে যত বিয়ার খান, তার চারগুণ বিয়ার উড়িয়ে দিয়েছেন স্কটিশরা।
বিশ্বকাপে 'সি' গ্রুপে হাইতিকে উড়িয়ে বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) অভিযান শুরু করেছে স্কটল্যান্ড। পরের ম্যাচ শক্তিশালী মরক্কোর বিরুদ্ধে। দু'টো ম্যাচই বস্টনে। ১৯৯৮ সালের পর ফের বিশ্বকাপে খেলছে স্কটল্যান্ড। স্কট ম্যাকটমিনেদের সমর্থনে ৫০ হাজার সমর্থক জড়ো হয়েছে শহরে। যাদের ডাকা হয় 'তার্তান আর্মি' নামে। প্রথম ম্যাচ জয় সেলিব্রেট করতে গোটা শহরের বিয়ার শেষ করে দিয়েছেন তাঁরা। শহরের মদ ব্যবসায়ীরা তো রীতিমতো এই অবস্থাকে 'বিয়ার সংকট' বলে ডাকছেন।
পরিস্থিতি এতটাই 'খারাপ' হয়ে গিয়েছে যে, বিশ্বকাপের প্রথম সপ্তাহেই 'জরুরি অবস্থা' জারি করে বিয়ার আনতে হয়েছে। অনেক ব্যবসায়ী আতঙ্ক প্রকাশ করছেন, সময়মতো বিয়ার এসে না পৌঁছলে ব্যবসা লাটে উঠবে। শহরের এক ব্যবসায়ী বলছেন, "আমি ৩০ বছর ব্যবসা করছি। কখনও এই পরিস্থিতি দেখিনি।" ঠিক কতটা বিয়ার খেয়েছেন স্কটিশরা? বস্টন বিয়ার কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, স্বাধীনতার মাসের প্রথম চারদিনে বস্টনের লোকেরা যা মদ খান, তার চারগুণ মদ খেয়ে ফেলেছেন স্কটিশরা। তারা আরও জানিয়েছে, চারদিনে ৪০০০ পিন্ট বিক্রি করেছেন ব্যবসায়ীরা।
এমনিতে 'মাতাল' হওয়ার জন্য সুপরিচিত স্কটিশরা। বিশ্বকাপেও তার ছাপ রেখে যাচ্ছে। তাবলে কি মদ খেয়ে শহর নোংরা করছেন স্কটিশরা? একেবারেই নয়। শহরের রাস্তা জুড়ে ব্যাগপাইপার বাজিয়ে তাঁরা সার বেঁধে ম্যাচ দেখতে যাচ্ছেন। মদ খাচ্ছেন। আবার ফেরার সময় সমস্ত আবর্জনা পরিষ্কার করে রাখছেন। এরপর স্কটল্যান্ডের ম্যাচ ব্রাজিলের বিরুদ্ধে ফ্লোরিডায়। তাই 'ভাঙা হাট' হয়ে যাবে বস্টন। তাতে মনখারাপ মদ ব্যবসায়ীদের। স্লোগানও উঠছে, 'নো স্কটল্যান্ড, নো পার্টি।' বস্টনের অনেক বাসিন্দা ফুটবল দেখতে খুব একটা পছন্দ করেন না। তবে তাঁরাও এখন স্কটল্যান্ডের ফ্যান।
