বিশ্বকাপের বাকি আর মাত্র ৪ দিন। আমেরিকার পাশাপাশি মেক্সিকো এবং কানাডাতেও বসছে বিশ্বকাপের আসর। প্রথম থেকেই বিশ্বকাপ ঘিরে প্রচুর প্রতিবাদ কর্মসূচি দেখা গিয়েছে এই তিন দেশে। তবে মেক্সিকোয় পরিস্থিতি রীতিমতো অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি। সেদেশে বিশ্বকাপের বিরোধিতা করে পথে নেমেছেন শিক্ষকরা। এমনকি প্রতিবাদস্বরূপ ফুটবলারদের মূর্তি ভেঙে চুরমার করে দিতেও দ্বিধা করছেন না তাঁরা। অভিযোগ, শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে ফুটবল নিয়ে মত্ত দেশের প্রশাসন।
কেন আচমকা ক্ষোভে ফেটে পড়েছেন মেক্সিকোর শিক্ষককুল? তাঁদের মতে, দেশের শিক্ষাব্যবস্থাকে মোটেই গুরুত্ব দিচ্ছে না প্রশাসন। স্টেডিয়াম এবং অন্যান্য ফুটবল পরিকাঠামো গড়ে তুলতে জলের মতো অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। সেকারণেই বিশ্বকাপের বহু ফ্যান জোনে জমায়েত করছেন শিক্ষকরা। বিশ্বকাপ উপলক্ষে বহু ফুটবলারের মূর্তি তৈরি হয়েছিল মেক্সিকোর নানা প্রান্তে। সেগুলিকে ফেলে দিয়ে বিবস্ত্র করেছেন শিক্ষকরা। মূর্তিগুলি পুড়িয়েও দেওয়া হয়েছে। শিক্ষকদের দাবি, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি মেনে বেতন এবং পেনশন সুনিশ্চিত করুক বর্তমান সরকার। সেটা না হলে বিশ্বকাপের বল গড়াতে দেবেন না, এই হুঙ্কার দিয়ে প্রতিবাদে শামিল অন্তত ১২ হাজার শিক্ষক।
জানা গিয়েছে, শিক্ষকদের এই প্রতিবাদ কড়া হাতে দমন করছে পুলিশ। অভিযোগ, শিক্ষকদের বিরুদ্ধে রবারের বুলেট, কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করা হয়েছে। অন্তত পাঁচজন শিক্ষক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে একজন দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। যদিও মেক্সিকো প্রশাসনের দাবি, এমন কোনও অস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি। সেদেশের প্রেসিডেন্ট ক্লডিয়া শিনবাম জানিয়েছেন, এমন চাপের সামনে তাঁরা মোটেই মাথা নত করবেন না। তবে প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষকদের বেশ কয়েকটি আলোচনা মুখ থুবড়ে পড়েছে। বিশ্বকাপের সময়েও তাঁরা বিক্ষোভের পরিকল্পনা করছেন।
শিক্ষকদের পাশাপাশি প্রতিবাদে শামিল হয়েছেন পশু অধিকার সংগঠন এবং অন্যান্য সামাজিক সংগঠনগুলিও। মেক্সিকোর এক লক্ষেরও বেশি মানুষ বহুদিন ধরে নিখোঁজ। তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও পথে নেমে প্রতিবাদ করছেন বিশ্বকাপের আবহে। জানা গিয়েছে, মেগা টুর্নামেন্টের ম্যাচ চলাকালীন বিরাট পুলিশবাহিনী মোতায়েন করা হবে যাবতীয় বিক্ষোভ প্রতিহত করার জন্য।
