ঠিক দু'দশক আগের কথা। জার্মানিতে বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছিলেন বিকাশ ধোরাসু নামের এক মিডফিল্ডার। গায়ে ফ্রান্সের নীল জার্সি থাকলেও তাঁর রক্তে মিশে ছিল ভারত। আসলে বিকাশের পূর্বপুরুষরা ছিলেন অন্ধ্রপ্রদেশের ভিজিয়ানাগ্রামের বাসিন্দা। এতদিন তিনিই ছিলেন বিশ্ব ফুটবলের শ্রেষ্ঠত্বের মঞ্চে ভারতের একমাত্র 'প্রতিনিধি' ফুটবলার। তবে এবার বিশ্বকাপার বিকাশের সেই 'একাকীত্ব' কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রবল।
কারণ একটা-দু'টো নয়, এবার বিশ্বকাপে (FIFA World Cup 2026) চারটে দেশের স্কোয়াডে একজন করে এমন ফুটবলার আছেন, যাঁদের আত্মীয়তা রয়েছে ভারতের সঙ্গেও। তাঁরা হলেন নিউজিল্যান্ডের সরপ্রীত সিং, অস্ট্রেলিয়ার নিশান ভেলুপিল্লাই, কাতারের তাসিন মহম্মদ জামশিদ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর স্যামুয়েল মুথুস্বামী। মুথুস্বামীর বাবার দিকে পূর্বপুরুষরা একসময় তামিলনাড়ু থেকে পরিযায়ী হয়েছিলেন। মায়ের সূত্রে কঙ্গোর হয়ে খেলেন তিনি। দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপিয়ান ফুটবলে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। ২৯ বছরের ডিফেন্সিভ| মিডফিল্ডার অতীতে ন্যান্ডেসের হয়ে ফ্রেঞ্চ কাপও জিতেছেন। জাতীয় দলের হয়ে ৫৭ ম্যাচ খেলা মুথুস্বামী বিশ্বকাপে কঙ্গোর অন্যতম ভরসা।
আবার অকল্যান্ডের এক পাঞ্জাবি পরিবারে জন্ম নেওয়া সরপ্রীত বিশ্ব ফুটবলে বেশ পরিচিত নাম। বর্তমানে ২৭ বছরের এই অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার খেলেন অস্ট্রেলিয়ার এ লিগের দল ওয়েলিংটন ফিনিক্সের হয়ে। অতীতে বায়ার্ন মিউনিখের মতো বিশ্বখ্যাত ক্লাবের জার্সিতেও খেলার অভিজ্ঞতা আছে সরপ্রীতের। সপরিবারে নিউজিল্যান্ডের বাসিন্দা হলেও পাঞ্জাবের সঙ্গে যোগাযোগ আছে তাঁর। ২০১৮ সালে ইন্টার কন্টিনেন্টাল কাপে কিউয়ি রিজার্ভ দলের হয়ে ভারতে খেলতে আসেন সরপ্রীত। গত কয়েক বছর ধরেই নিউজিল্যান্ডের অন্যতম ভরসা তিনি। বিশ্বকাপে কিউয়িদের প্রত্যাবর্তনের পিছনেও অবদান আছে সরপ্রীতের। অন্যদিকে, শ্রীলঙ্কান-তামিল বাবা এবং অ্যাংলো-ইন্ডিয়ান মায়ের সন্তান নিশান অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া ফুটবলে চেনা মুখ। মেলবোর্ন ভিকট্রির হয়ে 'এ' লিগে শতাধিক ম্যাচ খেলে ফেলেছেন ২৫ বছরের এই উইঙ্গার। বছর দু'য়েক ধরে জাতীয় দলে নিয়মিত খেলছেন তিনি। আন্তর্জাতিক ম্যাচে চিন, ইন্দোনেশিয়ার মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে গোলও করেছেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে।
পূর্বে উল্লেখিত তিনজনের তুলনায় তাসিন কিছুটা নবীন। কাতারের হয়ে খেললেও তাঁর পরিবার মূলত কেরলমের বাসিন্দা। তাসিনের বাবা জামশিদ কালিকট বিশ্ববিদ্যালয়ের হয়ে নিয়মিত ফুটবল খেলতেন। কর্মসূত্রে কাতার যান তিনি। সেখানেই বড় হয়েছেন তাসিন। বাবার হাত ধরেই ফুটবল শেখা শুরু হয় তাঁর। কাতার স্টার লিগে আল দুহাইলের জার্সিতে নিয়মিত খেলেন ১৯ বছরের এই উইঙ্গার। জাতীয় দলের হয়ে খান তিনেক ম্যাচে মাঠে নেমেছেন এখনও পর্যন্ত। বছর দুয়েক আগে বিশ্বকাপের যোগ্যতা অর্জন পর্বে কাতার-ভারত ম্যাচে রিজার্ভ বেঞ্চে ছিলেন তাসিন। বিশ্বকাপে প্রিয় দল আর ফুটবলারদের পাশাপাশি এই 'চারমূর্তির' উপরও নজর থাকবে ভারতীয় ফুটবলজনতার।
