নাকের ডগায় ফুটবল বিশ্বকাপ। কিন্তু তার আগেই বারবার বিতর্কিত শিরোনামে আয়োজক দেশ আমেরিকা। কৃষ্ণাঙ্গ ফুটবলারদের সঙ্গে বিমানবন্দরে যে আচরণ করা হয়েছে, তা নিয়ে ক্ষোভে ফুঁসছে ফুটবল মহল। অভিযোগ, ফুটবলারদের সঙ্গে 'দাগি অপরাধী'দের মতো আচরণ করা হচ্ছে।
জানা গিয়েছে, আমেরিকায় পৌঁছনোর পর সেনেগালের ফুটবলারদের বিমান থেকে নামিয়েই কড়া নিরাপত্তা তল্লাশির মুখে পড়তে হয়। সান আন্তোনিও বিমানবন্দরের টারম্যাকেই তাঁদের ব্যাগপত্র খুলে পরীক্ষা করা হয়। তল্লাশি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিমানবন্দরের ভেতরে প্রবেশের অনুমতিও দেওয়া হয়নি।
একই ধরনের অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হয়েছে উজবেকিস্তান দলও। নিউ ইয়র্কে অনুশীলন করতে যাওয়ার সময় ফুটবলার ও সাপোর্ট স্টাফদের তল্লাশি করা হয়। এমনকী মাদক শনাক্তকারী কুকুর ব্যবহার করেও পরীক্ষা চালানো হয়। এমনকী মেটাল ডিটেক্টরে দেহ তল্লাশি করা হয়।
এর আগেও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধি দলের সদস্যরা আমেরিকায় প্রবেশের সময় সমস্যার মুখে পড়েছেন। ইরাকের স্ট্রাইকার আয়মেন হুসেনকে দীর্ঘ সময় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। দলের চিত্রগ্রাহক তালাল শাহকে ১০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে জেরা করা হয়। অন্যদিকে, সেনেগালের আন্তর্জাতিক রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে বিমানবন্দর থেকেই ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
এসব ঘটনার ছবি ও ভিডিও প্রকাশ্যে আসতেই সোশাল মিডিয়ায় সমালোচনার ঝড় ওঠে। অনেকের অভিযোগ, বিশ্বকাপ খেলতে আসা ফুটবলারদের সঙ্গে অপরাধীদের মতো আচরণ করা হচ্ছে। কেউ বর্ণবৈষম্যের প্রশ্ন তুলে লিখেছেন, 'কোনও শ্বেতাঙ্গ দলের সঙ্গেও কি এমন আচরণ করা হয়েছে, নাকি এই ব্যবস্থা শুধু সেনেগালের জন্যই সংরক্ষিত? অদ্ভুত!'
নিরাপত্তার নামে এই ধরনের ব্যবহারের সমালোচনা করেছেন ফুটবলপ্রেমী, সাংবাদিক ও বিশ্লেষকদের একাংশ। ফিফার ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে। আয়োজক দেশের এমন আচরণের বিরুদ্ধে সংস্থাটি কেন প্রকাশ্যে কোনও অবস্থান নিচ্ছে না, তা নিয়ে ক্ষোভ বাড়ছে। একই সঙ্গে ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসানীতি নিয়েও বিতর্ক তৈরি হয়েছে। সেনেগাল, আইভরি কোস্ট, হাইতি এবং ইরান-সহ বেশ কিছু দেশের উপর ভিসার উপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। অভিযোগ, বহু দেশের সাংবাদিক ও সমর্থক ভিসা পাননি, আবার অনেককে দেওয়া হয়েছে একবার প্রবেশের অনুমতি-সংবলিত ভিসা। ফলে তারা কানাডা বা মেক্সিকো সফর করলে পুনরায় আমেরিকায় ফিরতে পারবেন না।
