৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপে অভিষেক। কিন্তু স্বপ্নপূরণের সেই মুহূর্তের সাক্ষী হতে পারেননি মা। ম্যাচের শেষে চোখের জলে ভেসে গিয়ে সেই আক্ষেপের কথা জানিয়েছিলেন কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা। বলেছিলেন, অর্থের অভাবে তাঁর মা বিশ্বকাপ দেখতে আসতে পারেননি। তবে এবার সেই আক্ষেপ ঘুচতে চলেছে। গ্যালারিতে বসে ছেলের খেলা দেখবেন ভোজিনহার মা। নেপথ্যে ডোনাল্ড ট্রাম্প সরকারের মহানুভবতা।
মার্কিন সংবাদসংস্থা সিএনএন সূত্রে খবর, ভোজিনহার মা আনা কান্দিদা ইভোরার জন্য বিশেষ পদক্ষেপ করতে চলেছে আমেরিকার বিদেশ দপ্তর। আসলে কেপ ভার্দের নাগরিকদের জন্য় আমেরিকার দরজা কার্যত বন্ধ করে রেখেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কারণ মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, কেপ ভার্দের আমজনতা আমেরিকায় এলে ভিসার মেয়াদ ফুরনোর পরেও দেশে ফিরতে চান না। সেটা রোখার জন্য কেপ ভার্দের নাগরিকদের থেকে মোটা অঙ্ক জমা রাখে মার্কিন প্রশাসন। ভারতীয় মুদ্রায় এই অঙ্কটা ১৪ লক্ষ ১৬ হাজার টাকা।
ভোজিনহা জানিয়েছিলেন, এই বিরাট অঙ্কের টাকা জমা দেওয়ার সামর্থ্য নেই তাঁদের। সেকারণেই তাঁর মা ভিসা পাননি। যদিও মার্কিন বিদেশ দপ্তরের দাবি, ফুটবলারের পরিবারের জন্য টাকা জমা দেওয়ার নিয়ম নেই। ভোজিনহার কথা শুনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। কেপ ভার্দে গোলকিপারের মা যেন মার্কিন মুলুকে বসে ছেলের খেলা দেখতে পারেন তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করবে মার্কিন বিদেশ দপ্তর। যদিও সূত্রের খবর, ভোজিনহার মায়ের পাসপোর্ট নেই। তা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে আমেরিকায় আনা যায়, সেই চেষ্টা চলছে।
উল্লেখ্য, স্পেনের বিরুদ্ধে কেপ ভার্দের ম্যাচে একাহাতে স্প্যানিশ আর্মাডাকে রুখে দিয়েছিলেন ভোজিনহা। কখনও স্পেনের ডিফেন্ডার লাপোর্তের হেড, কখনও বা ওয়ারজাবালের শট, সব আটকে গিয়েছিল তাঁর হাতে। একটা সময় ম্যাচটা পরিণত হয়েছিল স্পেন বনাম ভোজিনহা। গোটা ম্যাচ জুড়ে আফ্রিকার দেশের গোল লক্ষ্য করে ২৮টি শট মেরেছে স্পেন। সবক'টাই আটকে গিয়েছে 'বুড়ো' ভোজিনহার হাতে। তারপর হুহু করে বেড়েছে তাঁর ইনস্টাগ্রাম ফলোয়ার সংখ্যা।
