আমেরিকায় বসেছে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিশ্বকাপের আসর। যে মহাযজ্ঞের আঁচ ভারতীয় ফুটবলের মক্কা কলকাতাতেও। প্রিয় দলের জার্সি গায়ে রাত জেগে গলা ফাটাচ্ছেন টলিপাড়ার তারকারাও। তার মাঝেই 'দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ' নিয়ে নিজেদের অনুভূতির কথা জানালেন সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে। আজ কলম ধরলেন ঊষসী রায়।
আমার কাছে ফুটবল বিশ্বকাপ একটা উৎসবের মতো। কারণ ফুটবল নিয়ে উন্মাদনা আমাদের বাড়িতে একটু বেশিই। আর এই বিশ্বকাপ নিয়ে আমার বহু স্মৃতি রয়েছে। আমাদের বাড়িতে প্রথম বড় কালার টিভি এসেছিল ২০০২-এর বিশ্বকাপের সময়। শুধুমাত্র বিশ্বকাপ স্পেশাল। ওটা মিস করা যাবে না, ওটা কালার টিভিতেই দেখতে হবে। আমেজ নিতে হবে। টিভি নিয়ে মধ্যবিত্ত পরিবারে যা হয় আর কী! তার আগে আমাদের সাদা-কালো টিভিই ছিল। পরবর্তীতে শুধুমাত্র বিশ্বকাপের জন্যই আমাদের বাড়িতে কালার টিভি আর কেবল লাইন এল। এইরকম অনেক ঘটনা রয়েছে। এখন আমি যে টিভিতে বিশ্বকাপ দেখছি, সেটা একটা বিরাট বড় টিভি। ওই টিভিতে ম্যাচ দেখার মজাই আলাদা। মাঠে গিয়ে তো আর দেখা হয়নি কোনওদিন। অগত্যা, দুধের সাধ ঘোলেই মেটাতে হয়! তবে ওই যে আজকাল সবাই বলে 'মেনিফস্টেশন'। একদিন অবশ্যই সশরীরে গিয়ে বিশ্বকাপ দেখার সুযোগ হবে। আশা করি সেইরকম অবস্থা একদিন তৈরি হবেই।
পর্তুগালকে নিয়েই একটু বেশি চিন্তিত। সিআর সেভেন-এর এটা শেষ বিশ্বকাপ। চ্যাম্পিয়ান কে হবে? এটা এখন আর বলছি না। মনে মনে থাকুক। রাত জেগে ফুটবল ম্যাচ দেখা আমার বাড়িতে চাপের নয়। কারণ আমাদের বাড়িতে ফুটবল নিয়ে একটা উত্তেজনা আছে।
ব্রাজিলের সমর্থক ঊষসী রায়।
আমি বরাবরই ব্রাজিলের সমর্থক। কিন্তু এবার তো সমস্ত উন্মাদনা, উত্তেজনা ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডোকে ঘিরে। এটা তাঁর শেষ বিশ্বকাপ। পর্তুগাল কী করবে? আর্জেন্টিনা কী করবে? পর্তুগালকে নিয়েই একটু বেশি চিন্তিত। সিআর সেভেন-এর এটা শেষ বিশ্বকাপ। চ্যাম্পিয়ান কে হবে? এটা এখন আর বলছি না। মনে মনে থাকুক। রাত জেগে ফুটবল ম্যাচ দেখা আমার বাড়িতে চাপের নয়। কারণ আমাদের বাড়িতে ফুটবল নিয়ে একটা উত্তেজনা আছে। ফলে রাত জেগে খেলা দেখা নিয়ে আমাদের বাড়িতে ঝামেলা হয়নি কখনও। কোনও জার্সি আমার কাছে নেই এখনও অবধি। টিকিটের দাম খুবই আকাশ ছোঁয়া। সেটা চারদিকে যুদ্ধের জন্য কী না, জানি না। অন্যবারের তুলনায় টিকিটের দাম এবার খুব বেশি। একটা নর্মাল টিকিটের দামও বেশি। এমনকী, স্টেডিয়ামের ভিতরে জলের বোতল, খাবার যেটাই হোক দাম বেশি। তবে বোধহয় কোনও কোনও ভ্যানুতে কমপেরিটেভলি টিকিটের দাম আমার মনে হয় কম। স্টেডিয়ামের ভিতরে যা যা জিনিস পাওয়া যায় তার দাম তুলনামূলকভাবে কম। এটা আমি কোনও একটা কাগজে পড়েছি। যুদ্ধের আবহে থাকলেও ইরান খেলছে এই বিশ্বকাপে। তাদের অলরেডি একটা ম্যাচ খেলাও হয়ে গিয়েছে। তবে এখানে আমি একটা বিতর্কিত কথা বলতে পারি। একদম নিউট্র্যালভাবে। কাউকে কিছু বলছি না। গত বছর বিশ্বকাপের উদ্বোধনে এবারের তুলনায় উন্মাদনা বেশি ছিল। সেলিব্রেশনটা বিশাল ছিল। এবারের ওপেনিংটা আমার মনে হয়েছে একটু কম কম। যাই হোক, দেখা যাক। যতদিন বিশ্বকাপ চলবে একটা আনন্দ উৎসব তো চলবেই। আমি খুবই এক্সাইটেড।
