shono
Advertisement
FIFA World Cup 2026

ভোজিনহার থেকে কয়েকগুণ বেশি দর ভারতীয় গোলকিপারদের! পার্থক্য কেন? বিশ্লেষণে প্রাক্তনীরা

ভোজিনহার বাজারমূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। সেখানে বেঙ্গালুরু এফসি'র গুরপ্রীতের ১.৪ কোটি, সেখানে মোহনবাগানের বিশাল কাইথ ও ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন গিলের বাজারদর ১.৮ কোটি টাকা।
Published By: Arpan DasPosted: 08:23 PM Jun 22, 2026Updated: 09:19 PM Jun 22, 2026

বিশ্বকাপ (FIFA World Cup 2026) শুরু হতেই নাটকের কমতি নেই। মহাশক্তিধর দেশগুলো আটকে যাচ্ছে 'পুঁচকে' দলের কাছে। উঠে আসছেন নতুন নায়ক। যেমন- কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সি গোলকিপার ভোজিনহা। স্পেনের বিরুদ্ধে ৭টা সেভ করে বন্দিত তিনি। কিংবা কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম ১৫টা সেভে বিশ্বরেকর্ড গড়েছেন। দলবদলের বাজারে ভোজিনহার মূল্য মাত্র ৫০ লক্ষ টাকা। সেখানে ভারতের গোলকিপার গুরপ্রীত সিং সান্ধু বা বিশাল কাইথদের বাজারমূল্য অনেক গুণ বেশি। কেন এই পার্থক্য? ভারতীয় গোলকিপাররা কি বেশি বেতন পান?

Advertisement

এই মুহূর্তে ভোজিনহা খেলেন পর্তুগালের দ্বিতীয় সারির ক্লাব চাভেসে। বিশ্বকাপে অবিশ্বাস্য পারফরম্যান্স। 'ট্রান্সফারমার্কেট' ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তাঁর বর্তমান বাজারমূল্য ৫০ লক্ষ টাকা। ৩৭ বছর বয়সি রুমের দর ১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। পরিমাণ একেবারেই বেশি নয়। তাঁর বাজারমূল্যের থেকে অনেক বেশি দর ভারতীয় ফুটবলারদের। অথচ, ভারত বিশ্বকাপ তো দূরের কথা, এশিয়ান কাপেও যোগ্যতা অর্জন করতে পারে না। 'ট্রান্সফারমার্কেট' আরও বলছে, সম্প্রতি তাজিকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা ভারতীয় দলের গড় বাজারমূল্য ১.৪৬ কোটি টাকা। সবচেয়ে কম বাজারদর রাহুল ভেকের (৮০ লক্ষ টাকা)।

কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহা।

ভারতের গোলকিপারদের দর নেহাত কম নয়। বেঙ্গালুরু এফসি'র গুরপ্রীতের ১.৪ কোটি, সেখানে মোহনবাগানের বিশাল কাইথ ও ইস্টবেঙ্গলের প্রভসুখন গিলের বাজারদর ১.৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ ভোজিনহার থেকে প্রায় ৫ গুণ বেশি দর। কেন এই পার্থক্য? আসলে কোনও ফুটবলারের বাজারদর নির্ণয়ের ক্ষেত্রে কয়েকটি মাপকাঠি থাকে। তাতে যুক্ত থাকে- বয়স, ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা, ধারাবাহিকতা, সেই দেশের লিগের মাপকাঠি, অভিজ্ঞতা, চোটপ্রবণতা, দেশ বা ক্লাবের হয়ে অতীত পারফরম্যান্স। সেসব মিলিয়েই তৈরি হয় বাজারদর। কিন্তু তাতেও নেটিজেনদের প্রশ্ন, বিশ্বকাপে পারফর্ম করা গোলকিপার ও ভারতীয় গোলকিপারদের মধ্যে দরের এত পার্থক্য কেন?

কুরাসাওয়ের গোলকিপার এলয় রুম।

প্রাক্তন গোলকিপার অভিজিৎ মণ্ডলের পালটা প্রশ্ন, "টাকাটা কারা দিচ্ছে? ক্লাবেরা দিচ্ছে। যাদের টাকা আছে, তারা দিচ্ছে। যদি প্রথম থেকে না দিত, তাহলে আজ চাইতে পারত না। আমরা যখন খেলতাম, তখন এত টাকা ছিল না। ধীরে ধীরে বেড়েছে। কেন এই পার্থক্য, সেটা ক্লাবগুলোকে করা উচিত। এখন স্যালারি ক্যাপের কথা উঠছে। হোক, কোনও অসুবিধা নেই। কিন্তু তাবলে ভারতীয় গোলকিপারদের 'অযোগ্য' বলে দাগিয়ে দেওয়া উচিত নয়।" আই লিগ জয়ী গোলকিপার তথা ইন্টার কাশীর কোচের সংযোজন, "আর ওভাবে তুলনা করা উচিত না। কারণ কে কোন দেশে খেলছে, তার উপর অনেক কিছু নির্ভর করে। আমি তুর্কমেনিস্তানে গিয়েছি। দু'দেশের টাকার মূল্য আলাদা। যদি বিদেশি গোলকিপাররা মনে করেন বেশি টাকা চায়, তাহলে ভারতে আসুক। ভারতে তো আগে বিদেশি গোলকিপাররা খেলে গিয়েছে।" উল্লেখ্য, ৩২ বছর বয়সে ভোজিনহার বাজারদর ছিল ৩ কোটি টাকার বেশি।

আরেক আই লিগ জয়ী গোলকিপার শিলটন পাল আবার বললেন, "আমি চাই ভারতীয় প্লেয়াররা টাকা কামাক। বিদেশি প্লেয়াররা টাকা কামিয়ে চলে যেত, কিন্তু ডেভলপমেন্টের কোনও কাজ হত না। মুশকিল হল, ইস্টবেঙ্গল, মোহনবাগান বা বেঙ্গালুরুর মতো ক্লাবগুলো বাদ দিলে অধিকাংশ ক্লাবেই বেতনের বিরাট পার্থক্য রয়েছে। যেমন, কয়েকজন যদি ২ কোটি টাকা পায়, তাহলে বাকিরা পান ১০-১৫ লক্ষ টাকা। আসলে এজেন্টরা এখন এমন একটা পরিস্থিতি তৈরি করেছে, যাতে একজনের বিরাট বাজারদর হয়ে যাচ্ছে। আরেকজন কম পাচ্ছে। আর যদি বাজারদরের কথা বলতে হয়, তাহলে আইএসএলে বিদেশ থেকে তরুণ প্লেয়ার নিয়ে আসুক। বয়স্ক প্লেয়াররা এসে বিরাট অর্থ নিয়ে যাচ্ছে। তাতেই একটা পার্থক্য হয়ে যায়।"

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement