shono
Advertisement
FIFA World Cup

গোল করেই কোমর দুলিয়ে নাচ! মারাদোনাকে হারিয়ে আজও ক্যামেরুনের নায়ক রজার মিল্লা

'সুপার সাব' হয়েই মাঠে নেমে গোল করতেন। আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে সেবার শেষ আটে পৌঁছেছিল ক্যামেরুন।
Published By: Biswadip DeyPosted: 08:03 PM Jun 22, 2026Updated: 08:16 PM Jun 22, 2026

বিশ্বকাপ (FIFA World Cup) আসে, বিশ্বকাপ যায়। কেউ বিজয়ী হয়, কেউ শেষ মুহূর্তে চোখের জলে ভাসে। স্কোরলাইন মুছে যায়, স্মৃতিতে থেকে যায় মুহূর্তগুলি। জিদানের ঢুঁসো হোক কিংবা পেনাল্টি ফসকে রবার্তো বাজ্জিওর হতাশ দৃষ্টি... এগুলোই বিশ্বকাপের আসল গল্প! আর সেই রকমই একটা গল্পের নায়ক রজার মিল্লা। কেপ ভার্দের গোলকিপার ভোজিনহার অসামান্য গোলকিপিং তাঁকে ফের ভাসিয়ে তুলেছে বিশ্বকাপ-আখ্যানের আসরে।

Advertisement

যদিও ক্যামেরুনের তারকা ফুটবলার মোটেই গোলরক্ষক ছিলেন না। আফ্রিকান ফুটবলের এই কিংবদন্তি ছিলেন স্ট্রাইকার। ভোজিনহার সঙ্গে তাঁর আসল মিল- দু'জনেই অনেকটা বয়সে এসে 'ম্যাজিক' দেখাতে পেরেছিলেন। ভোজিনহা যেখানে ৪০, সেখানে রজার মিল্লা ৩৮! এমনকী, চুরানব্বই বিশ্বকাপে বিয়াল্লিশ বছর বয়সেও গোল করে নজির গড়েছিলেন।

১৯৮৮ সালেই বুটজোড়া তুলে রেখেছিলেন। কিন্তু অবসর ভেঙে ফিরে এলেন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন বলে। অথচ তিনি কিন্তু প্রধান স্ট্রাইকার ছিলেন না। 'সুপার সাব' হয়েই মাঠে নেমে গোল করতেন। একে একে সেবার তিনি চারটি গোল করেন। দলও পৌঁছায় শেষ আটে।

'ইটালিয়া ৯০'-তে ইতিহাস গড়ে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে শেষ আটে পৌঁছেছিল ক্যামেরুন। আর সেই জয়ের অন্যতম স্থপতি রজার মিল্লা। গোল করেই ছুটে যেতেন কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে। তারপর সামনে দাঁড়িয়ে নাচ! যার শুরুয়াৎ হয়েছিল প্রথম ম্যাচ থেকেই। ৮ জুন ১৯৯০। মিলানের সান সিরো স্টেডিয়ামে ক্যামেরুনের সামনে দিয়েগো মারাদোনার 'বিশ্বচ্যাম্পিয়ন' আর্জেন্টিনা। ফুটবলপ্রেমীদের সব নজর মারাদোনার দিকেই। কিন্তু আচমকাই সেদিন সমস্ত আলো কেড়ে নিয়েছিলেন রজার মিল্লাই! ম্যাচের ৬৭ মিনিটে দুরন্ত হেডে বল জড়িয়ে দিলেন আর্জেন্টিনার জালে! পরে তাঁর দলের দু'জন লাল কার্ড দেখে বেরিয়েও যান। তবু ৯ জনের ক্যামেরুন সেই ম্যাচ জিতে নেয় ১-০ গোলে। ম্যাচের সোনালি মুহূর্ত হয়ে থেকে গেল রজার মিল্লার নাচ!.

'ইটালিয়া ৯০'-তে ইতিহাস গড়ে আফ্রিকার প্রথম দেশ হিসেবে শেষ আটে পৌঁছেছিল ক্যামেরুন। আর সেই জয়ের অন্যতম স্থপতি রজার মিল্লা। গোল করেই ছুটে যেতেন কর্নার ফ্ল্যাগের দিকে। তারপর সামনে দাঁড়িয়ে নাচ!

একসময় ফ্রান্সের উপনিবেশ ছিল ক্যামেরুন। গত শতকের ছয়ের দশকে স্বাধীনতার অব্যবহিত পরেই ফিফার সদস্য দেশ হয় তারা। আর দুই দশকের মধ্যেই শুরু হয় বিশ্বকাপ অভিযান। ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপে একটিও ম্যাচে হারেনি ক্যামেরুন! বরং শক্তিশালী ইটালির সঙ্গেও ১-১ করেছিল নবাগত দেশটি। কিন্তু তাদের সেরা পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে ১৯৯০ বিশ্বকাপ। যার নিউক্লিয়াস ছিলেন রজার মিল্লাই। ১৯৮৮ সালেই বুটজোড়া তুলে রেখেছিলেন। কিন্তু অবসর ভেঙে ফিরে এলেন দেশের হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন বলে। অথচ তিনি কিন্তু প্রধান স্ট্রাইকার ছিলেন না। 'সুপার সাব' হয়েই মাঠে নেমে গোল করতেন। একে একে সেবার তিনি চারটি গোল করেন। দলও পৌঁছায় শেষ আটে।

দেখতে দেখতে পেরিয়ে গিয়েছে সাড়ে তিন দশক। ফের বিশ্বকাপের ডঙ্কা বেজেছে। নতুন প্রজন্মের মধ্যে নানা নাম, নানা রেকর্ড নিয়ে চর্চা! কিন্তু রজার মিল্লা আজ বিস্মৃত। তবে পুরনো পৃথিবীর মানুষদের স্মৃতিতে আজও উজ্জ্বল তিনি। ইউটিউবে সার্চ করে অনেকেই দেখে নিচ্ছেন সেই সব ফেলে আসা দিন। ইতিহাস লিখে গিয়েছেন কিংবদন্তি রজার মিল্লা! সেই ইতিহাসের পাতা আজও অক্ষয়!

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement