চার বছর আগে এই দিনেই (২২ জানুয়ারি) না ফেরার দেশে চলে গিয়েছিলেন কিংবদন্তি ফুটবলার-কোচ সুভাষ ভৌমিক। এমন এক শোকের দিনে চলে গেলেন আরও এক ফুটবলার, ইলিয়াস পাশা। বৃহস্পতিবার সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ইস্টবেঙ্গলের রক্ষণভাগের এক সময়কার স্তম্ভ। অনেকদিন ধরেই বার্ধক্যজনিত রোগে ভুগছিলেন তিনি। তাঁর মৃত্যুতে ময়দানে শোকের ছায়া।
আমেদ খান, অরুময় নৈগম, বাবু মানি, নারায়ণস্বামী উলগানাথন, কার্লটন চ্যাপম্যানের মতো রত্নদের ভারতীয় ফুটবলে উপহার দিয়েছে বেঙ্গালুরু। সেই তালিকায় আরও একজন ইলিয়াস পাশা। ১৯৮৯ সালে আইটিআই থেকে কলকাতার মহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবে যোগ দেন তিনি। রাইট সাইড ব্যাক পজিশনে খেলা এই ফুটবলার ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েছিলেন ঠিক এক বছর পরেই। গায়ে ওঠে ১৭ নম্বর জার্সি। ব্যস, আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
ডানপ্রান্ত দিয়ে পাশার ওভারল্যাপ ছিল বিপক্ষের ত্রাস। ন'টা বছর (১৯৯০-৯৮) ইস্টবেঙ্গলে চুটিয়ে খেলেছেন। দু'টো গোলও রয়েছে তাঁর নামের পাশে। তার মধ্যে একটা মোহনবাগানের বিরুদ্ধে। ১৯৯৬ সালে কলকাতা লিগে পেনাল্টি থেকে গোল করেছিলেন ইলিয়াস পাশা। সেই ডার্বি ১-১ গোলে ড্র হয়েছিল। সবুজ-মেরুনের হয়ে গোল করেছিলেন সত্যজিৎ চট্টোপাধ্যায়। ১৯৯৩ সালে লাল-হলুদের অধিনায়কত্বের ব্যাটন ওঠে পাশার মাথায়।
তাঁর নেতৃত্বে ইরাকের শক্তিশালী দল আল জাওরার বিরুদ্ধে ৬-২ গোলে জয় পায় ইস্টবেঙ্গল। ওই বছরেই মশাল বাহিনী কাঠমান্ডু থেকে জিতে ওয়াই ওয়াই কাপ। ইলিয়াস পাশা লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ক্লাবে থাকাকালীন ছ'বার কলকাতা লিগ, পাঁচ বার ডুরান্ড কাপ, দু'বার রোভার্স কাপ, চারবার এয়ার লাইন্স গোল্ড কাপ, একবার করে বরদলুই ট্রফি এবং ফেডারেশন কাপ জেতে ইস্টবেঙ্গল। বাংলার হয়ে সন্তোষ ট্রফিও জিতেছেন। ক্লাব ফুটবলে সফল হলেও দেশের জার্সিতে সেভাবে সফল নন। স্রেফ খেলবেন বলে চাকরির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। জীবনের শেষের দিকে আর্থিক সংকটে পড়েছিলেন। সেই সময় আর্থিকভাবে পাশে দাঁড়ায় ইস্টবেঙ্গল ক্লাব। পাশার মৃত্যুতে শোকস্তব্ধ লাল-হলুদ ক্লাব৷
