২০১৫-১৬ মরশুম। সবাইকে চমকে দিয়ে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল লেস্টার সিটি। আর ১০ বছর পর সেই লেস্টার সিটি নেমে গেল তৃতীয় ডিভিশনে। ২০২৪-২৫ সালে নেমে যায় দ্বিতীয় ডিভিশনে। এবার সেখান থেকেও পতন। হাল সিটির সঙ্গে ড্র করে তৃতীয় ডিভিশনে নেমে গেল বাংলাদেশের হামজা চৌধুরীর দল। সাম্প্রতিক সময়ে কোনও ক্লাবের এত বড় অধঃপতন দেখেনি ফুটবল বিশ্ব।
ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ডিভিশন অর্থাৎ ইএফএল চ্যাম্পিয়নশিপে লেস্টারের ম্যাচ ছিল হাল সিটির বিরুদ্ধে। যেখানে ম্যাচ শেষমেশ ২-২ গোলে ড্র হয়। হামজা চৌধুরীকে পরে নামিয়েও লাভ হয়নি। ৪৪ ম্যাচে লেস্টারের পয়েন্ট ৪২। বাকি দুটো ম্যাচ জিতলেও লাভ হবে না। ১০ বছর আগের রূপকথা থেকে একেবারে তৃতীয় পর্বে অবনমন। ঠিক কোথায় গন্ডগোল হল?
আগে রূপকথার গল্পটা বলা যাক। বছর দশেক আগে এই সময় চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অপেক্ষা করছিল লেস্টার। ২০১৪ সালে দ্বিতীয় ডিভিশন থেকে উঠে আসে জেমি ভার্ডির পুরনো দল। পরের বছর ১৪তম স্থানে শেষ করে। আর ২০১৬ সালে অবিশ্বাস্য সাফল্য। ক্লদিও রেনেরির দলে তখন চাঁদের হাট। কাসপার স্কিমিসেল, বেন চিলওয়েল, এনগোলো কন্তে, রিয়াদ মাহরেজরা প্রিমিয়ার লিগে রাজত্ব করেছিলেন। আর ২৪ গোলের অনন্য নজিরে তাক লাগিয়ে দিয়েছিলেন জেমি ভার্ডি। এরপর চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, ইউরোপা লিগ বা কনফারেন্স লিগে যথেষ্ট লড়াই করে লেস্টার। ইউসিএলের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত খেলেছিল।
কিন্তু কয়েকটা ঘটনা লেস্টারের সফরে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ২০১৮ সালে চেয়ারম্যান ভিচাই শ্রীবদ্ধনপ্রভা বিমান দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন। তাঁর মৃত্যু লেস্টারের কাছে বড় ধাক্কা ছিল। এরপর এল কোভিড। বিনিয়োগকারী সংস্থার ব্যবসার ক্ষতি হয়। নতুন ও সম্ভাবনাময় প্লেয়ার আসা কার্যত বন্ধ হয়ে যায়। তার মধ্যেও ২০২০-২১ সালে ইংল্যান্ডের ঐতিহ্যবাহী এফএ কাপ জেতে। কিন্তু ২০২২-২৩ সালে ধারাবাহিক হার, ক্রমাগত কোচ বদলের পর প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমন হয়ে যায় লেস্টার। পরের বছর জেমি ভার্ডিরা ফের ইংল্যান্ডের সেরা লিগে ফিরে আসেন। কিন্তু ২০২৫ সালে ফের দ্বিতীয় ডিভিশনে! আর ঠিক একবছরের মধ্যে তৃতীয় ডিভিশনে। ভুল দল পরিচালনা, ব্যাঙ্কের ঋণ, ক্লাবে ভুল বোঝাবুঝি- সব মিলিয়ে দশ বছরের মধ্যে এক রূপকথার মৃত্যু দেখল ফুটবল বিশ্ব।
