গরম মানেই শুধু রোদ আর ঘাম নয়, এই সময়ও অনেকের হাঁচি, নাক দিয়ে জল পড়া, গলা খুসখুস, মাথাব্যথার মতো সমস্যা দেখা দেয়। অনেকেই একে ভাবেন 'সামার কোল্ড', কিন্তু সব ক্ষেত্রে তা সাধারণ সর্দি নয়। চিকিৎসকদের মতে, ভাইরাসঘটিত সংক্রমণ, সাইনাসের সমস্যা আর অ্যালার্জি, এই তিনের লক্ষণ অনেক সময় একসঙ্গে মিশে যায়, ফলে তৈরি হয় বিভ্রান্তি।
শুধু ঠান্ডায় নয়, গরমেও হতে পারে সর্দি-হাঁচি। ছবি: সংগৃহীত
গরমে এই উপসর্গ কেন বাড়ে?
গরমে হঠাৎ তাপমাত্রা পরিবর্তন, বাইরের প্রচণ্ড গরম থেকে সরাসরি ঠান্ডা এসিতে ঢোকা, শ্বাসনালীকে সংবেদনশীল করে তোলে। পাশাপাশি ধুলো, পরাগরেণু, দূষণ বাড়ায় অ্যালার্জির প্রবণতাও বাড়ে। এর সঙ্গে ভিড় জায়গায় ভাইরাসের সংক্রমণ যোগ হলে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে।
সর্দি, সাইনাস আর অ্যালার্জি- কীভাবে আলাদা করবেন?
ভাইরাসের কারণে সর্দি: সাধারণত কয়েক দিনের মধ্যে সেরে যায়, সঙ্গে হালকা জ্বর থাকতে পারে।
অ্যালার্জি: বারবার হাঁচি, চোখ চুলকানো, জল পড়া, তবে জ্বর থাকে না।
সাইনাসের সমস্যা: মাথাব্যথা, নাক বন্ধ হয়ে থাকা।
শরীরে জলের ঘাটতি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
চিকিৎসকদের মতে, গরমে শরীর ডিহাইড্রেটেড হলে নাকের ভেতরের শ্লেষ্মা শুকিয়ে যায়। ফলে ধুলো, জীবাণু সহজে ঢুকে পড়ে এবং সংক্রমণ বা অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে। তাই পর্যাপ্ত জলপান খুব জরুরি।
গরমে ভোগায় মাথাব্যথা। ছবি: সংগৃহীত
প্রতিরোধ কী করণীয়?
- সারাদিনে পর্যাপ্ত জলপান করুন
- এসির ঠান্ডা হাওয়া সরাসরি শরীরে লাগতে দেবেন না
- নিয়মিত এসি ও কুলারের ফিল্টার পরিষ্কার রাখুন
- ধুলোবালি এড়াতে মাস্ক ব্যবহার করুন
- পুষ্টিকর খাবার খান ও হাত পরিষ্কার রাখুন
দ্রুত সেরে উঠতে কী করবেন?
চিকিৎসকদের পরামর্শ-
ভাইরাল সর্দি হলে: বিশ্রাম, গরম ভাপ নেওয়া, পর্যাপ্ত জলপান।
অ্যালার্জি হলে: ট্রিগার এড়ানো, প্রয়োজনে অ্যান্টি-হিস্টামিন বা অ্যান্টি-অ্যালার্জি ওষুধ।
সাইনাস হলে: নুনজল স্প্রে, ভাপ নেওয়া, চিকিৎসকের পরামর্শে ওষুধ।
জরুরি পর্যাপ্ত জলপান। ছবি: সংগৃহীত
কী করবেন না?
- অকারণে অ্যান্টিবায়োটিক খাবেন না, ভাইরাল সংক্রমণে এগুলো কাজ করে না।
- নাক খোলার স্প্রে বেশি ব্যবহার করবেন না, উলটে সমস্যা বাড়তে পারে।
- নিজের মতো করে দীর্ঘদিন ওষুধ খাওয়া এড়িয়ে চলুন
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি উপসর্গ কয়েক দিনের বেশি থাকে, খুব বেশি জ্বর, তীব্র মাথাব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হয়, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন, বিশেষ করে বয়স্ক বা আগে থেকে কোনও ক্রনিক ডিজিজ থাকলে।
গরমে এ ধরনের সমস্যা অস্বাভাবিক নয়। তবে সঠিক কারণ বুঝে সচেতনভাবে ব্যবস্থা নিলে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দ্রুত সুস্থতা সম্ভব।
