shono
Advertisement
Mohun Bagan vs East Bengal

গোল মিসের প্রতিযোগিতা, ভূরি ভূরি মিস পাস, রক্ষণের ফাঁক, 'লিগ নির্ণায়ক' ডার্বিতে একগুচ্ছ হতাশা

লিগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে জিততেই হবে। কমবেশি এই ছিল দুই প্রধানের সমীকরণ। মিসগুলি না হলে হয়তো আরও উপভোগ্য হত বাঙাল-ঘটির চিরন্তন লড়াই।
Published By: Subhajit MandalPosted: 10:16 PM May 17, 2026Updated: 01:31 PM May 18, 2026

ইস্টবেঙ্গল (East Bengal): ১ (এডমুন্ড) মোহনবাগান (Mohun Bagan): ১ (কামিন্স)
সদ্যপ্রয়াত মোহনবাগান রত্ন টুটু বোসকে শ্রদ্ধা জানানোর ডার্বি। সেই ডার্বিতে দু'দল যেন শুধু সৌহার্দ্য দেখাতেই এসেছিল। দেখে মনে হল, জেতার বিন্দুমাত্র ইচ্ছাই যেন ছিল না কোনও শিবিরের! ভূরি ভূরি সুযোগ নষ্ট, মিস পাস, বিশ্রী ডিফেন্ডিংয়ের মাঝে অনবদ্য গোলকিপিং। সব মিলিয়ে 'ডু অর ডাই' ডার্বি ড্র। 'খারাপ' ফুটবলের প্রদর্শনীতে খানিকটা হয়তো স্বস্তি নিয়ে ঘরে ফিরবে ইস্টবেঙ্গল। কিন্তু সব মিলিয়ে এই ডার্বি স্মরণীয় হয়ে থাকবে শুধু গোল মিসের জন্য।

Advertisement

লিগের লড়াইয়ে টিকে থাকতে জিততেই হবে। কমবেশি এই ছিল দুই প্রধানের সমীকরণ। সেই সমীকরণ মাথায় রেখেই খেলতে নেমেছিল দুই প্রধান। মোহনবাগানের জেতার প্রয়োজন এবং ইচ্ছা দু'টোই খানিকটা বেশি ছিল। আর সেটা শুরুর দিকে খেলায় বোঝাও যাচ্ছিল। মনবীর সিং-লিস্টন কোলাসোরা শুরু থেকেই দুই উইং দিয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণ শানাচ্ছিলেন। কিন্তু এই মরশুমে মোহনবাগানের যে দোষটা সবচেয়ে বেশি তাড়া করেছে, সেই ফাইনাল থার্ডে ব্যর্থতা, সেটা এদিন যেন আরও বেশি করে চোখে পড়ছিল। এদিকে সবুজ-মেরুন রক্ষণ শুরু থেকেই যেন গড়ের মাঠের মতো খেলেছে। যার সুযোগ নিয়ে অন্তত বার তিনেক গোলের একেবারে কাছাকাছি চলে এসেছিল লাল-হলুদ শিবির।

ম্যাচের মিনিট ১৩। বা প্রান্ত থেকে প্রায় ফাঁকা মাঠে দুর্দান্ত পাস বাড়িয়েছিলেন বিপিন। অ্যান্টনের শট ভাগ্যক্রমে বারপোস্টে লেগে ফিরে যায়। মিনিট কয়েক বাদে ফের সুযোগ পেয়েছিলেন বিপিন। আবারও বাঁ প্রান্ত পুরো ফাঁকা করে উপরে উঠে যান মোহনবাগান অধিনায়ক শুভাশিস। সুযোগ নিয়ে সোজা বক্সে ঢুকে যান বিপিন। কিন্তু আবারও সেই বিশ্রী মিস। যেন সোজা গিয়ে বিশাল কাইথের হাতে বল শপে দিয়ে এলেন তিনি। সেই একই কাজ ম্যাচের ২৪ মিনিটে করলেন সোয়বার্গ। মিগুয়েলের পাস থেকে ফাঁকা গোলের সামনে চলে আসেন সোয়বার্গ। কিন্তু বল ঠিকভাবে রিসিভই করতে পারলেন না। সেই ফাঁকে মোহনবাগানের গোলকিপার বিশাল এসে বল উদ্ধার করে নেন। ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় ম্যাচে এই ধরনের গোল কীভাবে মিস হয়, সে উত্তর সোয়াবার্গরাই দিতে পারবেন।

ম্যাচ শেষের হতাশা। ফাইল ছবি।

ইস্টবেঙ্গল মিস করলে মোহনবাগান পিছিয়ে থাকে কেন? গোল মিসের নিরিখে শুরুর দিকে পিছিয়ে থাকলেও প্রথমার্ধের শেষের দিকে গোল মিসের বন্যায় নাম লেখান মনবীর। দ্বিতিয়ার্ধের শুরু থেকেও বেশি আক্রমণাত্মক ছিল মোহনবাগান। যেমনটা ছিল সুযোগ নষ্টের বহরও। কখনও অভি মিতেইয়ের মিস, কখনও ম্যাকলারেনের সহজ বল রিসিভ করতে না পারা, কখনও মনবীর-সাহালদের ভালো জায়গা থেকে বল গোলে রাখতে না পারা, কখনও লিস্টনের দুর্দান্ত ড্রিবলের পর বল সঠিকভাবে মাইনাস করতে না পারা। দ্বিতীয়ার্ধের বেশিরভাগ সময়টা যেন এসবই চলল। মাঝে মাঝে ভালো সুযোগ পেয়েছিল ইস্টবেঙ্গলও। সেসব সুযোগের বেশিরভাগ এসেছিল সবুজ-মেরুন রক্ষণের ভুলে। কিন্তু সেই ভুলের সুযোগ ইস্টবেঙ্গল কাজে লাগাল কই।

গোল মিসের প্রতিযোগিতা ডার্বিতে। নিজস্ব চিত্র।

লিগ জয়ের জন্য ম্যাচ যেহেতু জিততেই হত, তাই শেষদিকে রক্ষণ থেকে সব বিদেশি তুলে নিয়ে রবসন, ম্যাকলারেন, কামিন্স, দিমি চার বিদেশি আক্রমণ ভাগের ফুটবলারকেই নামিয়ে দেন সবুজ-মেরুন কোচ সের্জিও লোবেরা। তাতে মোহনবাগানের আলগা রক্ষণ আরও আলগা হয়ে গেল। সুযোগ বুঝে ৮৪ মিনিটে এডমুন্ড লালরিন্ডিকা ভালো একটি গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে এগিয়ে দিয়ে গেলেন। সেসময় ম্যাচ কার্যত ইস্টবেঙ্গলের হাতে ছিল। কিন্তু সেটা তারা ধরে রাখতে পারলেন না। কয়েক মিনিটের মধ্যে গোল শোধ। এবার কামিন্সের ভালো হেডার।

গোটা ম্যাচে ওই ১০-১৫ মিনিট বাদ দিলে সেভাবে ভালো ফুটবল উপহার পেলেন না সমর্থকরা।  হ্যাঁ, এ কথা ঠিক যে দুই দল প্রচুর সুযোগ তৈরি করেছে, ফুটবলের ভাষায় যাকে বলা হয় এন্ড-টু-এন্ড খেলা সেটাও হয়েছে। কিন্তু লিগ নির্ণায়ক ডার্বিতে সেসব ছাপিয়ে গেল ভূরি ভূরি মিস পাস, রক্ষণের ফাঁকফোঁকর এবং অবশ্যই গোল মিস। মিসগুলি না হলে হয়তো আরও উপভোগ্য হত বাঙাল-ঘটির চিরন্তন লড়াই।

Sangbad Pratidin News App

খবরের টাটকা আপডেট পেতে ডাউনলোড করুন সংবাদ প্রতিদিন অ্যাপ

হাইলাইটস

Highlights Heading
Advertisement